আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

পত্রোত্তর কবিতা | potrottor kobita | সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

পত্রোত্তর কবিতাটি [ potrottor kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থের অংশ।

পত্রোত্তর

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ সেঁজুতি

কবিতার নামঃ পত্রোত্তর

 

 

পত্রোত্তর কবিতা | potrottor kobita | সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ডাক্তার শ্রীসুরেন্দ্রনাথ দাসগুপ্তকে লিখিত

বন্ধু,

          চিরপ্রশ্নের বেদীসম্মুখে চিরনির্বাক রহে

                   বিরাট নিরুত্তর,

          তাহারি পরশ পায় যবে মন নম্রললাটে বহে

                   আপন শ্রেষ্ঠ বর।

                             খনে খনে তারি বহিরঙ্গণদ্বারে

                             পুলকে দাঁড়াই, কত কী যে হয়  বলা;

                             শুধু মনে জানি বাজিল না বীণাতারে

                             পরমের সুরে চরমের গীতিকলা।

চকিত আলোকে কখনো সহসা দেখা দেয় সুন্দর,

                   দেয় না তবুও ধরা–

মাটির দুয়ার ক্ষণেক খুলিয়া আপন গোপন ঘর

          দেখায় বসুন্ধরা।

                   আলোকধামের আভাস সেথায় আছে

                   মর্তের বুকে অমৃত পাত্রে ঢাকা;

                   ফাগুন সেথায় মন্ত্র লাগায় গাছে,

                   অরূপের রূপ পল্লবে পড়ে আঁকা।

 

তারি আহ্বানে সাড়া দেয় প্রাণ, জাগে বিস্মিত সুর,

          নিজ অর্থ না জানে;

ধুলিময় বাধা-বন্ধ এড়ায়ে চলে যাই বহুদূর

          আপনারি গানে গানে।

                   “দেখেছি দেখেছি’ এই কথা বলিবারে

                   সুর বেধে যায়, কথা না জোগায় মুখে;

                   ধন্য যে আমি, সে কথা জানাই কারে–

                   পরশাতীতের হরষ জাগে যে বুকে।

দুঃখ পেয়েছি, দৈন্য ঘিরেছে, অশ্লীল দিনে রাতে

          দেখেছি কুশ্রীতারে,

মানুষের প্রাণে বিষ মিশায়েছে মানুষ আপন হাতে,

          ঘটেছে তা বারে বারে।

                   তবু তো বধির করে নি শ্রবণ কভু,

                   বেসুর ছাপায়ে কে দিয়েছে সুর আনি;

                   পুরুষকলুষ ঝঞ্ঝায় শুনি তবু

                   চিরদিবসের শান্ত শিবের বাণী।

 

যাহা জানিবার কোনোকালে তার জেনেছি যে কোনোকিছু

          কে তাহা বলিতে পারে–

সকল পাওয়ার মাঝে না-পাওয়ার চলিয়াছি পিছু পিছু

          অচেনার অভিসারে।

                   অবুও চিত্ত অহেতু আনন্দেতে

                   বিশ্বনৃত্যলীলায় উঠেছে মেতে;

                   সেই ছন্দেই মুক্তি আমার পাব,

                   মৃত্যুর পথে মৃত্যু এড়ায়ে যাব।

ওই শুনি আমি চলেছে আকাশে বাঁধন-ছেঁড়ার রবে

          নিখিল আত্মহারা;

ওই দেখি আমি অন্তবিহীন সত্তার উৎসবে

          ছুটেছে প্রাণের ধারা।

                   সে ধারার বেগ লেগেছে আমার মনে

                   এ ধরণী হতে বিদায় নেবার ক্ষণে;

                   নিবায়ে ফেলিব ঘরের কোণের বাতি,

                   যাব অলক্ষ্যে সূর্যতারার সাথি।

কী আছে জানি না দিন-অবসানে মৃত্যুর অবশেষে;

                   এ প্রাণের কোনো ছায়া

শেষ আলো দিয়ে ফেলিবে কি রঙ অন্তরবির দেশে,

                   রচিবে কি কোনো মায়া।

                             জীবনেরে যাহা জেনেছি অনেক তাই;

                             সীমা থাকে থাক্‌, তবু তার সীমা নাই।

                             নিবিড় তাহার সত্য আমার প্রাণে

                             নিখিল ভুবন ব্যাপিয়া নিজেরে জানে।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত