Table of Contents
সেদিন প্রেম কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | হে যক্ষ, সেদিন প্রেম (৩৯ সংখ্যক কবিতা) |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শেষ সপ্তক |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৫ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আধুনিক গদ্যকবিতা ও ক্লাসিক্যাল বিরহভাবাশ্রিত নন্দনতাত্ত্বিক লিরিক (Aesthetic Prose Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সেদিন প্রেম সম্পূর্ণ কবিতা:
হে যক্ষ, সেদিন প্রেম তোমাদের
বৃদ্ধ ছিল আপনাতেই
পদ্মকুঁড়ির মতো।
সেদিন সংকীর্ণ সংসারে
একান্তে ছিল তোমার প্রেয়সী
যুগলের নির্জন উৎসবে,
সে ঢাকা ছিল তোমার আপনাকে দিয়ে,
শ্রাবণের মেঘমালা
যেমন হারিয়ে ফেলে চাঁদকে
আপনারি আলিঙ্গনের
আচ্ছাদনে।
এমন সময়ে প্রভুর শাপ এল
বর হয়ে,
কাছে থাকার বেড়া-জাল গেল ছিঁড়ে।
খুলে গেল প্রেমের আপনাতে-বাঁধা
পাপড়িগুলি,
সে-প্রেম নিজের পূর্ণ রূপের দেখা পেল
বিশ্বের মাঝখানে।
বৃষ্টির জলে ভিজে’ সন্ধ্যাবেলাকার জুঁই
তাকে দিল গন্ধের অঞ্জলি।
রেণুর ভারে মন্থর বাতাস
তাকে জানিয়ে দিল
নীপ-নিকুঞ্জের আকুতি।
সেদিন অশ্রুধৌত সৌম্য বিষাদের
দীক্ষা পেলে তুমি;
নিজের অন্তর-আঙিনায়
গড়ে তুললে অপূর্ব মূর্তিখানি
স্বর্গীয় গরিমায় কান্তিমতী।
যে ছিল নিভৃত ঘরের সঙ্গিনী
তার রসরূপটিকে আসন দিলে
অনন্তের আনন্দমন্দিরে
ছন্দের শঙ্খ বাজিয়ে।
আজ তোমার প্রেম পেয়েছে ভাষা,
আজ তুমি হয়েছ কবি,
ধ্যানোদ্ভবা প্রিয়া
বক্ষ ছেড়ে বসেছে তোমার মর্মতলে
বিরহের বীণা হাতে।
আজ সে তোমার আপন সৃষ্টি
বিশ্বের কাছে উৎসর্গ-করা।
সেদিন প্রেম সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- সান্নিধ্যের সীমাবদ্ধতা ও মেঘের আচ্ছাদন:“সেদিন সংকীর্ণ সংসারে / একান্তে ছিল তোমার প্রেয়সী / যুগলের নির্জন উৎসবে, / সে ঢাকা ছিল তোমার আপনাকে দিয়ে, / শ্রাবণের মেঘমালা / যেমন হারিয়ে ফেলে চাঁদকে / আপনারি আলিঙ্গনের / আচ্ছাদনে।”— মিলনের অতি-সান্নিধ্যে প্রেম কেবল নিজেদের মধ্যেই বন্দি থাকে। মেঘ যেমন অতিরিক্ত আলিঙ্গনে চাঁদের কিরণকে ঢেকে ফেলে, তেমনি অহং ও উপস্থিতির বেড়াজালে প্রেমের বিশ্বরূপটি আড়াল হয়ে থাকে।
- শাপের বর ও প্রেমের প্রস্ফুটন:“এমন সময়ে প্রভুর শাপ এল / বর হয়ে, / কাছে থাকার বেড়া-জাল গেল ছিঁড়ে। / খুলে গেল প্রেমের আপনাতে-বাঁধা / পাপড়িগুলি,”— কুবেরের নির্বাসন-শাপ যক্ষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিল। শারীরিক উপস্থিতির মায়াজাল ছিন্ন হতেই আত্মকেন্দ্রিক কুঁড়িটি পাপড়ি মেলে বিশ্বের আঙিনায় বিকশিত হলো; বৃষ্টির গন্ধ ও কদম্বের ব্যাকুলতা তখন প্রেমিকের অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে উঠল।
- বিরহের দীক্ষা ও শিল্পের সৃষ্টি:“যে ছিল নিভৃত ঘরের সঙ্গিনী / তার রসরূপটিকে আসন দিলে / অনন্তের আনন্দমন্দিরে / ছন্দের শঙ্খ বাজিয়ে। / আজ তোমার প্রেম পেয়েছে ভাষা, / আজ তুমি হয়েছ কবি,”— বিচ্ছেদের পবিত্র বেদনাই যক্ষকে এক প্রেমিক থেকে চিরন্তন স্রষ্টা বা ‘কবি’তে উন্নীত করেছে। রক্তমাংসের সাধারণ ঘরের নারী তখন ধ্যানলব্ধা হয়ে অন্তরের বীণাপাণি রূপ ধারণ করেছে, যা আর কোনো একক ব্যক্তির নয়—বরং সমগ্র বিশ্বের চিরন্তন রসসম্পদ।




![ওরা এসে আমাকে বলে ora ese amake bole [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 ওরা এসে আমাকে বলে ora ese amake bole [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ওরা-এসে-আমাকে-বলে-ora-ese-amake-bole-কবিতা--1024x536.gif)
![বকুল-বনের পাখি bokul boner pakhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বকুল-বনের পাখি bokul boner pakhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/বকুল-বনের-পাখি-bokul-boner-pakhi-কবিতা--1024x536.gif)
![কল্পনার সাথি kolponar sathi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কল্পনার সাথি kolponar sathi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/কল্পনার-সাথি-kolponar-sathi-কবিতা--1024x536.gif)