আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

নারীর উক্তি কবিতা । narir ukti kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

নারীর উক্তি কবিতা [ narir ukti kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর মানসী  কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ মানসী 

কবিতার নামঃ নারীর উক্তি

নারীর উক্তি কবিতা । narir ukti kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মিছে তর্ক– থাক্‌ তবে থাক্‌।

                   কেন কাঁদি বুঝিতে পার না?

        তর্কেতে বুঝিবে তা কি?          এই মুছিলাম আঁখি–

              এ শুধু চোখের জল, এ নহে ভর্ৎসনা।

              আমি কি চেয়েছি পায়ে ধরে

                   ওই তব আঁখি-তুলে চাওয়া,

        ওই কথা, ওই হাসি,           ওই কাছে আসা-আসি,

              অলক দুলায়ে দিয়ে হেসে চলে যাওয়া?

              কেন আন বসন্তনিশীথে

                   আঁখিভরা আবেশ বিহ্বল

        যদি বসন্তের শেষে                 শ্রান্তমনে ম্লান হেসে

              কাতরে খুঁজিতে হয় বিদায়ের ছল?

              আছি যেন সোনার খাঁচায়

                   একখানি পোষ-মানা প্রাণ।

        এও কি বুঝাতে হয়                প্রেম যদি নাহি রয়

              হাসিয়ে সোহাগ করা শুধু অপমান?

              মনে আছে সেই এক দিন

                   প্রথম প্রণয় সে তখন।

        বিমল শরৎকাল,                     শুভ্র ক্ষীণ মেঘজাল,

              মৃদু শীতবায়ে স্নিগ্ধ রবির কিরণ।

              কাননে ফুটিত শেফালিকা,

                   ফুলে ছেয়ে যেত তরুমূল।

        পরিপূর্ণ সুরধুনী,                  কুলুকুলু ধ্বনি শুনি,

              পরপারে বনশ্রেণী কুয়াশা-আকুল।

আমা-পানে চাহিয়ে, তোমার

                   আঁখিতে কাঁপিত প্রাণখানি।

        আনন্দে বিষাদে মেশা              সেই নয়নের নেশা

              তুমি তো জান না তাহা, আমি তাহা জানি।

              সে কি মনে পড়িবে তোমার–

                   সহস্র লোকের মাঝখানে

        যেমনি দেখিতে মোরে           কোন্‌ আকর্ষণডোরে

              আপনি আসিতে কাছে জ্ঞানে কি অজ্ঞানে।

              ক্ষণিক বিরহ-অবসানে

                   নিবিড় মিলন-ব্যাকুলতা।

        মাঝে মাঝে সব ফেলি           রহিতে নয়ন মেলি,

              আঁখিতে শুনিতে যেন হৃদয়ের কথা।

              কোনো কথা না রহিলে তবু

                   শুধাইতে নিকটে আসিয়া।

        নীরবে চরণ ফেলে             চুপিচুপি কাছে এলে

              কেমনে জানিতে পেতে, ফিরিতে হাসিয়া।

              আজ তুমি দেখেও দেখ না,

                   সব কথা শুনিতে না পাও।

 

        কাছে আস আশা ক’রে        আছি সারাদিন ধরে,

              আনমনে পাশ দিয়ে তুমি চলে যাও।

              দীপ জ্বেলে দীর্ঘ ছায়া লয়ে

                   বসে আছি সন্ধ্যায় ক’জনা–

        হয়তো বা কাছে এস,           হয়তো বা দূরে বস,

              সে সকলি ইচ্ছাহীন দৈবের ঘটনা।

এখন হয়েছে বহু কাজ,

                   সতত রয়েছ অন্যমনে।

        সর্বত্র ছিলাম আমি–              এখন এসেছি নামি

                 হৃদয়ের প্রান্তদেশে, ক্ষুদ্র গৃহকোণে।

                 দিয়েছিলে হৃদয় যখন

                        পেয়েছিলে প্রাণমন দেহ–

        আজ সে হৃদয় নাই,                 যতই সোহাগ পাই

                 শুধু তাই অবিশ্বাস বিষাদ সন্দেহ।

                 জীবনের বসন্তে যাহারে

                        ভালোবেসেছিলে একদিন,

        হায় হায় কী কুগ্রহ,           আজ তারে অনুগ্রহ–

                 মিষ্ট কথা দিবে তারে গুটি দুই-তিন।

                 অপবিত্র ও করপরশ

                        সঙ্গে ওর হৃদয় নহিলে।

        মনে কি করেছ বঁধু,                 ও হাসি এতই মধু

                 প্রেম না দিলেও চলে, শুধু হাসি দিলে।

                 তুমিই তো দেখালে আমায়

                       ( স্বপ্নেও ছিল না এত আশা )

        প্রেমে দেয় কতখানি           কোন্‌ হাসি কোন্‌ বাণী,

                 হৃদয় বাসিতে পারে কত ভালোবাসা।

                 তোমারি সে ভালোবাসা দিয়ে

                      বুঝেছি আজি এ ভালোবাসা–

        আজি এই দৃষ্টি হাসি,          এ আদর রাশি রাশি,

                এই দূরে চলে-যাওয়া, এই কাছে আসা।

বুক ফেটে কেন অশ্রু পড়ে

                      তবুও কি বুঝিতে পার না?

        তর্কেতে বুঝিবে তা কি?          এই মুছিলাম আঁখি–

                 এ শুধু চোখের জল, এ নহে ভর্ৎসনা।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত