বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খাপছাড়া’ (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি হালকা মেজাজের, কৌতুকরসাত্মক ও ছান্দসিক সৃষ্টি হলো ‘স্ত্রীর বোন-চায়ে তার’। এই কবিতায় চায়ের কাপে কালির ভুল ঢালা এবং তুচ্ছ এক ভুল উচ্চারণকে কেন্দ্র করে বনমালী নামের এক ব্যক্তির অতিমাত্রায় অভিমান ও আত্মহত্যার হাস্যকর চিন্তার রূপ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | স্ত্রীর বোন-চায়ে তার |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | খাপছাড়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৭ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | কৌতুকরসাত্মক, লঘু ছন্দের কবিতা ও ছড়া (Humorous and Lyrical Nonsense Verse) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ‘খাপছাড়া’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অভিনব ও খামখেয়ালি রচনার সংকলন, যেখানে নানা অদ্ভুত চরিত্র, ছোট ছোট ঘটনা ও লঘু ছন্দের চটুল প্রকাশ দেখা যায়। ‘স্ত্রীর বোন-চায়ে তার’ কবিতায় বনমালী নামের এক ব্যক্তির সামান্য অসাবধানতার কথা বলা হয়েছে। স্ত্রীর বোনের (শালীর) জন্য চা বানাতে গিয়ে ভুলবশত সে চায়ের পরিবর্তে কাপে কালি ঢেলে ফেলে। এই নিয়ে বনমালী তাকে ‘শ্যাসী’ বা ‘শালী’ বলে কিছুটা কটু কথা বা ভর্ৎসনা করায় বনমালী মনে চরম আঘাত পায়। এত বড় একটি গালিতে সে এতটাই মর্মাহত হয় যে, আফিম খাবে নাকি গঙ্গায় গিয়ে জীবন বিসর্জন দেবে—তা নিয়ে টানা সাত মাস ধরে খালী ভেবেই চলে! অতি তুচ্ছ বিষয়কে নিয়ে মানুষের এই বাড়াবাড়ি ও খামখেয়ালি অভিমান পাঠকের মুখে অনায়াসে হাসি ফুটিয়ে তোলে।
স্ত্রীর বোন-চায়ে তার কবিতা (সম্পূর্ণ)
স্ত্রীর বোন-চায়ে তার কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- ভুল বোঝাবুঝি ও তুচ্ছ ঘটনা: চায়ের বদলে কালির কাপ দেওয়া এবং সামান্য কথা কাটাকাটি এই কবিতার হাস্যরসের সূচনা করে।
- অতিরঞ্জিত অভিমান: ছোটখাটো একটা ভর্ৎসনাকে জীবনের বড় অপমান হিসেবে ধরে নিয়ে আফিম খাওয়া বা গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা সাত মাস ধরে ভাবার খামখেয়ালিপনা এই কবিতার মূল ব্যঙ্গাত্মক ও কৌতুকপূর্ণ দিক।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।









