বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাহিনী’ কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি মরমিয়া, মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মোপলব্ধিমূলক সৃষ্টি হলো ‘কাহিনী’। এই কবিতায় মানুষের জীবনের প্রতিদিনের ভুলে যাওয়া সুখ-দুঃখ, চেতনাবাহিনীর প্রবাহ এবং অন্তরের গভীরের এক অজ্ঞাতসারে জীবনকাহিনী রচনার চিরন্তন রহস্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | কাহিনী |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | কাহিনী |
| কবিতার ধরন | মরমি ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক কবিতা (Spiritual / Psychological Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যযাত্রায় মানুষের মনন, স্মৃতি এবং অস্তিত্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা আত্মিক সত্তাকে ফুটিয়ে তোলার এক অনন্য প্রয়াস হলো ‘কাহিনী’ কবিতাটি। এই কবিতায় কবি এমন এক ‘স্মৃতি-অবগাহিনী’ ও ‘হৃদয়ের গেহিনী’ পরম সত্তাকে সম্বোধন করেছেন, যিনি মানুষের চেতনাবাহিনীর মধ্য দিয়ে বয়ে চলা হাজারো ছিন্নসূত্র ও ভুলে যাওয়া সুখ-দুঃখকে কুড়িয়ে নিখুঁতভাবে জীবনকাহিনী গেঁথে চলেছেন। মানুষ প্রতিদিন কত কিছুই না ভুলে যায়, কত স্মৃতি মলিন হয়ে আসে, কিন্তু অন্তরের গভীর নিভৃতে সেই অজানা শিল্পী যুগ যুগ ধরে জনমের পর জনমের বিস্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে রচে চলেছে মানবজীবনের অন্তহীন ইতিহাস।
কাহিনী কবিতা (সম্পূর্ণ)
কত কী যে আসে কত কী যে যায়
বাহিয়া চেতনাবাহিনী,
আঁধারে আড়ালে গোপনে নিয়ত
হেথা হোথা তারি পড়ে থাকে কত–
ছিন্নসূত্র বাছি শত শত
তুমি গাঁথ বসে কা-হিনী।
ওগো একমনা, ওগো অগোচরা,
ওগো স্মৃতি-অবগাহিনী!
তব ঘরে কিছু ফেলা নাহি যায়
ওগো হৃদয়ের গেহিনী!
কত সুখ দুখ আসে প্রতিদিন,
কত ভুলি কত হয়ে আসে ক্ষীণ–
তুমি তাই ল’য়ে বিরামবিহীন
রচিছ জীবনকা-হিনী।
আঁধারে বসিয়া কী যে কর কাজ
ওগো স্মৃতি-অবগাহিনী!
কত যুগ ধরে এমনি গাঁথিছ
হৃদিশতদলশায়িনী!
গভীর নিভৃতে মোর মাঝখানে,
কী যে আছে কী যে নাই কে বা জানে,
কী জানি রচিলে আমার পরানে
কত-না যুগের কা-হিনী–
কত জনমের কত বিস্মৃতি
ওগো স্মৃতি-অবগাহিনী!
কাহিনী কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- স্মৃতির সুতোয় জীবন রচনা: মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া ছোটোখাটো ঘটনা, সুখ-দুঃখ এবং বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে একত্রিত করে অন্তরের এক অলক্ষ্য শক্তি কীভাবে জীবনকাহিনী তৈরি করে, তা এই কবিতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- অন্তরের নিভৃত সংযোগ: চেতনার আড়ালে গোপনে চলা এই সৃষ্টির লীলা মানুষের অস্তিত্বকে এক গভীর ও শাশ্বত রূপ দান করে—এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতেই কবিতাটি সমাপ্ত হয়েছে।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (কাহিনী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।








