Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | প্রত্যাশা |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | মহুয়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯২৯ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রোমান্টিক ঋতু-বিরহের লিরিক কবিতা (Romantic Nature-Yearning Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায় ফাগুন মাসে
কী উচ্ছ্বাসে
ক্লান্তিবিহীন ফুল-ফোটানোর খেলা।
ক্ষান্তকূজন শান্ত বিজন সন্ধ্যাবেলা
প্রত্যহ সেই ফুল্ল শিরীষ প্রশ্ন শুধায় আমায় দেখি,
“এসেছে কি।’
আর বছরেই এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
কী উল্লাসে
নাচের মাতন লাগল শিরীষ-ডালে,
স্বর্গপুরের কোন্ নূপুরের তালে।
প্রত্যহ সেই চঞ্চল প্রাণ শুধিয়েছিল, “শুনাও দেখি,
আসে নি কি।’
আবার কখন্ এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
কী বিশ্বাসে
ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে
অলখ জনের চরণশব্দে মেতে।
প্রত্যহ তার মর্মরস্বর বলবে আমায় দীর্ঘশ্বাসে,
“সে কি আসে।’
প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর ফাগুন মাসে
কী আশ্বাসে,
হায় গো আমার ভাগ্যরাতের তারা,
নিমেষগণন হয় না কি মোর সারা।
প্রত্যহ বয় প্রাঙ্গণময় বনের বাতাস এলোমেলো,
“সে কি এল।’

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- প্রকৃতির পুষ্পোৎসব ও চিরন্তন জিজ্ঞাসা:“প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায় ফাগুন মাসে / কী উচ্ছ্বাসে / ক্লান্তিবিহীন ফুল-ফোটানোর খেলা। / … প্রত্যহ সেই ফুল্ল শিরীষ প্রশ্ন শুধায় আমায় দেখি, / ‘এসেছে কি।'”— ফাল্গুনে শিরীষগাছের অফুরান ফুল ফোটানো কেবল প্রাকৃতিক শোভা নয়; তা প্রিয়তমকে অভ্যর্থনা জানানোর এক ব্যাকুল আয়োজন। শান্ত সন্ধ্যায় ক্লান্তিহীন ফুলগুলোর নীরব প্রশ্ন যেন কবির নিজেরই হৃদয়ের গোপন হাহাকার।
- কালপ্রবাহে প্রতীক্ষার অবিচল ধারা:“আর বছরেই এমনি দিনেই ফাগুন মাসে … চঞ্চল প্রাণ শুধিয়েছিল, ‘শুনাও দেখি, আসে নি কি।’ / আবার কখন্ এমনি দিনেই ফাগুন মাসে / কী বিশ্বাসে / ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে / অলখ জনের চরণশব্দে মেতে।”— গত বছরের “আসে নি কি” থেকে শুরু করে বর্তমানের “এসেছে কি” এবং ভবিষ্যতের “সে কি আসে”—প্রতীক্ষার এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে কাল পরিবর্তিত হলেও প্রিয়তমের জন্য হৃদয়ের তৃষ্ণা একবিন্দু মলিন হয় না। অদৃশ্য প্রেমিকের পদধ্বনি শোনার জন্য প্রকৃতি চিরকাল কান পেতে থাকে।
- ভাগ্যতারার কাছে আকুল আর্তি:“হায় গো আমার ভাগ্যরাতের তারা, / নিমেষগণন হয় না কি মোর সারা। / প্রত্যহ বয় প্রাঙ্গণময় বনের বাতাস এলোমেলো, / ‘সে কি এল।'”— দীর্ঘ অপেক্ষার পল গুনতে গুনতে কবির জীবনপ্রহর ক্লান্ত। এলোমেলো দখিনা বাতাস এসে প্রাঙ্গণজুড়ে এক বিষাদময় আলোড়ন তোলে, আর রেখে যায় একটিমাত্র অসমাপ্ত প্রশ্ন—”সে কি এল।” এই অধরা প্রত্যাশাই প্রেমের শাশ্বত সৌন্দর্যকে মহিমান্বিত করেছে।