Table of Contents
দূর কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | দূর |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শিশু ভোলানাথ |
| প্রকাশের বছর | ১৯২২ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | শিশুতোষ ও দার্শনিক কবিতা (Children’s & Philosophical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
দূর (সম্পূর্ণ কবিতা):
পুজোর ছুটি আসে যখন
বকসারেতে যাবার পথে–
দূ’রের দেশে যাচ্ছি ভেবে
ঘুম হয় না কোনো মতে।
সেখানে যেই নতুন বাসায়
হপ্তা দুয়েক খেলায় কাটে
দূ’র কি আবার পালিয়ে আসে
আমাদেরি বাড়ির ঘাটে!
দূ’রের সঙ্গে কাছের কেবল
কেনই যে এই লুকোচুরি,
দূ’র কেন যে করে এমন
দিনরাত্তির ঘোরাঘুরি।
আমরা যেমন ছুটি হলে
ঘরবাড়ি সব ফেলে রেখে
রেলে চড়ে পশ্চিমে যাই
বেরিয়ে পড়ি দেশের থেকে,
তেমনিতরো সকালবেলা
ছুটিয়ে আলো আকাশেতে
রাতের থেকে দিন যে বেরোয়
দূ’রকে বুঝি খুঁজে পেতে?
সে-ও তো যায় পশ্চিমেতেই,
ঘুরে ঘুরে সন্ধ্যে হলে,
তখন থেকে রাতের মাঝেই
দূ’র সে আবার গেছে চলে।
সবাই যেন পলাতকা
মন টেকে না কাছের বাসায়।
দলে দলে পলে পলে
কেবল চলে দূ’রের আশায়।
পাতায় পাতায় পায়ের ধ্বনি,
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডাকাডাকি,
হাওয়ায় হাওয়ায় যাওয়ার বাঁশি
কেবল বাজে থাকি থাকি।
আমায় এরা যেতে বলে,
যদি বা যাই, জানি তবে
দূ’রকে খুঁজে খুঁজে শেষে
মায়ের কাছেই ফিরতে হবে।
দূর কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- দূর ও নিকটের লুকোচুরি:“সেখানে যেই নতুন বাসায় / হপ্তা দুয়েক খেলায় কাটে / দূ’র কি আবার পালিয়ে আসে / আমাদেরি বাড়ির ঘাটে!”— দূরে যাওয়ার আনন্দে ঘুমহীন এক শিশু দেখতে পায়, দূরে গিয়ে কয়েক দিন কাটানোর পর সেই দূর জায়গাটিও পরিচিত আর ‘কাছের’ হয়ে যায়; উল্টো ফেলে আসা ঘরের চেনা ঘাটটি তখন ‘দূর’ হয়ে ধরা দেয়। দূরত্ব যে কেবল মনের দেখার ভঙ্গি, শিশুর ভাবনায় তা স্পষ্ট।
- প্রকৃতির চিরন্তন পরিব্রাজক রূপ:“তেমনিতরো সকালবেলা / ছুটিয়ে আলো আকাশেতে / রাতের থেকে দিন যে বেরোয় / দূ’রকে বুঝি খুঁজে পেতে?”— শিশুটি সূর্যের উদয় ও অস্তের মাঝেও নিজের ভ্রমণের প্রতিচ্ছবি দেখে। সকালের আলো যেমন দিনভর ছুটে গিয়ে সন্ধ্যায় পশ্চিমে হারিয়ে যায়, তেমনি জগতের সবকিছুই যেন অজানার উদ্দেশ্যে অনন্ত এক যাত্রায় মগ্ন।
- চূড়ান্ত আশ্রয় মাতৃক্রোড়:“আমায় এরা যেতে বলে, / যদি বা যাই, জানি তবে / দূ’রকে খুঁজে খুঁজে শেষে / মায়ের কাছেই ফিরতে হবে।”— প্রকৃতি, বাতাস আর নদীর ঢেউ যতই অজানায় চলে যাওয়ার ডাক দিক না কেন, দিনশেষে শিশুর একমাত্র পরম নিরাপদ ঠিকানা হলো মায়ের কোল। সমস্ত বৈশ্বিক অন্বেষণের পর মায়ের কাছে ফিরে আসাই জীবনের পরম শান্তি।