আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থের ‘বাংলাদেশের মানুষ হয়ে’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খাপছাড়া’ (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম একটি ব্যঙ্গাত্মক, লঘুচালে রচিত অথচ তীক্ষ্ণ উপলব্ধিসম্পন্ন সৃষ্টি হলো ‘বাংলাদেশের মানুষ হয়ে’। এই কবিতায় বাঙালি মানসের এক অদ্ভুত প্রবণতা—নিজের দেশের নদনদী, জলহাওয়া ও ম্যালেরিয়ার ভয় এড়িয়ে বা কাঁচড়াপাড়ার পরিবেশকে তিতো ঠাউরে সুদূর রাজপুতানার চিতোরে লড়াই খুঁজতে যাওয়ার হাস্যকর প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত সুনিপুণ ও রসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামবাংলাদেশের মানুষ হয়ে
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থখাপছাড়া
প্রকাশের বছর১৯৩৭ (১৩৪৪ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনব্যঙ্গাত্মক ও লঘুচালের কবিতা (Satirical / Light Verse)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ‘খাপছাড়া’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অভিনব ও মুক্তছন্দের লঘু পদ্যের সংগ্রহ। এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে নানা অদ্ভুত খেয়াল, রসিকতা এবং সামাজিক বা মানসিকপ্রবণতার ওপর হালকা শ্লেষ বা ব্যঙ্গ প্রকাশ পেয়েছে। ‘বাংলাদেশের মানুষ হয়ে’ কবিতায় কবি এমন এক ব্যক্তির সমালোচনা করেছেন যিনি জন্মসূত্রে বাংলার মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ঘরের প্রিয়া ও ম্যালেরিয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে চিতোরে ছুটে যান। কাঁচড়াপাড়ার জলহাওয়া যাঁর কাছে তিতো ঠেকে, অথচ তিনি রাজপুতানার বীরত্ব বা লড়াইয়ের টানে বিভোর—তাঁকে কবি ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে আসল লড়াই বা সংগ্রামের ক্ষেত্র তো ঘরের ভেতরেই রয়েছে, বাইরে গিয়ে বীরত্ব দেখানোর এই ভীরু প্রচেষ্টা কেবলই এক খাপছাড়া প্রহসন।

বাংলাদেশের মানুষ হয়ে কবিতা (সম্পূর্ণ)

বাংলাদেশের-মানুষ হয়ে
ছুটিতে ধাও চিতোরে,
কাঁচড়াপাড়ার জলহাওয়াটা
লাগল এতই তিতো রে?
মরিস ভয়ে ঘরের প্রিয়ার,
পালাস ভয়ে ম্যালেরিয়ার,
হায় রে ভীরু, রাজপুতানার
ভূত পেয়েছে কী তোরে।
লড়াই ভালোবাসিস, সে তো
আছেই ঘরের ভিতরে।

বাংলাদেশের মানুষ হয়ে কবিতার Romanized Version:

Bangladeshher-manush hoye
chhutite dhao chitore,
Kachharaparar jol-hawata
laglo etoi tito re?
moris voye ghorer priyar,
palas voye myaleriar,
Hay re bhiru, rajputanar
bhut peyechhe ki tore.
Lorai bhalobashis, se to
achhe-i ghorer bhitore.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • স্বদেশপ্রীতি ও ভীরুতার ব্যঙ্গ: নিজের দেশের পরিবেশ ও ঘরকন্নার দায়িত্ব থেকে পালানোর প্রবৃত্তি এবং ভিনদেশি রোমান্স বা লড়াইয়ের প্রতি মিথ্যে আকর্ষণের এক নিপুণ ও হাস্যরসাত্মক সমালোচনা।
  • প্রকৃত সংগ্রামের রূপ: বাইরে বীরত্ব খোঁজার চেয়ে ঘরের ভেতরের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতাকে মুখোমুখি করার তাগিদই এই কবিতার অন্তর্নিহিত বার্তা।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত