আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

পদধ্বনি pododhwoni [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

পদধ্বনি

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পূরবী [ ১৯২৫ ]

কবিতার শিরনামঃ পদধ্বনি

পদধ্বনি pododhwoni [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

        আঁধারে প্রচ্ছন্ন ঘন বনে

                  আশঙ্কার পরশনে

        হরিণের থরথর হৃৎপিণ্ড যেমন–

                সেইমতো রাত্রি দ্বিপ্রহরে

                     শয্যা মোর ক্ষণতরে

                            সহসা কাঁপিল অকারণ।

           পদ’ধ্বনি, কার পদ’ধ্বনি

                  শুনিনু তখনি।

        মোর জন্মনক্ষত্রের অদৃশ্য জগতে

মোর ভাগ্য মোর তরে বার্তা লয়ে ফিরিছে কি পথে।

           প’দধ্বনি, কার পদ’ধ্বনি।

অজানার যাত্রী কে গো। ভয়ে কেঁপে উঠিল ধরণী।

        এই কি নির্মম সেই যে আপন চরণের তলে

                পদে পদে চিরদিন

                     উদাসীন

                পিছনের পথ মুছে চলে।

        এ কি সেই নিত্যশিশু, কিছু নাহি চাহে–

                নিজের খেলেনা চূর্ণ

                   ভাসাইছে অসম্পূর্ণ

                          খেলার প্রবাহে?

                ভাঙিয়া স্বপ্নের ঘোর,

                     ছিঁড়ি মোর

                শয্যায় বন্ধনমোহ, এ রাত্রিবেলায়

মোরে কি করিবে সঙ্গী প্রলয়ের ভাসান-খেলায়।

 

                  হোক তাই–

               ভয় নাই, ভয় নাই,

           এ খেলা খেলেছি বারম্বার

                   জীবনে আমার ।

           জানি জানি– ভাঙিয়া নূতন করে তোলা,

ভুলায়ে পূর্বের পথ অপূর্বের পথে দ্বার খোলা,

                  বাঁধন গিয়েছে যবে চুকে

            তারি ছিন্ন রশিগুলি কুড়ায়ে কৌতুকে

বার বার গাঁথা হল দোলা।

      নিয়ে যত মুহূর্তের ভোলা

             চিরস্মরণের ধন

      গোপনে হয়েছে আয়োজন।

পদ’ধ্বনি, কার পদ’ধ্বনি

      চিরদিন শুনেছি এমনি

        বারে বারে।

      একি বাজে মৃত্যুসিন্ধুপারে।

    একি মোর আপন বক্ষেতে।

ডাকে মোরে ক্ষণে ক্ষণে কিসের সংকেতে।

    তবে কি হবেই যেতে।

        সব বন্ধ করিব ছেদন?

ওগো কোন্‌ বন্ধু তুমি, কোন্‌ সঙ্গী দিতেছ বেদন

        বিচ্ছেদের তীর হতে।

      তরী কি ভাসাব স্রোতে।

             হে বিরহী,

      আমার অন্তরে দাও কহি

        ডাকো মোরে কী খেলা খেলাতে

             আতঙ্কিত নিশীথবেলাতে?

      বারে বারে দিয়েছ নিঃসঙ্গ করি–

এ শূন্য প্রাণের পাত্র কোন্‌ সঙ্গসুধা দিয়ে ভরি

        তুলে নেবে মিলন-উৎসবে।

      সূর্যাস্তের পথ দিয়ে যবে

  সন্ধ্যাতারা উঠে আসে নক্ষত্রসভায়,

        প্রহর না যেতে যেতে

             কী সংকেতে

সব সঙ্গ ফেলে রেখে অস্তপথে ফিরে চলে যায়।

             সেও কি এমনি

                   শোনে পদ’ধ্বনি।

তারে কি বিরহী

    বলে কিছু দিগন্তের অন্তরালে রহি।

 

        পদ’ধ্বনি, কার পদধ্ব’নি।

                  দিনশেষে

        কম্পিত বক্ষের মাঝে এসে

     কী শব্দে ডাকিছে কোন্‌ অজানা রজনী।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত