আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

ভীষণ কবিতা | bhishon kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

ভীষণ কবিতাটি [ bhishon kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

ভীষণ bhishon

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ ভীষণ bhishon

 

ভীষণ কবিতা | bhishon kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

বনস্পতি, তুমি যে ভীষণ

               ক্ষণে ক্ষণে আজিও তা মানে মোর মন।

প্রকাণ্ড মাহাত্ম্যবলে জেনেছিলে ধরা একদিন

যে আদি অরণ্যযুগে, আজি তাহা ক্ষীণ।

মানুষের-বশ-মানা এই-যে তোমায় আজ দেখি,

          তোমার আপন রূপ এ কি?

     আমার বিধান দিয়ে বেঁধেছি তোমারে

          আমার বাসার চারি ধারে।

               ছায়া তব রেখেছি সংযমে।

          দাঁড়ায়ে রয়েছ স্তব্ধ জনতাসংগমে

               হাটের পথের ধারে।

                   নম্র পত্রভারে

               কিংকরের মতো

          আছ মোর বিলাসের অনুগত।

                             লীলাকাননের মাপে

                   তোমারে করেছি খর্ব। মৃদু কলালাপে

                             কর চিত্তবিনোদন,

                     এ ভাষা কি তোমার আপন?

                   একদিন এসেছিলে আদিবনভূমে;

                             জীবলোক মগ্ন ঘুমে–

                                  তখনো মেলে নি চোখ,

                                      দেখে নি আলোক।

 

                   সমুদ্রের তীরে তীরে শাখায় মিলায়ে শাখা

                             ধরার কঙ্কাল দিলে ঢাকা।

                   ছায়ায় বুনিয়া ছায়া স্তরে স্তরে

               সবুজ মেঘের মতো ব্যাপ্ত হলে দিকে দিগন্তরে।

          লতায় গুল্মেতে ঘন, মৃতগাছ-শুষ্কপাতা-ভরা,

                   আলোহীন পথহীন ধরা।

               অরণ্যের আর্দ্র গন্ধে নিবিড় বাতাস

                   যেন রুদ্ধশ্বাস

                             চলিতে না পারে।

                   সিন্ধুর তরঙ্গধ্বনি অন্ধকারে

               গুমরিয়া উঠিতেছে জনশূন্য বিশ্বের বিলাপে।

                   ভূমিকম্পে বনস্থলী কাঁপে;

                        প্রচণ্ড নির্ঘোষে

               বহু তরুভার বহি বহুদূর মাটি যায় ধ্বসে

                        গভীর পঙ্কের তলে।

     সেদিনের অন্ধযুগে পীড়িত সে জলে স্থলে

               তুমি তুলেছিলে মাথা।

          বলিতে বল্কলে তব গাঁথা

                   সে ভীষণ যুগের আভাস।

                        যেথা তব আদিবাস

                   সে অরণ্যে একদিন মানুষ পশিল যবে

          দেখা দিয়েছিলে তুমি ভীতিরূপে তার অনুভবে।

               হে তুমি অমিত-আয়ু, তোমার উদ্দেশে

                   স্তবগান করেছে সে।

               বাঁকাচোরা শাখা তব কত কী সংকেতে

                   অন্ধকারে শঙ্কা রেখেছিল পেতে।

               বিকৃত বিরূপ মূর্তি মনে মনে দেখেছিল তারা

                        তোমার দুর্গমে দিশাহারা।

                   আদিম সে আরণ্যক ভয়

          রক্তে নিয়ে এসেছিনু আজিও সে কথা মনে হয়।

               বটের জটিল মূল আঁকাবাঁকা নেমে গেছে জলে–

                   মসীকৃষ্ণ ছায়াতলে

     দৃষ্টি মোর চলে যেত ভয়ের কৌতুকে,

          দুরু দুরু বুকে

        ফিরাতেম নয়ন তখনই।

     যে মূর্তি দেখেছি সেথা, শুনেছি যে ধ্বনি

                   সে তো নহে আজিকার।

          বহু লক্ষ বর্ষ আগে সৃষ্টি সে তোমার।

                   হে ভীষণ বনস্পতি,

                        সেদিন যে নতি

                   মন্ত্র পড়ি দিয়েছি তোমারে,

     আমার চৈতন্যতলে আজিও তা আছে এক ধারে।

আরও দেখুনঃ 

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত