বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সানাই’ (১৯৪০) কাব্যগ্রন্থের একটি স্নিগ্ধ, রহস্যময় ও অবচেতন মনের কবিতা হলো ‘আধোজাগা’। এই কবিতায় তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী এক অতীন্দ্রিয় বা স্বপ্নময় অনুভূতির কথা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ব্যক্ত হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | আধোজাগা |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | সানাই |
| প্রকাশের বছর | ১৯৪০ (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | মনস্তাত্ত্বিক ও অতীন্দ্রিয় গীতি-কবিতা (Psychological and Mystical Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১৯৪০ সালে রচিত ‘সানাই’ কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের পরিণত বয়সের মনস্তাত্ত্বিক ও স্মৃতিমেদুর ভাবনার গভীর প্রকাশ ঘটেছে। ‘আধোজাগা’ কবিতায় কবি মানুষের মনের এমন এক স্তরের কথা বলেছেন, যখন মানুষ পুরোপুরি ঘুমিয়েও থাকে না, আবার পুরোপুরি জেগেও ওঠে না। এই তন্দ্রাচ্ছন্ন মুহূর্তে মানুষের অবচেতন মন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তখন মনে হয় যেন স্বপ্নের পার থেকে কেউ এসে দরজায় কড়া নাড়ছে, নির্জন ঘরে কে যেন মন্ত্র পাঠ করছে, অথবা রাতের নিস্তব্ধতায় প্রকৃতির নিজস্ব সুর ও গন্ধ যেন মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে।
আধোজাগা কবিতা (পুরো কবিতা)
রাত্রে কখন মনে হল যেন
ঘা দিলে আমার দ্বারে,
জানি নাই আমি জানি নাই, তুমি
স্বপ্নের পরপারে।
অচেতন মন-মাঝে
নিবিড় গহনে ঝিমিঝিমি ধ্বনি বাজে,
কাঁপিছে তখন বেণুবনবায়ু
ঝিল্লির ঝংকারে।
জাগি নাই আমি জাগি নাই গো,
আধোজাগরণ বহিছে তখন
মৃদুমন্থরধারে।
গভীর মন্দ্রস্বরে
কে করেছে পাঠ পথের মন্ত্র
মোর নির্জন ঘরে।
জাগি নাই আমি জাগি নাই, যবে
বনের গন্ধ রচিল ছন্দ
তন্দ্রার চারিধারে।
আধোজাগা কবিতা — Romanized Version
Ratre kokhon mone holo jeno
gha dile amar dware,
jani nai ami jani nai, tumi
swapner paropare।
Achetan mon-majhe
nibiro gohone jhimijhimi dhwani baje,
kampichhe tokhon benubon-bayu
jhillir jhonkare।
Jagi nai ami jagi nai go,
adhojagoron bohichhe tokhon
mridumanthar-dhare।
Gobhīr mandra-sware
Ke korechhe path pother montr
mor nirjon ghore।
Jagi nai ami jagi nai, jobe
boner gondho rochilo chhondo
tandrar charidhare।
- অতীন্দ্রিয় অনুভূতি ও স্বপ্নের পার:গভীর রাতে কবির মনে হয় যেন কেউ তাঁর দরজায় এসে কড়া নেড়েছে। জাগতিক বাস্তবে নয়, বরং স্বপ্নের ওপার থেকে আসা কোনো এক অতীন্দ্রিয় সত্তা বা স্মৃতি যেন তাঁর অবচেতন মনকে স্পর্শ করতে চাইছে।
- আধো-জাগরণের নিস্তব্ধতা:কবি পুরোপুরি জেগে ওঠেননি। তাঁর মন তখন ঘুম আর জাগরণের এক মায়াবী সীমানায় ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই আধো-জাগরণের মুহূর্তে বাঁশবাগানের বাতাস আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক অবচেতন মনের গহনে এক ঝিমিঝিমি সুর তৈরি করছে।
- প্রকৃতির সাথে চেতনার লীন হওয়া:এই নির্জন ঘরে এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন মুহূর্তে কবির মনে হয় যেন কেউ গভীর স্বরে পথ চলার মন্ত্র পাঠ করছে। বনের স্নিগ্ধ গন্ধ তাঁর তন্দ্রার চারদিকে এক অপূর্ব ছন্দ রচনা করেছে, যেখানে রাতের শান্ত প্রকৃতি আর কবির অবচেতন মন যেন একাকার হয়ে গেছে।





![সানাই কাব্যগ্রন্থের 'যক্ষ' কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 যক্ষ কবিতা [ jhokkho Kobita ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/যক্ষ-কবিতা-jhokkho-Kobita--1024x536.gif)
![আমি বদল করেছি আমার বাসা ami bodol korechhi amar basa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমি বদল করেছি আমার বাসা ami bodol korechhi amar basa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/আমি-বদল-করেছি-আমার-বাসা-ami-bodol-korechhi-amar-basa-কবিতা--1024x536.gif)
![দৃষ্টিদান ছোটগল্প, গল্পগুচ্ছ [ drishtidan ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দৃষ্টিদান ছোটগল্প, গল্পগুচ্ছ [ drishtidan ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/দৃষ্টিদান-ছোটগল্প-1024x536.gif)
![বাহির হইতে দেখো না এমন করে baahir hoite dekho naa eman kore [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাহির হইতে দেখো না এমন করে baahir hoite dekho naa eman kore [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/বাহির-হইতে-দেখো-না-এমন-করে-baahir-hoite-dekho-naa-eman-kore-কবিতা--1024x536.gif)