পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের ‘জীবনে নানা সুখদুঃখের এলোমেলো ভিড়ের’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের অন্যতম স্মরণীয় কবিতা ‘জীবনে নানা সুখদুঃখের এলোমেলো ভিড়ের’। জীবনের বিচ্ছিন্ন সুখ-দুঃখ, দৈনন্দিনতার ভিড় এবং হঠাৎ এসে-যাওয়া কিছু বিরল পূর্ণ মুহূর্তকে এই কবিতায় স্মৃতির আলোয় দেখা হয়েছে। দার্জিলিঙের সিঞ্চল পাহাড়ে এক সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা থেকে কবি এমন এক সৌন্দর্যের মুহূর্ত আবিষ্কার করেন, যা ভাষায় সম্পূর্ণভাবে ধারণ করা কঠিন।

পত্রপুট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্ত্যপর্বের কাব্যসৃষ্টির একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এটি ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ (১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে) প্রকাশিত হয় এবং এতে মোট আঠারোটি কবিতা রয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য

বিষয়তথ্য
কবিতাজীবনে নানা সুখদুঃখের এলোমেলো ভিড়ের
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থপত্রপুট
প্রকাশকাল২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ / ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ
কাব্যপর্বরবীন্দ্রনাথের অন্ত্যপর্ব
প্রধান বিষয়স্মৃতি, সৌন্দর্য, প্রকৃতি, সঙ্গীত, মুহূর্তের পূর্ণতা ও ভাষার সীমা
পটভূমিদার্জিলিঙের সিঞ্চল পাহাড়

কবিতার প্রেক্ষাপট

কবিতার শুরুতেই কবি জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে হঠাৎ পাওয়া কিছু পূর্ণ মুহূর্তের কথা বলেন। সেগুলি যেন অসংখ্য পাথর-নুড়ির মধ্যে আকস্মিকভাবে পাওয়া হীরের মতো।

এই উপমাটিই কবিতার মূল সুরকে প্রকাশ করে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সমান নয়। অনেক অভিজ্ঞতা দৈনন্দিনতার ভিড়ে হারিয়ে যায়, কিন্তু কখনো কোনো একটি মুহূর্ত এমন সম্পূর্ণ সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হয় যে তা স্মৃতির গভীরে স্থায়ী হয়ে থাকে।

এরপর কবি সেই বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত দার্জিলিঙের সিঞ্চল পাহাড়ের একটি সন্ধ্যার স্মৃতি বর্ণনা করেছেন।

 

সম্পূর্ণ কবিতা

জীবনে নানা সুখদুঃখের

এলোমেলো ভিড়ের মধ্যে

হঠাৎ কখনো কাছে এসেছে

সুসম্পূর্ণ সময়ের ছোটো একটু টুকরো।

গিরিপথের নানা পাথর-নুড়ির মধ্যে

যেন আচমকা কুড়িয়ে-পাওয়া একটি হীরে।

কতবার ভেবেছি গেঁথে রাখব

ভারতীর গলার হারে;

সাহস করি নি,

ভয় হয়েছে কুলোবে না ভাষায়।

ভয় হয়েছে প্রকাশের ব্যগ্রতায়

পাছে সহজের সীমা যায় ছাড়িয়ে।

ছিলেম দার্জিলিঙে,

সদর রাস্তার নীচে এক প্রচ্ছন্ন বাসায়।

সঙ্গীদের উৎসাহ হল

রাত কাটাবে সিঞ্চল পাহাড়ে।

ভরসা ছিল না সন্ন্যাসী গিরিরাজের নির্জন সভার ‘পরে–

কুলির পিঠের উপরে চাপিয়েছি নিজেদের সম্বল থেকেই

অবকাশ-সম্ভোগের উপকরণ।

সঙ্গে ছিল একখানা এস্‌রাজ, ছিল ভোজ্যের পেটিকা,

ছিল হো হো করবার অদম্য উৎসাহী যুবক,

টাট্টুর উপর চেপেছিল আনাড়ি নবগোপাল,

তাকে বিপদে ফেলবার জন্যে ছিল ছেলেদের কৌতুক।

সমস্ত আঁকাবাঁকা পথে

বেঁকে বেঁকে ধ্বনিত হল অট্টহাস্য।

শৈলশৃঙ্গবাসের শূন্যতা পূরণ করব কজনে মিলে,

সেই রস জোগান দেবার অধিকারী আমরাই

এমন ছিল আমাদের আত্মবিশ্বাস।

অবশেষে চড়াই-পথ যখন শেষ হল

তখন অপরাহ্নের হয়েছে অবসান।

ভেবেছিলেম আমোদ হবে প্রচুর,

অসংযত কোলাহল উচ্ছ্বসিত মদিরার মতো

রাত্রিকে দেবে ফেনিল করে।

শিখরে গিয়ে পৌঁছলেম অবারিত আকাশে,

সূর্য নেমেছে অস্তদিগন্তে

নদীজালের রেখাঙ্কিত

বহুদূরবিস্তীর্ণ উপত্যকায়।

পশ্চিমের দিগ্‌বলয়ে,

সুরবালকের খেলার অঙ্গনে

স্বর্ণসুধার পাত্রখানা বিপর্যস্ত,

পৃথিবী বিহ্বল তার প্লাবনে।

প্রমোদমুখর সঙ্গীরা হল নিস্তব্ধ।

দাঁড়িয়ে রইলেম স্থির হয়ে।

এস্‌রাজটা নিঃশব্দ পড়ে রইল মাটিতে,

পৃথিবী যেমন উন্মুখ হয়ে আছে

তার সকল কথা থামিয়ে দিয়ে।

মন্ত্ররচনার যুগে জন্ম হয় নি,

মন্দ্রিত হয়ে উঠল না মন্ত্র

উদাত্তে অনুদাত্তে।

এমন সময় পিছন ফিরে দেখি

সামনে পূর্ণচন্দ্র,

বন্ধুর অকস্মাৎ হাস্যধ্বনির মতো।

যেন সুরলোকের সভাকবির

সদ্যোবিরচিত কাব্যপ্রহেলিকা

রহস্যে রসময়।

গুণী বীণায় আলাপ করে প্রতিদিন।

একদিন যখন কেউ কোথাও নেই

এমন সময় সোনার তারে রুপোর তারে

হঠাৎ সুরে সুরে এমন একটা মিল হল

যা আর কোনোদিন হয় নি।

সেদিন বেজে উঠল যে রাগিণী

সেদিনের সঙ্গেই সে মগ্ন হল

অসীম নীরবে।

গুণী বুঝি বীণা ফেলবেন ভেঙে।

অপূর্ব সুর যেদিন বেজেছিল

ঠিক সেইদিন আমি ছিলেম জগতে,

বলতে পেরেছিলেম–

আশ্চর্য!

 

Romanized Version

Jibone nana sukhdukkher

Elomelo bhirer modhye

Hothat kokhono kachhe eshechhe

Supurno somoyer chhoto ektu tukro.

Giripother nana pathor-nurir modhye

Jeno achomka kuriye-pawa ekti hire.

Kotobar bhebechhi genthe rakhbo

Bharatir golay hare;

Sahos kori ni,

Bhoy hoyechhe kulobe na bhashay.

Bhoy hoyechhe prokasher byagratay

Pache sohojer sima jay chhariye.

Chhilem Darjilinge,

Sodor rastar niche ek prochchhanno basay.

Songider utsaho hol

Raat katabe Sinchal pahare.

Bhorosa chhilo na sonnyasi Girirajer nirjon sobhar ‘pore–

Kulir pither upore chapiyechhi nijeder sombol thekei

Obokash-sombhoger upokoron.

Songe chhilo ekkhana esraj, chhilo bhojyer petika,

Chhilo ho ho korbar odommo utsahi jubok,

Tattur upor chepechhilo anarhi Nobogopal,

Take bipode felbar jonye chhilo chheled er koutuk.

Somosto ankabanka pothe

Beke beke dhwonito hol attahashya.

Shailashrungobaser shunyota puron korbo kojone mile,

Sei ros jogan debar odhikari amrai

Emon chhilo amader atmabishwas.

Obosheshe chorai-poth jokhon shesh hol

Tokhon oprahaner hoyechhe oboshan.

Bhebechhilem amod hobe prochur,

Osongoto kolahal uchchhoshito modirar moto

Ratrike debe phenil kore.

Shikhore giye pouchholem obarito akashe,

Surjo nemechhe ostodigonte

Nodijal-er rekhankito

Bohudurbistirno upotyokay.

Poshchimer digboloye,

Surabaloker khel ar ongone

Swornosudhar patrokhana biporjosto,

Prithibi bihwol tar plabone.

Promodmukhor songira hol nistobdho.

Dariye roilem sthir hoye.

Esrajta nihshobdo pore roil matite,

Prithibi jemon unmukh hoye achhe

Tar sokol kotha thamie diye.

Montrorochonar juge jonmo hoy ni,

Mondrito hoye uthlo na montr

Udatt e anudatte.

Emon somoy pichhon phire dekhi

Samne purnochondro,

Bondhur okosmat hasyodhonir moto.

Jeno suroloker sobhakobir

Sodyobirochito kabyo-prohelika

Rohosye roshomoy.

Guni binay alap kore protidin.

Ekdin jokhon keu kothao nei

Emon somoy sonar tare ruopor tare

Hothat sure sure emon ekta mil hol

Ja ar konodin hoy ni.

Sedin beje uthlo je ragini

Sediner songei se mogno hol

Osim nirob e.

Guni bujhi bina phelben bhenge.

Opurbo sur jedin bejechhilo

Thik sedin ami chhilem jogote,

Bolte perechhilem–

Ashchoryo!

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

জীবনের ভিড়ে পূর্ণ একটি মুহূর্ত

কবিতার প্রথম কয়েকটি পঙ্‌ক্তিতেই রবীন্দ্রনাথ জীবনের এক গভীর সত্যকে ধরেছেন। সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা, স্মৃতি-বিস্মৃতি—সবকিছুর এলোমেলো ভিড়ের মধ্যেও কখনো এমন একটি মুহূর্ত আসে, যা সম্পূর্ণ।

কবি সেই মুহূর্তকে তুলনা করেছেন গিরিপথের পাথর-নুড়ির মধ্যে হঠাৎ পাওয়া হীরের সঙ্গে। অর্থাৎ জীবনের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার মধ্যে সৌন্দর্যের এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যার মূল্য তার স্থায়িত্বে নয়, তার পূর্ণতায়।

ভাষার সীমা

কবি সেই অভিজ্ঞতাকে ‘ভারতীর গলার হারে’ গেঁথে রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু সাহস করেননি। কারণ ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে সেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এখানে কবি শিল্পসৃষ্টির একটি মৌলিক সমস্যার কথা বলেছেন—যে অভিজ্ঞতা অনুভবে সম্পূর্ণ, তা ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে অনেক সময় তার কিছু অংশ হারিয়ে যায়।

“ভয় হয়েছে প্রকাশের ব্যগ্রতায়

পাছে সহজের সীমা যায় ছাড়িয়ে।”

এই পঙ্‌ক্তিগুলিতে তাই কবির সংযমের পরিচয় পাওয়া যায়।

দার্জিলিঙের সিঞ্চল পাহাড়

কবিতার দ্বিতীয় পর্বে বাস্তব স্মৃতি প্রবেশ করেছে। সঙ্গীদের নিয়ে কবি সিঞ্চল পাহাড়ে রাত কাটানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে আছে এস্‌রাজ, খাবারের পেটিকা, উৎসাহী যুবক, টাট্টু এবং হাসি-ঠাট্টার উপকরণ।

প্রথমে তাঁদের ধারণা ছিল, পাহাড়ের নির্জনতা তাঁরা নিজেদের হাসি-আনন্দে পূর্ণ করে তুলবেন। সেই আত্মবিশ্বাসে পথজুড়ে অট্টহাস্য ধ্বনিত হয়।

কিন্তু পাহাড়ের শিখরে পৌঁছে দৃশ্য সম্পূর্ণ বদলে যায়।

প্রকৃতির সামনে মানুষের নীরবতা

চড়াই শেষ হতে হতে অপরাহ্নের অবসান। কবি ও তাঁর সঙ্গীরা যখন শিখরে পৌঁছান, তখন তাঁদের সামনে খুলে যায় অবারিত আকাশ, অস্তগামী সূর্য এবং নদীজালের রেখায় আঁকা বিস্তীর্ণ উপত্যকা।

প্রকৃতির সেই মহিমার সামনে মানুষের কোলাহল থেমে যায়।

“প্রমোদমুখর সঙ্গীরা হল নিস্তব্ধ।

দাঁড়িয়ে রইলেম স্থির হয়ে।”

যে দল পাহাড়ের নির্জনতা নিজেদের হাসি-আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিল, তারাই শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির সামনে নিজেকে নীরব করে দেয়।

এখানে নীরবতা কোনো শূন্যতা নয়; বরং সৌন্দর্যের পূর্ণতার সামনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মসমর্পণ।

এস্‌রাজের নীরবতা

সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া এস্‌রাজটিও আর বাজে না। পৃথিবী যেন নিজেই একটি বিশাল সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। মানুষের তৈরি সুর সেখানে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

“এস্‌রাজটা নিঃশব্দ পড়ে রইল মাটিতে,

পৃথিবী যেমন উন্মুখ হয়ে আছে

তার সকল কথা থামিয়ে দিয়ে।”

এই অংশে রবীন্দ্রনাথ মানুষের শিল্প এবং প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত সৌন্দর্যের সম্পর্ককে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন।

পূর্ণচন্দ্রের আবির্ভাব

এরপর কবি পিছনে ফিরে পূর্ণচন্দ্রকে দেখতে পান। সেই চাঁদের আবির্ভাব তাঁর কাছে “বন্ধুর অকস্মাৎ হাস্যধ্বনির মতো”।

প্রকৃতির দৃশ্য এখানে আর শুধু দৃশ্য নয়; তা যেন এক রহস্যময় কবিতা, যার অর্থ সম্পূর্ণভাবে ভাষায় অনুবাদ করা যায় না।

“যেন সুরলোকের সভাকবির

সদ্যোবিরচিত কাব্যপ্রহেলিকা

রহস্যে রসময়।”

প্রকৃতি তাই কবির কাছে এক অমীমাংসিত কাব্যপ্রহেলিকা—যার সৌন্দর্য তার রহস্যের মধ্যেই।

সঙ্গীতের অতুলনীয় মুহূর্ত

শেষাংশে কবি বীণাবাদকের উপমা এনেছেন। একজন গুণী শিল্পী প্রতিদিন বীণায় আলাপ করেন। কিন্তু কোনো একদিন, যখন চারপাশ সম্পূর্ণ নির্জন, সোনার ও রুপোর তারে এমন এক সুরের মিলন ঘটে, যা আর কোনোদিন পুনরাবৃত্তি হয় না।

সেই একবারের সঙ্গীতের সঙ্গে সেই মুহূর্তটিও চিরতরে মিশে যায়।

এখানে কবিতার প্রথম দিকের “হঠাৎ কাছে আসা” পূর্ণ সময়ের সঙ্গে শেষের বিরল সুরের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

‘আশ্চর্য!’—কবিতার চূড়ান্ত উপলব্ধি

শেষে কবি বলেন—

“অপূর্ব সুর যেদিন বেজেছিল

ঠিক সেইদিন আমি ছিলেম জগতে,

বলতে পেরেছিলেম–

আশ্চর্য!”

এই ‘আশ্চর্য’ শুধু বিস্ময় নয়। এটি অস্তিত্বের এক মুহূর্তের স্বীকৃতি। সেই অসাধারণ সৌন্দর্যের মুহূর্তে কবির নিজের অস্তিত্বও যেন অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তিনি সেই সুরের স্রষ্টা নন, কিন্তু সেই সুরের সাক্ষী ছিলেন। এই সাক্ষী হওয়াটিই তাঁর কাছে এক বিরল প্রাপ্তি।

কবিতাটির দার্শনিক তাৎপর্য

এই কবিতায় জীবনের মূল্যকে দীর্ঘতা দিয়ে নয়, গভীরতা দিয়ে বিচার করা হয়েছে। মানুষের জীবন অসংখ্য সাধারণ মুহূর্তে পূর্ণ হলেও মাঝে মাঝে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলি সমগ্র জীবনের অর্থকে নতুনভাবে অনুভব করায়।

সেই মুহূর্তকে ধরে রাখার জন্য ভাষা, সঙ্গীত বা শিল্পের চেষ্টা চলে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার একটি অংশ অনির্বচনীয় থেকে যায়।

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় তাই প্রকৃতি, সঙ্গীত ও নীরবতা একই অভিজ্ঞতার তিনটি রূপ হয়ে ওঠে। প্রথমে মানুষ কথা বলে, হাসে, গান ও বাদ্যযন্ত্র সঙ্গে নিয়ে আসে; তারপর প্রকৃতির মহিমার সামনে সব শব্দ স্তব্ধ হয়; শেষে থাকে কেবল বিস্ময়।

সংক্ষেপে

‘জীবনে নানা সুখদুঃখের এলোমেলো ভিড়ের’ কবিতাটি মূলত একটি বিরল পূর্ণ মুহূর্তের স্মৃতিচিত্র। দার্জিলিঙের সিঞ্চল পাহাড়ে এক সন্ধ্যায় প্রকৃতির মহিমার সামনে কবি ও তাঁর সঙ্গীদের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়। অস্তসূর্য, বিস্তীর্ণ উপত্যকা, পূর্ণচন্দ্র এবং কল্পিত সুরের সঙ্গে মিলিত হয়ে সেই মুহূর্ত এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্যে পরিণত হয়।

জীবনের অসংখ্য সাধারণ অভিজ্ঞতার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত পাওয়াই যেন হঠাৎ পাথরের ভিড় থেকে একটি হীরে কুড়িয়ে পাওয়া। আর সেই মুহূর্তে নিজের অস্তিত্বকে আবিষ্কার করে কবির শেষ উচ্চারণ—“আশ্চর্য!”

মন্তব্য করুন