Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | হারিয়ে-যাওয়া |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পলাতকা |
| প্রকাশের বছর | ১৯১৮ (১৩২৫ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আখ্যানমূলক মনস্তাত্ত্বিক ও মহাজাগতিক লিরিক (Cosmic Allegorical Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
ছোট্ট আমার মেয়ে
সঙ্গিনীদের ডাক শুনতে পেয়ে
সিঁড়ি দিয়ে নিচের তলায় যাচ্ছিল সে নেমে
অন্ধকারে ভয়ে ভয়ে থেমে থেমে।
হাতে ছিল প্রদীপখানি,
আঁচল দিয়ে আড়াল ক’রে চলছিল সাবধানী।
আমি ছিলাম ছাতে
তারায় ভরা চৈত্রমাসের রাতে।
হঠাৎ মেয়ের কান্না শুনে, উঠে
দেখতে গেলেম ছুটে।
সিঁড়ির মধ্যে যেতে যেতে
প্রদীপটা তার নিবে গেছে বাতাসেতে।
শুধাই তারে, “কী হয়েছে, বামী।”
সে কেঁদে কয় নিচে থেকে, “হারিয়ে গেছি আমি।”
তারায় ভরা চৈত্রমাসের রাতে
ফিরে গিয়ে ছাতে
মনে হল আকাশপানে চেয়ে
আমার বামীর মতোই যেন অমনি কে এক মেয়ে
নীলাম্বরের আঁচল্খানি ঘিরে
দীপশিখাটি বাঁচিয়ে একা চলছে ধীরে ধীরে।
নিবত যদি আলো, যদি হঠাৎ যেত থামি
আকাশ ভরে উঠত কেঁদে, “হারিয়ে গেছি আমি।”

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
Chhotto amar meye
Shongginider dak shunte peye
Shinri diye nicher tolay jachchhilo she neme
Ondhokare bhoye bhoye theme theme.
Hate chhilo prodipkhani,
Anchol diye aral ko're cholchhilo shabdhani.
Ami chhilam chhate
Taray bhora Choitromasher rate.
Hothat meyer kanna shune, uthe
Dekhte gelem chhute.
Shinrir moddhye jete jete
Prodipta tar nibe gechhe batashete.
Shudhai tare, "Ki hoyechhe, Bami."
![পলাতকা কাব্যগ্রন্থের হারিয়ে-যাওয়া কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 হারিয়ে-যাওয়া hariye jaoya [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/images-39-9.jpeg)
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- আলোর বিলোপ ও অস্তিত্বের সংকট:“সিঁড়ির মধ্যে যেতে যেতে / প্রদীপটা তার নিবে গেছে বাতাসেতে। / শুধাই তারে, ‘কী হয়েছে, বামী।’ / সে কেঁদে কয় নিচে থেকে, ‘হারিয়ে গেছি আমি।'”— আলো যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ চারপাশের স্থান ও নিজের অস্তিত্ব সুস্পষ্ট থাকে। কিন্তু আলো নিভে যাওয়া মাত্রই ভৌগোলিকভাবে চেনা ঘরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থেকেও বালিকাটি সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত হয়ে নিজের অস্তিত্বকেই হারানো বলে ঘোষণা করে।
- ক্ষুদ্র গৃহকোণ থেকে মহাজাগতিক রূপক:“মনে হল আকাশপানে চেয়ে / আমার বামীর মতোই যেন অমনি কে এক মেয়ে / নীলাম্বরের আঁচল্খানি ঘিরে / দীপশিখাটি বাঁচিয়ে একা চলছে ধীরে ধীরে।”— কবির দৃষ্টি সিঁড়ির অন্ধকার থেকে আকাশের মহাশূন্যে প্রসারিত হয়। নক্ষত্রখচিত রাতের আকাশ যেন নীল বসন পরিহিতা এক মহাজাগতিক বালিকা, যে অনন্ত অন্ধকারের মহাসমুদ্রে আলো বাঁচিয়ে সন্তর্পণে এগিয়ে চলেছে।
- মহাজাগতিক আলোর শাশ্বত দ্যোতনা:“নিবত যদি আলো, যদি হঠাৎ যেত থামি / আকাশ ভরে উঠত কেঁদে, ‘হারিয়ে গেছি আমি।'”— যদি কোনোদিন এই মহাবিশ্বের নক্ষত্রালোক বা সৃষ্টির প্রাণশিখা স্তব্ধ হয়ে যায়, তবে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডই এক পরম শূন্যতা ও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে একই অস্তিত্বহীনতার হাহাকারে কেঁদে উঠবে। একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্তের ভেতর দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসৃষ্টির আলো ও অন্ধকারের শাশ্বত সত্যকে উন্মোচন করেছেন।