বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘উৎসর্গ’ কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম সুন্দর ও আত্মিক ভাবনাসমৃদ্ধ সৃষ্টি হলো ‘অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে’। এই কবিতায় ক্ষণস্থায়ী বসন্তের রূপ, তার চলে যাওয়ার বিষাদ এবং কবির জীবনে সেই fleeting beauty বা ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যকে ছন্দের জাদুতে অমর ও স্থায়ী করে রাখার গভীর আকুলতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | উৎসর্গ |
| কবিতার ধরন | গীতিবকবিতা ও আত্মজিজ্ঞাসামূলক লিরিক (Lyrical and Self-reflective Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘উৎসর্গ’ কাব্যগ্রন্থটি তাঁর কাব্যজীবনের একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণের সৃষ্টি। এসময়ের কবিতায় ব্যক্তিমানসের আত্মবিশ্লেষণ, সৌন্দর্যপ্রীতি এবং ক্ষণকালের আনন্দকে চিরকালের রূপ দেওয়ার এক অন্তিম সাধনা লক্ষ্য করা যায়। ‘অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে’ কবিতায় কবি বসন্তের দ্রুত প্রস্থান এবং প্রকৃতির সেই চঞ্চল রূপকে কবির কল্পনায় ও ছন্দে ধরে রাখার তাগিদ অনুভব করেছেন।
অচির বসন্ত হায় এল, গেল চলে – সম্পূর্ণ কবিতা
অ-চির বসন্ত হায় এল, গেল চ-লে–
এবার কিছু কি, কবি করেছ সঞ্চয়।
ভরেছ কি কল্পনার কনক-অঞ্চলে
চঞ্চলপবনক্লিষ্ট শ্যাম কিশলয়,
ক্লান্ত করবীর গুচ্ছ। তপ্ত রৌদ্র হতে
নিয়েছ কি গলাইয়া যৌবনের সুরা–
ঢেলেছ কি উচ্ছলিত তব ছন্দঃস্রোতে,
রেখেছ কি করি তারে অনন্তমধুরা।
এ বসন্তে প্রিয়া তব পূর্ণিমানিশীথে
নবমল্লিকার মালা জড়াইয়া কেশে
তোমার আকাঙক্ষাদীপ্ত অতৃপ্ত আঁখিতে
যে দৃষ্টি হানিয়াছিল একটি নিমেষে
সে কি রাখ নাই গেঁথে অক্ষয় সংগীতে।
সে কি গেছে পুষ্পচ্যুত সৌরভের দেশে।
Romanized Version
O-chiro boshonto hay elo, gelo chole–
Ebar kichhu ki, kobi korechho shonchoy.
Bhorechho ki koponar konok-anchole
Chocholpobon-klishto shyam kisholoy,
Klanto korobir guchchho. Topto roudro hote
Niyechho ki golaiya jouboner shura–
Dhelechho ki uchchhəlito tobo chhondosrote,
Rekhechho ki kori tare onoonto-modhura.
E boshonte priya tobo purnimanisheete
Nobomallikar mala joraiya keshe
Tomar akangkkha-dipto otripto ankhite
Je drishti hani-chhilo ekti nimeshe
Se ki rakh nai gethe okkhoy shongite.
Se ki geche pushpo-chyuto shourabher deshe.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- ক্ষণস্থায়ী বসন্তের প্রস্থান:
“অ-চির বসন্ত হায় এল, গেল চ-লে– / এবার কিছু কি, কবি করেছ সঞ্চয়।”— বসন্ত স্থায়ী হয় না, সে ক্ষণকালের জন্য এসে আবার মিলিয়ে যায়। কবি নিজেকেই প্রশ্ন করছেন যে, এই fleeting বা ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের নাগাল পেয়ে তিনি কবিতার ঝোলায় কী সঞ্চয় করেছেন।
- সৌন্দর্য ও স্মৃতিকে কাব্যে অমর করা:
“সে কি রাখ নাই গেঁথে অক্ষয় সংগীতে। / সে কি গেছে পুষ্পচ্যুত সৌরভের দেশে।”— প্রকৃতির শ্যামল কিশলয়, ক্লান্ত করবীর গুচ্ছ কিংবা প্রিয়ার এক পলকের দৃষ্টি—এসব কিছু কি শুধুই হারিয়ে যাওয়ার জন্য, নাকি কবি তাঁর অক্ষয় সঙ্গীতের জাদুতে সেগুলোকে চিরকালের মতো ধরে রাখতে পেরেছেন, এই চিন্তাই কবিতার মূল দর্শন।
উৎস
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (উৎসর্গ কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।