পত্রপুট কাব্যগ্রন্থ (১৯৩৮) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পত্রপুট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্ত্যপর্বের কাব্যসৃষ্টির একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ (১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে)। পরবর্তীতে ২৫ কার্তিক ১৩৪৫ (১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে) দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রথম সংস্করণে ১৬টি কবিতা ছিল; দ্বিতীয় সংস্করণে ‘উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে’ এবং ‘যুদ্ধের দামামা উঠল বেজে’—এই দুটি কবিতা নতুন করে সংযোজিত হওয়ায় দ্বিতীয় সংস্করণে কবিতার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮।

প্রকাশনা-তথ্য

গ্রন্থ: পত্রপুট
কবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থন-বিভাগ
প্রকাশস্থান: কলকাতা
প্রথম সংস্করণ: ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৩
দ্বিতীয় সংস্করণ: ২৫ কার্তিক, ১৩৪৫ / ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ
মূল্য: এক টাকা মাত্র
মুদ্রণ: শান্তিনিকেতন প্রেস
মুদ্রাকর: প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক: শ্রীকিশোরীমোহন সাঁতরা

মূল ১৯৩৮ সংস্করণের মুদ্রণতথ্যে বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় ও বিশ্বভারতী গ্রন্থন-বিভাগের ঠিকানা হিসেবে ২১০, কর্নওয়ালিস স্ট্রিট, কলকাতা দেওয়া আছে।

পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রপুট গ্রন্থের উৎসর্গে শ্রীমান কৃষ্ণ কৃপালানি ও শ্রীমতী নন্দিতার শুভ পরিণয় উপলক্ষে আশীর্বাদ নিবেদন করেন। উৎসর্গটির তারিখ শান্তিনিকেতন, ১২ বৈশাখ ১৩৪৩।

কল্যাণীয় শ্রীমান কৃষ্ণ কৃপালানি ও

কল্যাণীয়া শ্রীমতী নন্দিতার

শুভ পরিণয় উপলক্ষ্যে

আশীর্বাদ—

নব জীবনের ক্ষেত্রে দুজনে মিলিয়া একমনা
যে নব সংসার তব প্রেমমন্ত্রে করিছ রচনা
দুঃখ সেথা দিক্ বীর্য, সুখ দিক্ সৌন্দর্যের সুধা,
মৈত্রীর আসনে সেথা নিক্ স্থান প্রসন্ন বসুধা,
হৃদয়ের তারে তারে অসংশয় বিশ্বাসের বীণা
নিয়ত সত্যের সুরে মধুময় করুক আঙিনা।
সমুদার আমন্ত্রণে মুক্তদ্বার গৃহের ভিতরে
চিত্ত তব নিখিলের নিত্য যেন আতিথ্য বিতরে।
প্রত্যহের আলিম্পনে দ্বারপথে থাকে যেন লেখা
সুকল্যাণী দেবতার অদৃশ্য চরণচিহ্নরেখা।
শুচি যাহা, পুণ্য যাহা, সুন্দর যা, যাহা কিছু শ্রেয়,
নিরলস সমাদরে পায় যেন তাহাদের দেয়।
তোমার সংসার ঘেরি’, নন্দিতা, নন্দিত তব মন
সরল মাধুর্যরসে নিজেরে করুক সমর্পণ।
তোমাদের আকাশেতে নির্মল আলোর শঙ্খনাদ
তার সাথে মিলে থাক্ দাদামশায়ের আশীর্বাদ॥

শান্তিনিকেতন
১২ বৈশাখ, ১৩৪৩

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

“পত্রপুটে”-র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হইল। ইহাতে, যোলো এবং সতেরো সংখ্যক কবিতা দুইটি এবারে নূতন যোগ করা হইয়াছে।

২৫শে কার্তিক, ১৩৪৫

প্রকাশক

সম্পাদকীয় নোট: উপরের অংশটি ১৯৩৮ সালের দ্বিতীয় সংস্করণের মূল মুদ্রিত পাঠ অনুসরণে রাখা হয়েছে; “যোলো” শব্দটিও মূল পাঠের বানান অনুযায়ী অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সূচি

পত্রপুট-এর প্রথম সংস্করণ ও পরবর্তী সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ১৯৩৬ সালের প্রথম সংস্করণে পত্রপুট-এ ১৬টি কবিতা ছিল। ১৯৩৮ সালের দ্বিতীয় সংস্করণে ১৬ ও ১৭ নম্বর কবিতা হিসেবে দুটি নতুন রচনা যুক্ত হয়। গ্রন্থে মোট ১৮টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়।

প্রথম সংস্করণের ১৮টি কবিতা

আপনার তালিকাটি সামান্য বানান/নাম সংশোধন করে এভাবে রাখা ভালো:

১. জীবনে নানা সুখদুঃখের এলোমেলো ভিড়ের মধ্যে
২. আমার ছুটি চারদিকে ধু ধু করছে
৩. আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো, পৃথিবী
৪. একদিন আষাঢ়ে নামল
৫. সন্ধ্যা এল চুল এলিয়ে
৬. অতিথিবৎসল, ডেকে নাও পথের পথিককে
৭. চোখ ঘুমে ভেরে আসে
৮. আমাকে এনে দিল এই বুনো চারাগাছটি
৯. হেঁকে উঠল ঝড়
১০. এই দেহখানা বহন করে আসছে দীর্ঘকাল
১১. ফাল্গুনের রঙিন আবেশ
১২. বসেছি অপরাহ্নে পারের খেয়াঘাটে
১৩. হৃদয়ের অসংখ্য অদৃশ্য পত্রপুট
১৪. গো তরুণী
১৫. ওরা অন্ত্যজ, ওরা মন্ত্রবর্জিত
১৬. উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
১৭. যুদ্ধের দামামা উঠল বেজে
১৮. কথার উপরে কথা চলেছ সাজিয়ে দিনরাতি

 

পত্রপুট-এর কয়েকটি কবিতা পূর্বে অন্য নামে বা অন্য পাঠরূপে প্রকাশিত হয়েছিল। যেমন ‘উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে’-এর পূর্বনাম ছিল ‘আফ্রিকা’, ‘যুদ্ধের দামামা উঠল বেজে’-এর পূর্বনাম ‘বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি’, এবং ‘চোখ ঘুমে ভেরে আসে’-এর পূর্বনাম ‘সার্থক আলস্য’। এই পূর্বনামগুলো মূল সূচির পরিবর্তে আলাদা গ্রন্থপাঠ-তথ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

দুটি বানান বিশেষভাবে সংশোধন করুন

বিচিত্রা-র সূচিতে দুটিই যথাক্রমে “চোখ ঘুমে ভেরে আসে” এবং “ফাল্গুনের রঙিন আবেশ” হিসেবে আছে।

কিন্তু পরবর্তী সংস্করণে কী হয়েছে?

এখানেই বিষয়টি আকর্ষণীয়। পত্রপুট-এর ১৯৩৮ সালের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই উল্লেখ করেছেন যে ১৬ ও ১৭ নম্বর কবিতা—“উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে” এবং “যুদ্ধের দামামা উঠল বেজে”—এই সংস্করণে নতুন করে যোগ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ:

  • প্রথম সংস্করণ (২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ / ১৯৩৬)১৬টি কবিতা
  • দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৩৮)১৮টি কবিতা

বিচিত্রা-র সূচিতে কবিতাগুলোর পূর্বপ্রকাশিত/বিকল্প নামও পাওয়া যায়—যেমন ১ নম্বরের পূর্বনাম “শেষের মৌন”, ৭ নম্বরের “বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি”, ৮ নম্বরের “নিবেদন”, ১০ নম্বরের “পৃথিবী”, ১১ নম্বরের “বিস্ময়”, ১৬ নম্বরের “আফ্রিকা” ইত্যাদি।

মন্তব্য করুন