আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থের ‘খবর পেলেম কল্য’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৌতুকরসাত্মক ও প্রহসনধর্মী সৃষ্টিসংকলন ‘খাপছাড়া’র একটি অন্যতম মজাদার, ছন্দময় ও লঘু মেজাজের কবিতা হলো ‘খবর পেলেম কল্য’। এই কবিতায় রাজা ও তার তাঞ্জামে চড়ে গঞ্জামে যাত্রার অদ্ভুত সব বিপত্তি, ঘোড়ার মৃত্যু এবং শেষ পর্যন্ত মুটের ঘাড়ে সমস্ত ভার পড়ার এক রম্য ও প্রহসনমূলক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামখবর পেলেম কল্য
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থখাপছাড়া
প্রকাশের বছর১৯৩৬ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনপ্রহসনমূলক ও ব্যঙ্গাত্মক লিরিক কবিতা (Farcical and Satirical Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

১৯৩৬ সালে প্রকাশিত ‘খাপছাড়া’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের খামখেয়ালি, হালকা মেজাজের এবং কৌতুকরসে ভরপুর কবিতার এক অনন্য ভাণ্ডার। এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে জীবনের নানা অসঙ্গতি, ছোটখাটো ঘটনা এবং অদ্ভুত সব কল্পনাশক্তির লঘু প্রকাশ দেখা যায়। ‘খবর পেলেম কল্য’ কবিতায় রাজা মহাশয়ের এক বিচিত্র ভ্রমণ এবং তার ফলশ্রুতিতে ঘটে যাওয়া হাস্যকর বিপত্তিগুলোকে ছড়ার ছন্দে অত্যন্ত চটজলদি ও মজাদার ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে।

খবর পেলেম কল্য – সম্পূর্ণ কবিতা

খবর-পেলেম কল্য,
তাঞ্জামেতে চ’ড়ে রাজা
গাঞ্জামেতে চলল।
সময়টা তার জলদি কাটে;
পৌঁছল যেই হলদিঘাটে
একটা ঘোড়া রইল বাকি,
তিনটে ঘোড়া মরল।
গরানহাটায় পৌঁছে সেটা
মুটের ঘাড়ে চড়ল।

Romanized Version

Khorbor-pelem koly,
Tanjamete chore raja
Ganjamete chollo.
Somoyta tar joldi kate;
Pouchhol jei holdighate
Ekti ghora roilo baki,
Tinte ghora morlo.
Goranhatay pouchhe sheta
Muter ghare chorlo.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

  • ভ্রমণের প্রহসন ও অসংগতি:
“তাঞ্জামেতে চ’ড়ে রাজা / গাঞ্জামেতে চলল। / সময়টা তার জলদি কাটে; / পৌঁছল যেই হলদিঘাটে / একটা ঘোড়া রইল বাকি, / তিনটে ঘোড়া মরল।”
— রাজার বিলাসবহুল বা অদ্ভুত সওয়ারি নিয়ে যাত্রা এবং তার পথিমধ্যে একের পর এক ঘোড়ার মরার ঘটনা ভ্রমণকে এক হাস্যকর প্রহসনে পরিণত করে।
  • অপ্রত্যাশিত পরিণতি ও কৌতুক:
“গরানহাটায় পৌঁছে সেটা / মুটের ঘাড়ে চড়ল।”
— ঘোড়া মারা যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সমস্ত চাপ বা ভার যখন গরানহাটায় পৌঁছে মুটের ঘাড়ে গিয়ে পড়ে, তখন তা কবিতার ব্যঙ্গ ও কৌতুককে এক চূড়ান্ত ও লঘু পরিসমাপ্তি দান করে।

উৎস

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত