পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের ‘পৃথিবী’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পৃথিবী’ কবিতাটি তাঁর পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি গভীর দার্শনিক ও জীবনমুখী সৃষ্টি। কবিতাটি রচিত হয় ১৬ অক্টোবর ১৯৩৫, শান্তিনিকেতনে; পরে পত্রপুট কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়। পত্রপুট ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীকে কেবল প্রকৃতির একটি গ্রহ হিসেবে দেখেননি। পৃথিবী এখানে একই সঙ্গে জীবন, সংগ্রাম, মৃত্যু, সৃষ্টি, সভ্যতা, ইতিহাস, প্রকৃতি এবং মানবঅস্তিত্বের বিশাল ক্ষেত্র। কবি পৃথিবীর কাছে তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রণতি নিবেদন করছেন—কিন্তু সেই প্রণতি কোনো সরল প্রশংসা নয়। পৃথিবী তাঁর কাছে যেমন স্নিগ্ধ ও অন্নপূর্ণা, তেমনি নির্মম ও হিংস্র; যেমন জীবনদাত্রী, তেমনি ধ্বংস ও মৃত্যুর আধার।

কবিতাটির শেষে কবি অমরত্ব দাবি করেন না। বরং তাঁর দীর্ঘ জীবনের অর্জনের সামান্যতম সত্যমূল্য যদি পৃথিবীর কাছে থেকে থাকে, তবে সেই জীবনের স্মারক হিসেবে পৃথিবীর মাটির একটি তিলকই তিনি প্রার্থনা করেন। এই বিনয়ী প্রার্থনার মধ্যেই কবিতাটি ব্যক্তিমানুষের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং পৃথিবীর দীর্ঘ, প্রায় অনন্ত সময়ের সামনে মানুষের অবস্থানকে অসাধারণ গভীরতায় তুলে ধরে।

 

Table of Contents

পৃথিবী কবিতার মৌলিক তথ্য

বিষয়তথ্য
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থপত্রপুট
কবিতার নামপৃথিবী
রচনাকাল১৬ অক্টোবর ১৯৩৫
রচনাস্থানশান্তিনিকেতন
গ্রন্থপ্রকাশ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ / ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দ
পর্বরবীন্দ্রনাথের অন্ত্যপর্ব
বিষয়পৃথিবী, প্রকৃতি, মানবসভ্যতা, সংগ্রাম, জীবন, মৃত্যু ও আত্মসমর্পণ
প্রধান প্রতীকপৃথিবী, মাটি, ধূলি, অন্নপূর্ণা, মরুভূমি, ঝড়, সূর্য, ইতিহাস
কেন্দ্রীয় ভাবপৃথিবীর কাছে মানুষের বিনম্র আত্মসমর্পণ এবং ক্ষণস্থায়ী মানবজীবনের চিরন্তন পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক

পত্রপুট ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ বঙ্গাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্র-রচনাবলী-র গ্রন্থপরিচয়েও এই প্রকাশকাল উল্লেখ আছে।

 

কবি পরিচিতি ও কবিতার প্রেক্ষাপট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর পৃথিবী ও মানবসভ্যতা-সম্পর্কিত ভাবনা আরও গভীর, জটিল এবং ইতিহাসসচেতন হয়ে ওঠে। তাঁর প্রথম দিকের কবিতায় যে প্রকৃতি সৌন্দর্য, প্রেম ও আত্মিক প্রশান্তির আশ্রয় হিসেবে উপস্থিত হয়, অন্ত্যপর্বে সেই প্রকৃতির পাশাপাশি দেখা যায় তার কঠোরতা, সংঘর্ষ, মৃত্যু এবং ধ্বংসের শক্তিও।

‘পৃথিবী’ সেই পরিণত দৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

কবিতায় পৃথিবীকে কবি সম্বোধন করেছেন এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে। সে একই সঙ্গে “স্নিগ্ধ” ও “হিংস্র”, “পুরাতনী” এবং “নিত্যনবীনা”। পৃথিবীর ইতিহাসে যেমন প্রাণের বিকাশ ঘটেছে, তেমনি ঘটেছে ধ্বংস, বিলুপ্তি ও সভ্যতার পতন।

রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীর ইতিহাসকে কেবল মানবজাতির ইতিহাস হিসেবে দেখেননি। তিনি সেই ইতিহাসকে দেখেছেন জড়জগত থেকে প্রাণের উত্থান, বর্বরতার বিরুদ্ধে জীবনের বিকাশ, সভ্যতার নির্মাণ এবং মানুষের আত্মবিধ্বংসী প্রবণতার দীর্ঘ ধারাবাহিকতা হিসেবে।

 

পৃথিবী সম্পূর্ণ কবিতা

আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো, পৃথিবী,
শেষ নমস্কারে অবনত দিনাবসানের বেদীতলে।
মহাবীর্যবতী, তুমি বীরভোগ্যা,
বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে,
মিশ্রিত তোমার প্রকৃতি পুরুষে নারীতে;
মানুষের জীবন দোলায়িত করো তুমি দুঃসহ দ্বন্দ্বে।

ডান হাতে পূর্ণ করো সুধা
বাম হাতে পূর্ণ করো পাত্র,
তোমার লীলাক্ষেত্র মুখরিত করো অট্টবিদ্রূপে;
দুঃসাধ্য করো বীরের জীবনকে মহৎজীবনে যার অধিকার।
শ্রেয়কে করো দুর্মূল্য,
কৃপা করো না কৃপাপাত্রকে।
তোমার গাছে গাছে প্রচ্ছন্ন রেখেছ প্রতি মুহূর্তের সংগ্রাম,
ফলে শস্যে তার জয়মাল্য হয় সার্থক।

জলে স্থলে তোমার ক্ষমাহীন রণরঙ্গভূমি,
সেখানে মৃত্যুর মুখে ঘোষিত হয় বিজয়ী প্রাণের জয়বার্তা।
তোমার নির্দয়তার ভিত্তিতে উঠেছে সভ্যতার জয়তোরণ,
ত্রুটি ঘটলে তার পূর্ণ মূল্য শোধ হয় বিনাশে।

তোমার ইতিহাসের আদিপর্বে দানবের প্রতাপ ছিল দুর্জয়,
সে পরুষ, সে বর্বর, সে মূঢ়।
তার অঙ্গুলি ছিল স্থূল, কলাকৌশলবর্জিত;
গদা-হাতে মুষল-হাতে লণ্ডভণ্ড করেছে সে সমুদ্র পর্বত;
অগ্নিতে বাষ্পেতে দুঃস্বপ্ন ঘুলিয়ে তুলেছে আকাশে।

জড়রাজত্বে সে ছিল একাধিপতি,
প্রাণের ’পরে ছিল তার অন্ধ ঈর্ষা।
দেবতা এলেন পরযুগে—
মন্ত্র পড়লেন দানবদমনের,
জড়ের ঔদ্ধত্য হল অভিভূত;
জীবধাত্রী বসলেন শ্যামল আস্তরণ পেতে।

উষা দাঁড়ালেন পূর্বাচলের শিখরচূড়ায়,
পশ্চিমসাগরতীরে সন্ধ্যা নামলেন মাথায় নিয়ে শান্তিঘট।
নম্র হল শিকলে-বাঁধা দানব,
তবু সেই আদিম বর্বর আঁকড়ে রইল তোমার ইতিহাস।
ব্যবস্থার মধ্যে সে হঠাৎ আনে বিশৃঙ্খলতা,
তোমার স্বভাবের কালো গর্ত থেকে
হঠাৎ বেরিয়ে আসে এঁকেবেঁকে।

তোমার নাড়ীতে লেগে আছে তার পাগলামি।
দেবতার মন্ত্র উঠছে আকাশে বাতাসে অরণ্যে
দিনে রাত্রে
উদাত্ত অনুদাত্ত মন্দ্রস্বরে।
তবু তোমার বক্ষের পাতাল থেকে আধপোষা নাগদানব
ক্ষণে ক্ষণে উঠছে ফণা তুলে,
তার তাড়নায় তোমার আপন জীবকে করছ আঘাত,
ছারখার করছ আপন সৃষ্টিকে।

শুভে অশুভে স্থাপিত তোমার পাদপীঠে,
তোমার প্রচণ্ড সুন্দর মহিমার উদ্দেশে
আজ রেখে যাব আমার ক্ষতচিহ্নলাঞ্ছিত জীবনের প্রণতি।

বিরাট প্রাণের, বিরাট মৃত্যুর গুপ্তসঞ্চার
তোমার যে মাটির তলায়
তাকে আজ স্পর্শ করি, উপলব্ধি করি সর্ব দেহে মনে।
অগণিত যুগযুগান্তরের
অসংখ্য মানুষের লুপ্ত দেহ পুঞ্জিত তার ধুলায়।

আমিও রেখে যাব কয় মুষ্টি ধূলি
আমার সমস্ত সুখদুঃখের শেষ পরিণাম—
রেখে যাব এই নামগ্রাসী, আকারগ্রাসী, সকল-পরিচয়-গ্রাসী
নিঃশব্দ মহাধূলিরাশির মধ্যে।

অচল অবরোধে আবদ্ধ পৃথিবী, মেঘলোকে উধাও পৃথিবী,
গিরিশৃঙ্গমালার মহৎ মৌনে ধ্যানমগ্না পৃথিবী,
নীলাম্বুরাশির অতন্দ্রতরঙ্গে কলমন্দ্রমুখরা পৃথিবী,
অন্নপূর্ণা তুমি সুন্দরী, অন্নরিক্তা তুমি ভীষণা।

এক দিকে আপক্কধান্যভারনম্র তোমার শস্যক্ষেত্র,
সেখানে প্রসন্ন প্রভাতসূর্য প্রতিদিন মুছে নেয় শিশিরবিন্দু
কিরণ-উত্তরীয় বুলিয়ে দিয়ে।
অস্তগামী সূর্য শ্যামশস্যহিল্লোলে রেখে যায় অকথিত এই বাণী—
“আমি আনন্দিত”।

অন্য দিকে তোমার জলহীন ফলহীন আতঙ্কপাণ্ডুর মরুক্ষেত্রে
পরিকীর্ণ পশুকঙ্কালের মধ্যে মরীচিকার প্রেতনৃত্য।

বৈশাখে দেখেছি বিদ্যুৎচঞ্চুবিদ্ধ দিগন্তকে ছিনিয়ে নিতে এল
কালো শ্যেনপাখির মতো তোমার ঝড়,
সমস্ত আকাশটা ডেকে উঠল যেন কেশর-ফোলা সিংহ,
তার লেজের ঝাপটে ডালপালা আলুথালু ক’রে
হতাশ বনস্পতি ধুলায় পড়ল উবুড় হয়ে।

হাওয়ার মুখে ছুটল ভাঙা কুঁড়ের চাল
শিকল-ছেঁড়া কয়েদি-ডাকাতের মতো।
আবার ফাল্গুনে দেখেছি তোমার আতপ্ত দক্ষিণে হাওয়া
ছড়িয়ে দিয়েছে বিরহমিলনের স্বগতপ্রলাপ
আম্রমুকুলের গন্ধে।

চাঁদের পেয়ালা ছাপিয়ে দিয়ে উপচিয়ে পড়েছে
স্বর্গীয় মদের ফেনা।
বনের মর্মরধ্বনি ঝঞ্ঝাবায়ুর স্পর্ধায় ধৈর্য হারিয়েছে
অকস্মাৎ কল্লোচ্ছ্বাসে।

স্নিগ্ধ তুমি, হিংস্র তুমি, পুরাতনী, তুমি নিত্যনবীনা,
অনাদি সৃষ্টির যজ্ঞহুতাগ্নি থেকে বেরিয়ে এসেছিলে
সংখ্যাগণনার অতীত প্রত্যুষে,
তোমার চক্রতীর্থের পথে পথে ছড়িয়ে এসেছ
শতশত ভাঙা ইতিহাসের অর্থলুপ্ত অবশেষ—
বিনা বেদনায় বিছিয়ে এসেছ তোমার বর্জিত সৃষ্টি
অগণ্য বিস্মৃতির স্তরে স্তরে।

জীবপালিনী, আমাদের পুষেছ
তোমার খণ্ডকালের ছোটো ছোটো পিঞ্জরে।
তারই মধ্যে সব খেলার সীমা,
সব কীর্তির অবসান।

আজ আমি কোনো মোহ নিয়ে আসি নি তোমার সম্মুখে,
এতদিন যে দিনরাত্রির মালা গেঁথেছি বসে বসে
তার জন্যে অমরতার দাবি করব না তোমার দ্বারে।

তোমার অযুত নিযুত বৎসর সূর্যপ্রদক্ষিণের পথে
যে বিপুল নিমেষগুলি উন্মীলিত নিমীলিত হতে থাকে
তারই এক ক্ষুদ্র অংশে কোনো একটি আসনের
সত্যমূল্য যদি দিয়ে থাকি,
জীবনের কোনো একটি ফলবান খণ্ডকে
যদি জয় করে থাকি পরম দুঃখে
তবে দিয়ো তোমার মাটির ফোঁটার একটি তিলক আমার কপালে;

সে চিহ্ন যাবে মিলিয়ে
যে রাত্রে সকল চিহ্ন পরম অচিনের মধ্যে যায় মিশে।

হে উদাসীন পৃথিবী,
আমাকে সম্পূর্ণ ভোলবার আগে
তোমার নির্মম পদপ্রান্তে
আজ রেখে যাই আমার প্রণতি।

শান্তিনিকেতন, ১৬ অক্টোবর ১৯৩৫

 

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

Prithibi Kobita Romanized Version

Aj amar praṇati grahaṇ koro, prithibi,
Śeṣ namaskāre abanata dinābasāner bedītale.
Mahābīryabatī, tumi bīrabhogyā,
Biparīta tumi lalite kaṭhore,
Miśrita tomār prakṛti puruṣe nārīte;
Mānuṣer jīban dolāyita koro tumi duḥsaha dwande.

Ḍān hāte pūrṇa koro sudhā
Bām hāte pūrṇa koro pātra,
Tomār līlāketra mukharita koro aṭṭabidrupe;
Duḥsādhy koro bīrer jībanake mahatjībane yār adhikār.
Śreyake koro durmūlya,
Kṛpā koro nā kṛpāpātrake.
Tomār gāche gāche pracchanna rekhechho prati muhūrter saṅgrām,
Phale śasye tār jayamālya hay sārthak.

Jale sthale tomār kṣamāhīn raṇaraṅgabhūmi,
Sekhāne mṛtyur mukhe ghoṣita hay bijayī prāṇer jayabārtā.
Tomār nirdayatār bhittite uṭhechhe sabhyatār jayatoraṇ,
Truṭi ghaṭle tār pūrṇa mūlya śodh hay bināśe.

Tomār itihāser ādiparbe dānaber pratāp chhilo durjay,
Se paruṣ, se barbar, se mūṛh.
Tār aṅguli chhilo sthūl, kalākauśalbarjita;
Gadā-hāte muṣal-hāte laṇḍabhaṇḍa korechhe se samudra parbat;
Agni-te bāṣpete duḥswapna ghulie tulechhe ākāśe.

Jaṛarājattve se chhilo ekādhipati,
Prāṇer ’pare chhilo tār andha īrṣā.
Debatā elen parajuge—
Mantra paṛlen dānabadamaner,
Jaṛer auddhatya holo abhibhūta;
Jībadhrātrī baslen śyāmal āstaraṇ pete.

Uṣā dāṛālen pūrbāchaler śikharacūṛāy,
Paścimasāgaratīre sandhyā nāmlen māthāy niye śāntighaṭ.
Namra holo śikole-bãdhā dānab,
Tabu sei ādim barbar āṅkṛe roil tomār itihās.
Byabasthār madhye se haṭhāt āne biśṛṅkhalatā,
Tomār swabhāber kālo garta theke
Haṭhāt beriye āse eṅkebeṅke.

Tomār nāṛīte lege āchhe tār pāgalāmi.
Debatār mantra uṭhchhe ākāśe bātāse araṇye
Dine rātre
Udātta anudātta mandrasware.
Tabu tomār bakṣer pātāl theke ādhapoṣā nāgadānab
Kṣaṇe kṣaṇe uṭhchhe phaṇā tule,
Tār tāṛanāy tomār āpan jībke korchho āghāt,
Chārkhār korchho āpan sṛṣṭike.

Śubhe aśubhe sthāpita tomār pādapiṭhe,
Tomār pracanḍa sundar mahimār uddeśe
Āj rekhe jāb āmār kṣata-cihnalāñchhita jībaner praṇati.

Birāṭ prāṇer, birāṭ mṛtyur guptasañcār
Tomār je māṭir talāy
Tāke āj sparśa kari, upalabdhi kari sarba dehe mane.
Agaṇita jugajugāntarer
Aśaṅkhya mānuṣer lupta deha puñjita tār dhulāy.

Āmio rekhe jāb koy muṣṭi dhūli
Āmār samasta sukhaduḥkher śeṣ pariṇām—
Rekhe jāb ei nāmagrāsī, ākāragrāsī, sakal-paricayagrāsī
Niḥśabda mahādhūlirāśir madhye.

Acal abarodhe ābaddha prithibī, meghaloke udāo prithibī,
Giriśṛṅgamālār mahat maune dhyānamagnā prithibī,
Nīlāmburāśir atandrataraṅge kalamandramukharā prithibī,
Annapūrṇā tumi sundarī, annarikta tumi bhiṣaṇā.

Ek dike āpakka-dhānyabhāranamra tomār śasyakṣetra,
Sekhāne prasanna prabhātsūrya pratidin muche ney śiśirabindu
Kiraṇ-uttarīya bũliye diye.
Astagāmī sūrya śyāmaśasya-hillole rekhe yāy akathita ei bāṇī—
“Āmi ānandita.”

Anya dike tomār jalahīn phalahīn ātaṅkapāṇḍur marukṣetre
Parikīrṇa paśukaṅkāler madhye marīcikār pretanṛtya.

Baiśākhe dekhechhi bidyucchancubiddha digantake chhinie nite el
Kālo śyenapākhir mato tomār jhaṛ,
Samasta ākāśṭā ḍeke uṭhlō yena keśar-pholā siṃha,
Tār lejer jhāpṭe ḍālpālā aluthālu kore
Hatāś banaspati dhulāy paṛlo ubur hoye.

Hāoyār mukhe chuṭlo bhāṅgā kuṛer chāl
Śikol-chheṛā koyedi-ḍākāter mato.
Ābār Phālgune dekhechhi tomār ātapta dakṣiṇe hāoyā
Chhoṛiye diyechhe birahamiler swagatapralāp
Āmramukuler gandhe.

Chānder peyālā chhāpiye diye upacie paṛechhe
Swargīya mader phenā.
Boner marmaradhwani jhañjhābāyer spardhāy dhairya hāriechhe
Akasmāt kallolocchhāse.

Snigdha tumi, hiṃsra tumi, purātanī, tumi nityanabīnā,
Anādi sṛṣṭir yajñahutāgni theke beriye esechhile
Saṅkhyāgaṇanār atīt pratyuṣe,
Tomār cakratīrther pathe pathe chhoṛiye esechho
Śataśata bhāṅgā itihāser arthalupṭa abaśeṣ—
Binā bedanāy bichhiye esechho tomār barjita sṛṣṭi
Agaṇya bismṛtir stare stare.

Jībapālinī, āmāder puṣhechho
Tomār khaṇḍakāler chhoṭo chhoṭo piñjare.
Tāri madhye sab khelār sīmā,
Sab kīrtir abasān.

Āj āmi kono moha niye āsi ni tomār sammukhe,
Etadin je dinrātrir mālā gẽthechhi bose bose
Tār janye amaratar dābi korab na tomār dwāre.

Tomār ayuta niyuta batsar sūryapradakṣiṇer pathe
Je bipul nimeṣguli unmīlita nimīlita hote thāke
Tāri ek kṣudra aṃśe kono ekṭi āsaner
Satyamūlya jadi diye thāki,
Jībaner kono ekṭi phalabān khaṇḍake
Jadi jay kare thāki param duḥkhe
Tabe diyo tomār māṭir phoṭār ekṭi tilak āmār kopāle;

Se cihna jābe miliye
Je rātre sakal cihna param aciner madhye yāy miśe.

He udāsīn prithibī,
Āmāke sampūrṇa bhulbar āge
Tomār nirmam pādaprānte
Āj rekhe yāi āmār praṇati.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

‘পৃথিবী’ কবিতার মূল সুর হলো পৃথিবীর প্রতি মানুষের প্রণতি এবং নিজের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্ব সম্পর্কে এক পরিণত উপলব্ধি। কিন্তু কবিতাটি শুধু প্রকৃতিবন্দনা নয়। পৃথিবীর সৌন্দর্য ও নিষ্ঠুরতা, জীবন ও মৃত্যু, সৃষ্টি ও বিনাশ—সবকিছুকে একই বৃহৎ বাস্তবতার মধ্যে রেখে রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীকে দেখেছেন।

১. পৃথিবীর কাছে শেষ প্রণতি

কবিতার শুরুতেই কবি বলেন—

“আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো, পৃথিবী,
শেষ নমস্কারে অবনত দিনাবসানের বেদীতলে।”

“দিনাবসান” এখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু দিনের শেষ নয়; কবির নিজের দীর্ঘ জীবনেরও অন্তিম প্রান্তের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি পৃথিবীর কাছে আসছেন “শেষ নমস্কারে”।

২. পৃথিবী কোমল ও কঠোর—দুই-ই

পৃথিবীকে কবি একমাত্র সৌন্দর্যের আধার হিসেবে দেখেননি। তাঁর পৃথিবী—

“বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে,
মিশ্রিত তোমার প্রকৃতি পুরুষে নারীতে”

অর্থাৎ পৃথিবীর প্রকৃতিতে বিপরীত শক্তিগুলি পাশাপাশি কাজ করে। কোমলতা ও কঠোরতা, সৃষ্টি ও ধ্বংস, প্রেম ও সংঘর্ষ—সবই পৃথিবীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

৩. সংগ্রামই জীবনের ভিত্তি

কবিতায় পৃথিবীর গাছ, শস্য, প্রাণী ও সভ্যতা—সবকিছুর ভিতরে সংগ্রামের উপস্থিতি রয়েছে।

“তোমার গাছে গাছে প্রচ্ছন্ন রেখেছ প্রতি মুহূর্তের সংগ্রাম,
ফলে শস্যে তার জয়মাল্য হয় সার্থক।”

এখানে সংগ্রামকে নিছক দুর্ভোগ হিসেবে নয়, জীবনের বিকাশের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে।

৪. সভ্যতার ভিত্তিতে কঠোর বাস্তবতা

কবি বলেন—

“তোমার নির্দয়তার ভিত্তিতে উঠেছে সভ্যতার জয়তোরণ,
ত্রুটি ঘটলে তার পূর্ণ মূল্য শোধ হয় বিনাশে।”

সভ্যতা পৃথিবীর কোমল দানে একা গড়ে ওঠেনি। তার পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, প্রতিকূলতা, ব্যর্থতা এবং কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মানুষের লড়াই।

৫. দানব থেকে প্রাণের জয়

কবিতার একটি বড় অংশে পৃথিবীর আদিম ইতিহাসকে রূপকধর্মী ভাষায় দেখানো হয়েছে। প্রথমে ছিল জড়ের শক্তি ও “দানবের” আধিপত্য। পরে প্রাণের আবির্ভাব সেই জড়শক্তিকে অতিক্রম করে।

“জড়ের ঔদ্ধত্য হল অভিভূত;
জীবধাত্রী বসলেন শ্যামল আস্তরণ পেতে।”

এখানে “জীবধাত্রী” পৃথিবীর প্রাণদাত্রী রূপের প্রতীক।

৬. আদিম বর্বরতার অবশেষ

জীবনের বিকাশ ঘটলেও আদিম বর্বরতা সম্পূর্ণ বিলীন হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে সেই পুরোনো শক্তি বারবার ফিরে আসে।

“তোমার নাড়ীতে লেগে আছে তার পাগলামি।”

এখানে মানুষের সভ্যতার মধ্যেও হিংসা, বিশৃঙ্খলা ও আত্মবিনাশী প্রবৃত্তির উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৭. সৃষ্টি ও ধ্বংসের দ্বৈততা

পৃথিবী একদিকে “জীবপালিনী”, অন্যদিকে মৃত্যুর ক্ষেত্র। সে অন্নপূর্ণা, আবার মরুভূমিও তারই অংশ।

“অন্নপূর্ণা তুমি সুন্দরী, অন্নরিক্তা তুমি ভীষণা।”

এই দ্বৈততাই কবিতাটির অন্যতম কেন্দ্রীয় দর্শন। পৃথিবীকে একমাত্র শুভ বা একমাত্র অশুভ হিসেবে বিচার করা যায় না।

৮. শস্যক্ষেত্র ও মরুভূমি

একদিকে কবি দেখছেন—

“আপক্কধান্যভারনম্র তোমার শস্যক্ষেত্র”

অন্যদিকে—

“জলহীন ফলহীন আতঙ্কপাণ্ডুর মরুক্ষেত্র”

একই পৃথিবীতে উর্বরতা ও অনুর্বরতা পাশাপাশি। এই বৈপরীত্য পৃথিবীর প্রকৃতির গভীর বাস্তবতাকে প্রকাশ করে।

৯. ঋতুর মধ্যে পৃথিবীর বহুরূপ

বৈশাখের ঝড় এবং ফাল্গুনের দক্ষিণী হাওয়া—দুই বিপরীত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর রূপান্তরশীল প্রকৃতিকে কবি দেখিয়েছেন।

বৈশাখে পৃথিবী যেন হিংস্র—

“কালো শ্যেনপাখির মতো তোমার ঝড়”

আবার ফাল্গুনে সে প্রেম ও বিরহের আবেগে পূর্ণ—

“ছড়িয়ে দিয়েছে বিরহমিলনের স্বগতপ্রলাপ
আম্রমুকুলের গন্ধে।”

১০. পৃথিবী পুরাতনী, আবার নিত্যনবীনা

কবিতার অন্যতম স্মরণীয় পঙ্‌ক্তি—

“স্নিগ্ধ তুমি, হিংস্র তুমি, পুরাতনী, তুমি নিত্যনবীনা,”

পৃথিবী কোটি কোটি বছরের পুরোনো, কিন্তু তার জীবনপ্রবাহ প্রতিনিয়ত নতুন। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টি আসে; পুরোনো ইতিহাসের স্তরের ওপর নতুন জীবন গড়ে ওঠে।

১১. মানুষের দেহও একদিন পৃথিবীর ধূলি

কবি পৃথিবীর মাটির নিচে অগণিত মানুষের বিলীন দেহের কথা স্মরণ করেন—

“অগণিত যুগযুগান্তরের
অসংখ্য মানুষের লুপ্ত দেহ পুঞ্জিত তার ধুলায়।”

এই উপলব্ধি ব্যক্তিমানুষের অহংকারকে ক্ষুদ্র করে দেয়। মানুষ পৃথিবীতে আসে, জীবনযাপন করে, সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত সেই পৃথিবীর মাটিতেই ফিরে যায়।

১২. কবির নিজের পরিণতি

এই উপলব্ধির পর কবিও বলেন—

“আমিও রেখে যাব কয় মুষ্টি ধূলি
আমার সমস্ত সুখদুঃখের শেষ পরিণাম”

মানুষের নাম, পরিচয়, আকৃতি—সব একদিন বিলীন হবে। পৃথিবীর “মহাধূলিরাশি” সব ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে।

১৩. অমরত্বের দাবি নয়

কবিতার শেষ অংশে রবীন্দ্রনাথের বিনয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি পৃথিবীর কাছে নিজের জন্য অমরত্ব চান না—

“তার জন্যে অমরতার দাবি করব না তোমার দ্বারে।”

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের শেষে কবি নিজের কীর্তিকে অনন্ত বলে দাবি করছেন না। তিনি পৃথিবীর বিশাল সময়ের সামনে নিজের জীবনকে ক্ষুদ্র বলেই মেনে নিচ্ছেন।

১৪. মাটির তিলক

তাঁর একমাত্র প্রার্থনা—

“তবে দিয়ো তোমার মাটির ফোঁটার একটি তিলক আমার কপালে”

এই “মাটির তিলক” কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকগুলির একটি। এটি সম্মান, স্বীকৃতি, মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর কাছে মানুষের আত্মসমর্পণের প্রতীক।

১৫. চিহ্নও একদিন বিলীন হবে

তিলকটিও চিরস্থায়ী নয়—

“সে চিহ্ন যাবে মিলিয়ে
যে রাত্রে সকল চিহ্ন পরম অচিনের মধ্যে যায় মিশে।”

অর্থাৎ মানুষ তার কাজের চিহ্ন রেখে যেতে চাইলেও শেষ বিচারে সব পরিচয় ও চিহ্নই মহাকালের মধ্যে বিলীন হয়।

কবিতাটির দার্শনিক তাৎপর্য

‘পৃথিবী’ রবীন্দ্রনাথের অন্ত্যপর্বের এমন একটি কবিতা যেখানে মানবজীবনের ক্ষুদ্রতা এবং পৃথিবীর বিপুল কালপরিসর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

মানুষ তার জীবনে ভালোবাসে, সংগ্রাম করে, সৃষ্টি করে, সভ্যতা নির্মাণ করে। কিন্তু পৃথিবীর সময়ের তুলনায় মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষুদ্র। সেই উপলব্ধি কবিকে হতাশ করেনি; বরং বিনয়ী করেছে।

কবিতাটিতে পৃথিবী কোনো নিখুঁত স্বর্গ নয়। সেখানে মৃত্যু আছে, ধ্বংস আছে, মরুভূমি আছে, ঝড় আছে, বর্বরতা আছে। আবার সেখানেই শস্য, বসন্ত, জীবন, সৌন্দর্য ও সৃষ্টি আছে। এই দ্বৈততার মধ্যেই পৃথিবীর সত্য।

রবীন্দ্রনাথ তাই পৃথিবীর কাছে নিজের জীবনের হিসাব দাবি করছেন না। তিনি শুধু জানতে চাইছেন—এই বিপুল পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাসের ক্ষুদ্র একটি সময়ে তাঁর জীবন যদি সত্যিই কোনো মূল্যবান কাজ করে থাকে, তবে পৃথিবীর মাটির একটি ক্ষুদ্র চিহ্ন যেন তাঁর কপালে থাকে।

এই প্রার্থনা একই সঙ্গে বিনয়, আত্মসমর্পণ এবং জীবনের সার্থকতার স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা

‘পৃথিবী’ কবিতার প্রধান প্রতীক

  • পৃথিবী — জীবন, ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানবঅস্তিত্বের বৃহৎ ক্ষেত্র।
  • মাটি — জন্ম, মৃত্যু, অস্তিত্ব ও মানুষের চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন।
  • ধূলি — ব্যক্তিগত পরিচয়ের বিলয়।
  • অন্নপূর্ণা — পৃথিবীর জীবনধারণকারী ও পুষ্টিদাত্রী রূপ।
  • মরুভূমি — অভাব, অনুর্বরতা ও মৃত্যুর প্রতীক।
  • ঝড় — পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্যতা।
  • শস্যক্ষেত্র — জীবন, উর্বরতা ও সৃষ্টির জয়।
  • মাটির তিলক — পৃথিবীর কাছ থেকে মানুষের বিনম্র স্বীকৃতি।
  • দিনাবসান — কবির নিজের জীবনের অন্তিম পর্বের প্রতীক।
  • ধূলিরাশি — সকল নাম, পরিচয় ও অহংকারের চূড়ান্ত বিলয়।

কবিতাটির সারকথা

‘পৃথিবী’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর দীর্ঘ জীবনের শেষ প্রান্ত থেকে পৃথিবীর দিকে ফিরে তাকিয়েছেন। তিনি দেখেছেন তার সৌন্দর্য, কঠোরতা, সৃষ্টিশক্তি, ধ্বংসশক্তি, ইতিহাস এবং অসীম জীবনপ্রবাহ।

মানুষ পৃথিবীর কাছে ক্ষুদ্র; কিন্তু তার জীবন অর্থহীন নয়। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত কোনো সত্য, কোনো সৃষ্টি, কোনো ফলবান জীবনখণ্ড পৃথিবীর বৃহৎ ইতিহাসে সামান্য হলেও মূল্য বহন করতে পারে।

তাই কবির শেষ প্রার্থনা অমরত্ব নয়। তিনি চান পৃথিবীর মাটির একটি তিলক—যে তিলকও একদিন বিলীন হবে।

শেষে তাঁর কণ্ঠে তাই ফিরে আসে সেই বিনম্র উচ্চারণ—

“হে উদাসীন পৃথিবী,
আমাকে সম্পূর্ণ ভোলবার আগে
তোমার নির্মম পদপ্রান্তে
আজ রেখে যাই আমার প্রণতি।”

এই ‘প্রণতি’ কেবল একজন বৃদ্ধ কবির পৃথিবীর কাছে বিদায় নয়; এটি মানুষের সমস্ত অহংকার, অর্জন ও পরিচয়কে পৃথিবীর চিরন্তনতার কাছে সমর্পণের এক অসামান্য কাব্যিক মুহূর্ত।

রচনাকাল ও পাঠসূত্র

কবিতাটির পাণ্ডুলিপিতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন—“শান্তিনিকেতন, ১৬ অক্টোবর ১৯৩৫”। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচিত্রা প্রকল্পে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে ‘পৃথিবী’ কবিতার পাঠ এবং তারিখ উভয়ই দেখা যায়।

পত্রপুট কাব্যগ্রন্থ ২৫ বৈশাখ ১৩৪৩ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্র-রচনাবলী-র গ্রন্থপরিচয়েও এই প্রকাশকাল উল্লেখ রয়েছে।

উইকিসংকলনে সংরক্ষিত পত্রপুট-এর পাঠেও ‘পৃথিবী’ কবিতার সূচনা ও মূল পাঠ পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন