আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

পলাতকা কবিতা | polatoka kobita | প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

পলাতকা কবিতাটি [ polatoka kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থের অংশ।

পলাতকা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ প্রহাসিনী

কবিতার নামঃ পলাতকা

 

 

পলাতকা কবিতা | polatoka kobita | প্রহাসিনী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কোথা তুমি গেলে যে মোটরে

শহরের গলির কোটরে,

             এক্‌জামিনেশনের তাড়া।

কেতাবের ‘পরে ঝুঁকে থাকো,

বেণীর ডগাও দেখি নাকো,

             দিনে রাতে পাই নে যে সাড়া।

আমার চায়ের সভা শূন্য,

মনটা নিরতিশয় ক্ষুণ্ন,

             সুমুখে নফর বনমালী।

“সুমুখ’ তাহারে বলা মিছে,

মুখ দেখে মন যায় খিঁচে,

             বিনাদোষে দিই তারে গালি।

ভোজন ওজনে অতি কম–

নাই রুটি, নাই আলুদম,

             নাই রুইমাছের কালিয়া।

জঠর ভরাই শুধু দিয়ে

দু-পেয়ালা Chinese tea-য়ে

             আধসের দুগ্ধ ঢালিয়া।

উদাস হৃদয়ে খাই একা

টিনের মাখন দিয়ে সেঁকা

             রুটি-তোস্‌ শুধু খান-তিন।

 

গোটা-দুই কলা খাই গুনে,

তারই সাথে বিলিতি-বেগুনে

             কিছু পাওয়া যায় ভিটামিন।

মাঝে মাঝে পাই পুলিপিঠে,

পার করে দিই দু চারিটে

             খেজুরগুড়ের সাথে মেখে।

পিরিচে পেড়াকি যবে আনে

আড়চোখে চেয়ে তার পানে

             “পরে খাব’ বলে দিই রেখে।

তারপর দুপুর অবধি

না ক্ষীর, না ছানা সর দধি,

             ছুঁই নেকো কোফতা কাবাব।

নিজের এ দশা ভেবে ভেবে

বুক যায় সাত হাত নেবে,

             কারে বা জানাই মনোভাব।

করছি নে exaggerate–

কিছু আছে সত্য নিরেট,

             কবিত্ব সেও অল্প না।

বিরহ যে বুকে ব্যথা দাগে

সাজিয়ে বলতে গেলে লাগে

             পনেরো-আনাই কল্পনা।

অতএব এই চিঠি-পাঠে

পরান তোমার যদি ফাটে

             খুব বেশি রবে না প্রমাণ।

 

চিঠির জবাব দেব যবে

ভাষা ভরে দিয়ো হাহারবে

             কবি-নাতনির রেখো মান।

                                পুনশ্চ

বাড়িয়ে বলাটা ভালো নয়

যদি কোনো নীতিবাদী কয়

             কোস্‌ তারে, “অতিশয় উক্তি–

মসলার যোগে যথা রান্না,

আবদারে ছল ক’রে কান্না,

             নাকিসুর-যোগে যথা যুক্তি।

ঝুমকোর ফুল ফোটে ডালে,

চোরেও চায় না কোনোকালে,

             কানে ঝুমকোর ফুল দামি।

কৃত্রিম জিনিসেরই দাম,

কৃত্রিম উপাধিতে নাম,

             জমকালো করেছি তো আমি।”

অতএব মনে রেখো দড়ো,

এ চিঠির দাম খুব বড়ো,

             যে-হেতুক বাড়িয়ে বলায়

বাজারে তুলনা এর নেই–

কেবলই বানানো বচনেই

             ভরা এ যে ছলায় কলায়।

পাল্লা যে দিবি মোর সাথে

সে ক্ষমতা নেই তোর হাতে,

             তবুও বলিস প্রাণপণ

বাড়িয়ে বাড়িয়ে মিঠে কথা–

ভুলিবে, হবে না অন্যথা,

             দাদামশায়ের বোকা মন।

যা হোক, এ কথা চাই শোনা,

তাড়াতাড়ি ছন্দে লিখো না,

             না-হয় না হলে কবিবর–

অনুকরণের শরাহত

আছি আমি ভীষ্মের মতো,

             তাহে তুমি বাড়িয়ো না স্বর।

যে ভাষায় কথা কয়ে থাকো

আদর্শ তারে বলে নাকো,

             আমার পক্ষে সে তো ঢের–

করিতে যদি পার

গ্রাম্যতাদোষ যত তারো

             একটু পাব না আমি টের।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

 

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত