আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

সাগরিকা sagorika [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

সাগরিকা sagorika [ কবিতা ]

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : মহুয়া [ ১৯২৯ ]

কবিতার শিরোনামঃ সাগরিকা

সাগরিকা sagorika [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সাগরজলে সিনান করি সজল এলোচুলে

       বসিয়াছিল উপল-উপকূলে।

              শিথিল পীতবাস

মাটির ‘পরে কুটিলরেখা লুটিল চারি পাশ।

নিরাবরণ বক্ষে তব, নিরাভরণ দেহে

চিকন সোনা-লিখন উষা আঁকিয়া দিল স্নেহে।

মকরচূড় মুকুটখানি পরি ললাট-‘পরে

       ধনুকবাণ ধরি দখিন করে,

              দাঁড়ানু রাজবেশী–

       কহিনু, “আমি এসেছি পরদেশী।’

চমকি ত্রাসে দাঁড়ালে উঠি শিলা-আসন ফেলে,

       শুধালে, “কেন এলে।’

       কহিনু আমি, “রেখো না ভয় মনে,

পূজার ফুল তুলিতে চাহি তোমার ফুলবনে।’

       চলিলে সাথে হাসিলে অনুকূল,

তুলিনু যূথী, তুলিনু জাতী, তুলিনু চাঁপাফুল।

দুজনে মিলি সাজায়ে ডালি বসিনু একাসনে,

          নটরাজেরে পূজিনু একমনে।

কুহেলি গেল, আকাশে আলো দিল-যে পরকাশি

          ধূর্জটির মুখের পানে পার্বতীর হাসি।

সন্ধ্যাতারা উঠিল যবে গিরিশিখর-‘পরে

          একেলা ছিলে ঘরে।

কটিতে ছিল নীল দুকূল, মালতীমালা মাথে,

          কাঁকন দুটি ছিল দুখানি হাতে।

          চলিতে পথে বাজায় দিনু বাঁশি,

          “অতিথি আমি’, কহিনু দ্বারে আসি।

তরাসভরে চকিতকরে প্রদীপখানি জ্বেলে

          চাহিলে মুখে, কহিলে, “কেন এলে।’

          কহিনু আমি, “রেখো না ভয় মনে,

তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।’

          চাহিলে হাসিমুখে,

আধোচাঁদের কনকমালা দোলানু তব বুকে।

মকরচূড় মুকুটখানি কবরী তব ঘিরে

          পরায়ে দিনু শিরে।

          জ্বালায়ে বাতি মাতিল সখীদল,

তোমার দেহে রতনসাজ করিল ঝলমল।

মধুর হল বিধুর হল মাধবী নিশীথিনী,

আমার তালে আমার নাচে মিলিল রিনিঝিনি।

          পূর্ণচাঁদ হাসে আকাশ-কোলে,

আলোকছায়া শিবশিবানী সাগরজলে দোলে।

          ফুরাল দিন কখন নাহি জানি,

সন্ধ্যাবেলা ভাসিল জলে আবার তরীখানি।

          সহসা বায়ু বহিল প্রতিকূলে,

প্রলয় এল সাগরতলে দারুণ ঢেউ তুলে।

লবণজলে ভরি

আঁধার রাতে ডুবাল মোর রতনভরা তরী।

আবার ভাঙা ভাগ্য নিয়ে দাঁড়ানু দ্বারে এসে

          ভূষণহীন মলিন দীন বেশে।

দেখিনু আমি নটরাজের দেউলদ্বার খুলি

তেমনি করে রয়েছে ভরে ডালিতে ফুলগুলি।

     হেরিনু রাতে, উতল উৎসবে

          তরল কলরবে

আলোর নাচ নাচায় চাঁদ সাগরজলে যবে,

     নীরব তব নম্র নত মুখে

আমারি আঁকা পত্রলেখা, আমারি মালা বুকে।

     দেখিনু চুপে চুপে

আমারি বাঁধা মৃদঙ্গের ছন্দ রূপে রূপে

     অঙ্গে তব হিল্লোলিয়া দোলে

     ললিতগীতকলিত কল্লোলে।

     মিনতি মম শুন হে সুন্দরী,

আরেক বার সমুখে এসো প্রদীপখানি ধরি।

এবার মোর মকরচূড় মুকুট নাহি মাথে,

     ধনুকবাণ নাহি আমার হাতে;

এবার আমি আনি নি ডালি দখিন সমীরণে

     সাগরকূলে তোমরা ফুলবনে।

          এনেছি শুধু বীণা,

দেখো তো চেয়ে আমারে তুমি চিনিতে পার কি না।

 

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত