আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের ‘পরশ পাথর’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ (১৮৯৩/১৮৯৪) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, রূপকধর্মী ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক সৃষ্টি হলো ‘পরশ পাথর’। এই কবিতায় কাঙ্ক্ষিত বস্তুকে পাওয়ার পরেও অবহেলায় তা হারিয়ে ফেলার ট্র্যাজেডি এবং মানুষের চিরন্তন অন্বেষণ ও অভ্যাসের এক অপূর্ব এবং মরমী রূপ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য:
বিষয়বিবরণ
কবিতার নামপরশ পাথর
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থসোনার তরী
প্রকাশের তারিখ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১২৯৯ বঙ্গাব্দ (১৮৯২) / সোনার তরী কাব্যগ্রন্থভুক্ত
কবিতার ধরনরূপকধর্মী, দার্শনিক ও প্রতীকী গীতি-কবিতা (Symbolic, Philosophical and Allegorical Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৮৯৪ সালে প্রকাশিত ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থে মানবজীবনের অতৃপ্তি, প্রাপ্তি ও প্রাপ্তিহারানোর বেদনা এক অনন্য রূপ লাভ করেছিল। ‘পরশ পাথর’ কবিতায় এমন এক ক্ষ্যাপা সন্ন্যাসীর কথা বলা হয়েছে, যিনি সারাজীবন ধরে পরশ পাথর খুঁজে ফিরেছেন। তাঁর পরনে ছাই-ভস্ম ও মলিন কৌপীন, চোখে তীব্র জ্বালা এবং মনে কেবল পাথর খুঁজে পাওয়ার পণ। একদিন নুড়ি কুড়াতে কুড়াতে অজান্তেই সেই পরশ পাথর তাঁর হাতে এসেছিল এবং তাঁর লোহার শিকল সোনা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অভ্যাসবশে তিনি সেই পাথরটিকে নুড়ি ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দেন। যখন তাঁর মোহ ভাঙে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। হারানো রতনকে পুনরায় খুঁজে পাওয়ার অন্তহীন ও ক্ষয়িষ্ণু যাত্রায় তাঁর বাকি জীবন আবার উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে কবিতাটি শেষ হয়।

পরশ পাথর কবিতা (সম্পূর্ণ)

ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশ-পাথর।
মাথায় বৃহৎ জটা ধূলায় কাদায় কটা,
মলিন ছায়ার মত ক্ষীণকলেবর।
ওষ্ঠে অধরেতে চাপি’ অন্তরের দ্বার ঝাঁপি
রাত্রিদিন তীব্র জ্বালা জ্বেলে রাখে চোখে।
দুটো নেত্র সদা যেন নিশার খদ্যোৎ হেন
উড়ে’ উড়ে’ খুঁজে কারে নিজের আলোকে।
নাহি যার চাল চুলা গায়ে মাখে ছাই ধুলা,
কটিতে জড়ানো শুধু ধূসর কৌপীন,
ডেকে কথা কয় তারে। কেহ নাই এ সংসারে,
পথের ভিখারী হতে আরো দীনহীন,
তার এত অভিমান, সোণারূপা তুচ্ছজ্ঞান,
রাজসম্পদের লাগি’ নহে সে কাতর,
দশা দেখে’ হাসি পায়, আর কিছু নাহি চায়
একেবারে পেতে চায় পরশ-পাথর!

সম্মুখে গরজে সিন্ধু অগাধ অপার।
তরঙ্গে তরঙ্গ উঠি’ হেসে হল কুটিকুটি
ছাড়া পাগলের দেখিয়া ব্যাপার!

আকাশ রয়েছে চাহি, নয়নে নিমেষ নাহি,
হুহু করে’ সমীরণ ছুটেছে অবাধ।
সুর্য্য ওঠে প্রাতঃকালে পূর্ব্ব গগনের ভালে
সন্ধ্যাবেলা ধীরে ধীরে উঠে আসে চাঁদ।
জলরাশি অবিরল করিতেছে কলকল
অতল রহস্য যেন চাহে বলিবারে;—
কাম্যধন আছে কোথা জানে যেন সব কথা,
সে ভাষা যে বোঝে সেই খুঁজে নিতে পারে।
কিছুতে ভ্রূক্ষেপ নাহি, মহাগাথা গান গাহি’
সমুদ্র আপনি শুনে আপনার স্বর।
কেহ যায়, কেহ আসে, কেহ কাঁদে, কেহ হাসে,
ক্ষ্যাপা তীরে খুঁজে’ ফিরে পরশ-পাথর!

একদিন, বহুপূর্ব্বে, আছে ইতিহাস—
নিকষে সোনার রেখা সবে যেন দিল দেখা—
আকাশে প্রথম সৃষ্টি পাইল প্রকাশ;
মিলি’ যত সুরাসুর কৌতূহলে ভরপুর
এসেছিল পা টিপিয়া এই সিন্ধুতীরে,
অতলের পানে চাহি নয়নে নিমেষ নাহি
নীরবে দাঁড়ায়ে ছিল স্থির নতশিরে;
বহুকাল স্তব্ধ থাকি’ শুনেছিল মুদে’ আঁখি
এই মহাসমুদ্রের গতি চিরন্তন;
তার পরে কৌতুহলে ঝাঁপায়ে অগাধ জলে
করেছিল এ অনন্ত রহস্য মন্থন।

বহুকাল দুঃখ সেবি নিরখিল, লক্ষ্মীদেবী
উদিলা জগৎমাঝে অতুল সুন্দর।
সেই সমুদ্রের তীরে শীর্ণদেহে জীর্ণচীরে
ক্ষ্যাপা খুঁজে’ খুঁজে’ ফিরে পরশ-পাথর!

এতদিনে বুঝি তার ঘুচে গেছে আশ।
খুঁজে’ খুঁজে’ ফিরে তবু বিশ্রাম না জানে কভু,
আশা গেছে, যায় নাই খোঁজার অভ্যাস।
বিরহী বিহঙ্গ ডাকে সারানিশি তরুশাখে,
যারে ডাকে তার দেখা পায় না অভাগা!
তবু ডাকে সারাদিন আশাহীন শ্রান্তিহীন
একমাত্র কাজ তার ডেকে ডেকে জাগা’।
আর সব কাজ ভুলি’ আকাশে তরঙ্গ তুলি’
সমুদ্র না জানি কারে চাহে অবিরত!
যত করে হায় হায়, কোন কালে নাহি পায়
তবু শূন্যে তোলে বাহু, ওই তার ব্রত।
কারে চাহি ব্যোমতলে গ্রহতারা লয়ে চলে,
অনন্ত সাধনা করে বিশ্বচরাচর!
সেই মত সিন্ধুতটে ধূলিমাখা দীর্ঘজটে
ক্ষ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশ-পাথর!

একদা শুধাল তারে গ্রামবাসী ছেলে
“সন্ন্যাসীঠাকুর এ কি! কাঁকালে ওকিও দেখি!

সোনার শিকল তুমি কোথা হতে পেলে?”
সন্ন্যাসী চমকি ওঠে, শিকল সোনার বটে,
লোহা সে হয়েছে সোনা জানে না কখন।
একি কাণ্ড চমৎকার, তুলে দেখে বারবার,
আঁখি কচালিয়া দেখে, এ নহে স্বপন!
কপালে হানিয়া কর ব’সে পড়ে ভূমিপর,
নিজেরে করিতে চাহে নির্দ্দয় লাঞ্ছনা,—
পাগলের মত চায়— কোথা গেল, হায় হায়,
ধরা দিয়ে পলাইল সফল বাঞ্ছনা!
কেবল অভ্যাসমত নুড়ি কুড়াইত কত
ঠন্‌ করে’ ঠেকাইত শিকলের পর,
চেয়ে দেখিত না, নুড়ি দূরে ফেলে’ দিত ছুঁড়ি’
কখন্ ফেলেছে ছুঁড়ে’ পরশ-পাথর!

তখন যেতেছে অস্তে মলিন তপন।
আকাশ সোণার বর্ণ, সমুদ্র গলিত স্বর্ণ,
পশ্চিম দিগ্বধূ দেখে সোনার স্বপন!
সন্ন্যাসী আবার ধীরে পূর্ব্বপথে যায় ফিরে
খুঁজিতে নুতন করে’ হারানো রতন।
সে শকতি নাহি আর নুয়ে পড়ে দেহভার
অন্তর লুটায় ছিন্ন তরুর মতন।
পুরাতন দীর্ঘপথ পড়ে’ আছে মৃতবৎ
হেথা হতে কতদূর নাহি তার শেষ!

দিক্‌ হতে দিগন্তরে মরুবালি ধুধু করে,
আসন্ন রজনী-ছায়ে স্নান সর্ব্বদেশ।
অর্দ্ধেক জীবন খুঁজি’ কোন্ ক্ষণে চক্ষু বুজি’
স্পর্শ লভেছিল যার এক পলভর,
বাকি অর্দ্ধ ভগ্ন প্রাণ আবার করিছে দান
ফিরিয়া খুঁজিতে সেই পরশ-পাথর!

 

১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১২৯৯

পরশ পাথর কবিতার Romanized Version:
Khapya khuje khuje fire porosh-pathor.
Mathay brihot jota dhulay koday kota,
Molin chhayar moto khin-kolebor.
Oshte odhorete chapi’ ontorer dwar zhapi
Ratri-din tibro jwala jwele rakhe chokhe.
Duto netro shoda jeno nishar khodyot hen
Ure’ ure’ khuje kare nijer aloke.
Nahi jar chal chula gaye makhe chai dhula,
Kotite jorano shudhu dhusor koupin,
Deke kotha koy tare. Keho nai e shongshare,
Pother vikhari hote aro dinhin,
Tar eto oviman, shonarupa tuchchhogyan,
Rajshompoder lagi’ nahe se kator,
Dosha dekhe’ hashi pay, ar kichhu nahi chay
Ekbare pete chay porosh-pathor!
Shummukhe goroje shindhu ogadh opar.
Toronge torongo uthi’ hese holo kutikuti
Chhara pagoler dekhiya byapar!
Akash royeche chahi, noyone nimesh nahi,
Huhu kore’ shomiron chhuteche obadh.
Shurjo othe probatkale purbo gogoner bhale
Shondhyabela dhire dhire othe ashe chad.
Jolarashi obirol koriche kolokal
Otol rohoshy jeno chahe bolibare;—
Kamyodhon ache kotha jane jeno shob kotha,
Se bhasha je bojhe shei khuje nite pare.
Kichhute bhrukkhap nahi, mohagatha gan gahi’
Shomudro apni shune aponar shor.
Keho jay, keho ashe, keho kande, keho hashe,
Khapya tire khuje’ fire porosh-pathor!
Ekdin, bohu-purbe, ache itihash—
Nikoshe shonar rekha shabe jeno dilo deka—
Akashe prothom srishti paylo prokaash!
Mili’ joto shurasur kotuhule vhorpur
Esechhe pa tipiya ei shindhutire,
Otaler pane chahi noyone nimesh nahi
Nirobe daraye chhilo sthir notoshire;
Bohukal stobho thaki’ shunechhi mude’ ankhi
Ei mohashomudrer goti chironton;
Tar pore kotuhule zhapaye ogadh jole
Korechhe e ononto rohoshy monthon.
Bohukal duhkho shebi nirokhilo, lokkhidebi
Udila jogotmajhe otul shundor.
Sei shomudrer tire shirndehe jirn-chhire
Khapya khuje’ khuje’ fire porosh-pathor!
Etodine bujhi tar guche geche asha.
Khuje’ khuje’ fire tobu bishram na jane kobu,
Asha geche, jay nai khojar ovasho.
Birohi vihongo dake sharanishi torushakhe,
Yare dake tar deka pay na ovaga!
Tobu dake sharadin ashahin shrantihin
Ekmatro kaj tar deke deke jaga’।
Ar shob kaj bhuli’ akashe torongo tuli’
Shomudro na jani kare chahe obiroto!
Yoto kore hay hay, kon kale nahi pay
Tobu shunyo tole bahu, oyi tar broto.
Kare chahi byomotole grohotara loye chole,
Ononto shadhona kore bishbo-chorachor!
Sei moto shindhutute dhulimakha dirghajote
Khapya khuje khuje fire porosh-pathor!
Ekda shudhal tare grambashi chhele
“Shannyasithakur e ki! Kakale okio dekhi!
Shonar shikol tumi kotha hote pele?”
Shannyasi chomoki othe, shikol shonar bote,
Loha se hoyeche shona jane na kokhon.
Eki kando chomokar, tule dekhe barobar,
Ankhi kochaliya dekhe, e nohe shopon!
Kopale haniya kor b’se pore bhumipor,
Nijere korite chahe nirdoy lanchhona,—
Pagoler moto chay— kotha gelo, hay hay,
Dhora diye polailo shofol banchhona!
Kebol ovashomoto nuri kuraito koto
Thon kore’ thekayito shikoler por,
Cheye dekhito na, nuri dure fele’ dito chhuri’
Kokhon feleche chhure’ porosh-pathor!
Tokhon jetete oste molin topon.
Akash shonar borno, shomudro golito shorno,
Poshchim digbodhu dekhe shonar shopon!
Shannyasi abar dhire purvopothe jay fire
Khujite nutun kore’ harano roton.
Se shokoti nahi ar nue pore dehobhar
Ontor lutay chhinno torur moto.
Puraton dirghopoth pore’ ache mritubot
Hetha hote kothurdar nahi tar shesh!
Dik hote digontore morubali dhudhu kore,
Ashonno rojoni-chhaye shnan shorbodesh.
Orddhok jibon khuji’ kon khone chokkhu buji’
Sporsho lobhechilo jar ek polobhor,
Baki orddho bhagno pran abar koriche dan
Firiye khujite sei porosh-pathor!

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • অনন্ত অন্বেষণ ও প্রাপ্তির অসচেতনতা: মানুষ সারাজীবন যা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ঘোরে, বহু সাধনার পর তা হয়তো অজান্তেই তার হাতে এসে উপস্থিত হয়, কিন্তু অজ্ঞানতা ও অভ্যাসের বশে সে তার মূল্যায়ন করতে পারে না।
  • মোহভঙ্গ ও অনুতাপ: যখন সেই মহামূল্যবান প্রাপ্তি হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন মোহভঙ্গ ঘটে এবং শুরু হয় এক অন্তহীন আত্মগ্লানি ও হারানো রতনকে পুনরায় খুঁজে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা।
  • মানবজীবনের চিরন্তন ট্র্যাজেডি: কাঙ্ক্ষিত বস্তুকে কাছে পেয়েও হারিয়ে ফেলার এই বেদনা এবং তার পর পুনরায় সেই শূন্য থেকে শুরু করার অনন্ত যাত্রা—এটাই মানবজীবনের এক গভীর ও শাশ্বত রূপ।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত