বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম দীর্ঘ, গভীর রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আবেগময় সৃষ্টি হলো ‘চিঠি’। ১৯২৫ সালে প্রবাসে বসে কবি তাঁর স্নেহের ভাজন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্দেশ করে এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন। দূর প্রবাসে হঠাৎ জুঁই ফুলের গন্ধে বাংলাদেশের রূপ ও স্মৃতির উদ্রেক এবং সেই সাথে সমসাময়িক রাজনৈতিক দমনপীড়ন, ব্রিটিশ সরকারের জেল-জুলুম ও শক্তির অহংকারের বিরুদ্ধে প্রেমের চিরন্তন শক্তির জয়গান এই কবিতার মূল প্রতিপাদ্য।
Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | চিঠি |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পূরবী |
| প্রকাশের বছর | ১৯২৫ (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রাজনৈতিক, দার্শনিক ও লিরিক্যাল কবিতা (Political, Philosophical and Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থের এই দীর্ঘ কবিতাটিতে কবির দেশপ্রেম এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গভীর দর্পণ দেখতে পাওয়া যায়। প্রবাসের অচেনা পরিবেশে একটি জুঁই ফুলের সুবাস কবিকে টেনে নিয়ে যায় তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশে। সেসময়ে ব্রিটিশ সরকারের দমননীতি, আলিপুর জেলে বাঙালি যুবকদের বন্দি রাখা এবং পালোয়ানি শক্তির আস্ফালনকে কবি তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। পাশপাশি তিনি দেখিয়েছেন যে, সাময়িক রাজনৈতিক প্রতাপ ও হিংসার দম্ভ একদিন ধুলোয় মিশে যাবে, কিন্তু জুঁই ফুলের সুবাস ও প্রেমের অমর বাণী চিরকাল বেঁচে থাকবে।
চিঠি – সম্পূর্ণ কবিতা
শ্রীমান দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কল্যাণীয়েষু,
দূর প্রবাসে সন্ধ্যাবেলায় বাসায় ফিরে এনু,
হঠাৎ যেন বাজল কোথায় ফুলের বুকের বেণু।
আঁতি-পাঁতি খুঁজে শেষে বুঝি ব্যাপারখানা,
বাগানে সেই জুঁই ফুটেছে চিরদিনের জানা।
গন্ধটি তার পুরোপুরি বাংলাদেশের বাণী,
একটুও তো দেয় না আভাস এই দেশী ইস্পানি।
প্রকাশ্যে তার থাক্-না যতই সাদা মুখের ঢঙ,
কোমলতায় লুকিয়ে রাখে শ্যামল বুকের রঙ।
হেথায় মুখর ফুলের হাটে আছে কি তার দাম।
চারুকণ্ঠে ঠাঁই নাহি তার ধুলায় পরিণাম।
যূথী বলে, “আতিথ্য লও, একটুখানি বোসো।’
আমি বলি চমকে উঠে, “আরে রোসো, রোসো।
জিতবে গন্ধ হারবে কি গান? নৈব কদাচিৎ।’
তাড়াতাড়ি গান রচিলাম; জানি নে কার জিৎ।
তিনটে সাগর পাড়ি দিয়ে একদা এই গান
অবশেষে বোলপুরে সে হবে বিদ্যমান।
এই বিরহীর কথা স্মরি গেয়ো সেদিন, দিনু,
জুঁইবাগানের আরেক দিনের গান যা রচেছিনু।
ঘরের খবর পাই নে কিছুই, গুজব শুনি নাকিকুলিশপাণি পুলিস সেথায় লাগায় হাঁকাহাঁকি।শুনছি নাকি বাংলাদেশের গান হাসি সব ঠেলে
কুলুপ দিয়ে করছে আটক আলিপুরের জেলে।
হিমালয়ে যোগীশ্বরের রোযের কথা জানি,
অনঙ্গেরে জ্বালিয়েছিলেন চোখের আগুন হানি।
এবার নাকি সেই ভূধরে কলির ভূদেব যারা
বাংলাদেশের যৌবনেরে জ্বালিয়ে করবে সারা।
সিমলে নাকি দারুণ গরম, শুনছি দার্জিলিঙে
নকল শিবের তাণ্ডবে আজ পুলিস বাজায় শিঙে।
জানি তুমি বলবে আমায়, “থামো একটুখানি,
বেণুবীণার লগ্ন এ নয়, শিকল ঝম্ঝমানি!
শুনে আমি রাগব মনে, কোরো না সেই ভয়–
সময় আমার আছে বলেই এখন সময় নয়।
যাদের নিয়ে কাণ্ড আমার তারা তো নয় ফাঁকি,
গিলটি-করা তকমা-ঝোলা নয় তাহাদের খাকি।
কপাল জুড়ে নেই তো তাদের পালোয়ানের টিকা,
তাদের তিলক নিত্যকালের সোনার রঙে লিখা।
যেদিন ভবে সাঙ্গ হবে পালোয়ানির পালা,
সেদিনও তো সাজাবে জুঁই দেবার্চনার থালা।
সেই থালাতে আপন ভাইয়ের রক্ত ছিটোয় যারা,
লড়বে তারাই চিরটা কাল? গড়বে পাষাণ-কারা?
রাজ-প্রতাপের দম্ভ সে তো এক দমকের বায়ু,
সবুর করতে পারে এমন নাই তো তাহার আয়ু।
ধৈর্য বীর্য ক্ষমা দয়া ন্যায়ের বেড়া টুটে
লোভের ক্ষোভের ক্রোধের তাড়ায় বেড়ায় ছুটে ছুটে।
আজ আছে কাল নাই ব’লে তাই তাড়াতাড়ির তালে
কড়া মেজাজ দাপিয়ে বেড়ায় বাড়াবাড়ির চালে।
পাকা রাস্তা বানিয়ে বসে দুঃখীর বুক জুড়ি,
ভগবানের ব্যথার ‘পরে হাঁকায় সে চার-ঘুড়ি।
তাই তো প্রেমের মাল্য গাঁথার নাইকো অবকাশ,
হাতকড়ারই কড়াক্কড়ি, দড়াদড়ির ফাঁস।
শান্ত হবার সাধনা কই, চলে কলের রথে–
সংক্ষেপে তাই শান্তি খোঁজে উলটো দিকের পথে।
জানে সেথায় বিধির নিষেধ, তর সহে না তবু–
ধর্মেরে যায় ঠেলা মেরে গায়ের জোরের প্রভু।
রক্ত-রঙের ফসল ফলে তাড়াতাড়ির বীজে,
বিনাশ তারে আপন গোলায় বোঝাই করে নিজে।
বাহুর দম্ভ, রাহুর মতো, একটু সময় পেলে
নিত্যকালের সূর্যকে সে এক-গরাসে গেলে।
নিমেষ-‘পরেই উগরে দিয়ে মেলায় ছায়ার মতো,
সূর্যদেবের গায়ে কোথাও রয় না কোনো ক্ষত।
বারে বারে সহস্রবার হয়েছে এই খেলা,
নতুন রাহু ভাবে তবু হবে না মোর বেলা।
কাণ্ড দেখে পশুপক্ষী ফুকরে ওঠে ভয়ে,
অনন্তদেব শান্ত থাকেন ক্ষণিক অপচয়ে।
টুটল কত বিজয়-তোরণ, লুটল প্রাসাদ-চুড়ো,
কত রাজার কত গারদ ধুলোয় হল গুঁড়ো।
আলিপুরের জেলখানাও মিলিয়ে যাবে যবে
তখনো এই বিশ্বদুলাল ফুলের সবুর সবে।
রঙিন-কুর্টি সঙিন-মুর্তি, রইবে না কিচ্ছুই,
তখনো এই বনের কোণে ফুটবে লাজুক জুঁই।
ভাঙবে শিকল টুকরো হয়ে, ছিঁড়বে রাঙা পাগ–
চূর্ণ-করা দর্পে মরণ খেলবে হোলির ফাগ।
পাগলা আইন লোক হাসাবে কালের প্রহসনে,
মধুর আমার বঁধূ রবেন কাব্যসিংহাসনে।
সময়েরে ছিনিয়ে নিলেই হয় সে অসময়,
ক্রুদ্ধ প্রভুর সয় না সবুর, প্রেমের সবুর সয়।
প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে দুঃখ দেবার বড়াই,
জেনো মনে, তখন তাহার বিধির সঙ্গে লড়াই।
দুঃখ সহার তপস্যাতেই হোক বাঙালির জয়,
ভয়কে যারা মানে তারাই জাগিয়ে রাখে ভয়।
মৃত্যুকে যে এড়িয়ে চলে মৃত্যু তারেই টানে
মৃত্যু যারা বুক পেতে লয় বাঁচতে তারাই জানে।
পালোয়ানের চেলারা সব ওঠে যেদিন খেপে,
ফোঁসে সর্প হিংসা দর্প সকল পৃথ্বী ব্যেপে,
বীভৎস তার ক্ষুধার জ্বালায় জাগে দানব ভায়া,
গর্জি বলে “আমিই সত্য– দেব্তা মিথ্যা মায়া,’
সেদিন যেন কৃপা আমায় করেন ভগবান–
মেশিন-গানের সম্মুখে গাই জুঁই ফুলের এই গান।–
স্বপ্নসম পরবাসে এলি পাশে কোথা হতে তুই
ও আমার জুঁই!
অজানা ভাষার দেশে
সহসা বলিলি এসে,
“আমারে চেন কি।’
তোর পানে চেয়ে চেয়ে
হৃদয় উঠিল গেয়ে,
“চিনি, চিনি সখী’!
কত প্রাতে জানায়েছে চির পরিচিত তোর হাসি,
“আমি ভালোবাসি।’
বিরহব্যথার মতো এলি প্রাণে কোথা হতে তুই
ও আমার জুঁই!
আজ তাই পড়ে মনে
বাদল-সাঁঝের বনে
ঝর ঝর ধারা,
মাঠে মাঠে ভিজে হাওয়া
যেন কী-স্বপনে-পাওয়া,
ঘুরে ঘুরে সারা।
সজল তিমিরতলে তোর গন্ধ বলেছে নিশ্বাসি,
“আমি ভালোবাসি।’
মিলনসুখের মতো কোথা হতে এসেছিস তুই
ও আমার জুঁই!
মনে পড়ে কত রাতে
দীপ জ্বলে জানালাতে
বাতাসে চঞ্চল।
মাধুরী ধরে না প্রাণে,
কী বেদনা বক্ষে আনে,
চক্ষে আনে জল।
সে রাতে তোমার মালা বলেছে মর্মের কাছে আসি,
“আমি ভালোবাসি।’
অসীম কালের যেন দীর্ঘশ্বাস বহেছিস তুই
ও আমার জুঁই!
বক্ষে এনেছিস কার
যুগ-যুগান্তের ভার,
ব্যর্থ পথ-চাওয়া–
বারে বারে দ্বারে এসে
কোন্ নীরবের দেশে
ফিরে ফিরে যাওয়া।
তোর মাঝে কেঁদে বাজে চিরপ্রত্যাশার কোন্ বাঁশি
“আমি ভালোবাসি।’
চিঠি Romanized Version
Sriman Dinendranath Thakur koloniye-shu,
Dur probase shondhyabelay basay fire enu,
Hothat jeno bajlo kothay fuler buker benu.
Ati-pati khuje shese bujhi byaparkhana,
Bagane sei jui futeche chirodiner jana.
Gondhoti tar puropuri bangladesher bani,
Ektu-o to dey na abhas ei deshi ispani.
Prokasse tar thak-na joyoi sada mukher dhong,
Komolatay lukiye rakhe shyamol buker rong.
Hethay mokhor fuler hate ache ki tar dam.
Charukonthe thai nahi tar dhulay porinam.
Juthi bole, “Atithyo lo, ektukhani boso.”
Ami boli chomoke uthe, “Are roso, roso.”
Jitbe gondho harbe ki gan? Noibo kodachit.”
Taratari gan rochilam; jani ne kar jit.
Tinite shagor pari diye ekda ei gan
Obosheshe bolpure se hobe bidyoman.
Ei birohir kotha smori geyo shedin, dinu,
Juibaganer aro ek diner gan ja rochechinu.
Gorer khobor pay ne kichhu, gojob shuni nakikulishpani pulis sethay lagay hankahanki.Shunchi naki bangladesher gan hasi shobe thhele
Kulup diye korche atok alipurer jele.
Himaloye jogishworer rojher kotha jani,
Onongere jaliyechhilen chokher agun hani.
Ebar naki sei bhudhore kolir bhudeb jara
Bangladesher joubonere jaliye korbe shara.
Simle naki darun gorom, shunchi darjilinge
Nokol shiber tandabe aj pulis bajay shinge.
Jani tumi bolbe amay, “Thamo ektukhani,
Benubinar logno e noy, shikol jhomjhamani!”
Shune ami ragbe mone, koro na sei bhoy–
Shomoy amar ache bolei ekhon shomoy noy.
Jader niye kando amar tara to noy fanki,
Gilti-kora tokma-jhola noy tader khaki.
Kopal jure nei to tader paloyaner tika,
Tader tilok nittokaler sonar ronge likha.
Jedin bobe shang hobe paloyaner pala,
Shedin-o to sajabe jui debarchonar thala.
Sei thalate apon bhayer rokto chhitoy jara,
Lorbe tarai chirta kal? Gorbe pashan-kara?
Raj-protaper dombo se to ek domoker bayu,
Shobor korte pare amon nai to tahar ayu.
Dhoirjo berjjo khoma doya nyayer bera tute
Lober khoborer krodher taray beray chhute chhute.
Aj ache kal nai bo-le tai taratarir tale
Kora mejaj dapiye beray barabarir chale.
Paka rasta baniye bose dukhir buk juri,
Bhagobaner byathar ‘pore hankay se char-ghuri.
Tai to premer malyo ganthar naikoo obokash,
Hatkodarir korakkori, dodar-dorir fash.
Shanto hobar shadhona koi, chole koler rohe–
Shongkshepe tai shanti khoje ulto diker pothe.
Jane sethay bidhir nished, tor sohe na tobu–
Dharmere jay thela mere gayer jorer probhu.
Rokto-ronger foshol fole taratarir bije,
Binash tare apon golay bozhai kore nije.
Bahur dombo, rahurer moto, ektu shomoy pele
Nittokaler shurjoke se ek-gorase gele.
Nimesh-‘porey u-gore diye melay chhayar moto,
Shurjadeber gaye kothay roy na kono khoto.
Bare bare shohosrobar hoyeche ei khela,
Notun rahu bhabe tobu hobe na mor bela.
Kando dekhe pashupokkhi fukre othe bhoye,
Onontodeb shanto thaken khonik opochoye.
Tutol koto bijoy-toron, lutol prashad-churo,
Koto rajar koto garod dhulay holo guro.
Alipurer jelkhanamo miliye jabe jobe
Tokhono ei bishvudulal fuler shobor shobe.
Rongin-kurti shongin-murti, roibe na kichchui,
Tokhono ei boner kone futbe lajuk jui.
Bhangbe shikol tukro hoye, chhirebe ranga pag–
Churna-kora dorpe mritton khelbe holir fag.
Pagla ain lok hasabe kaler prohosone,
Modhur amar bodhu roben kabyosinghasane.
Shomoyere chhiniye nilei hoy so oshomoy,
Kroddho probhorur so na shobor, premer shobor soye.
Protap jokhon chechiye kore duhkho debar borai,
Jeno mone, tokhon tahar bidhir shonge lorai.
Duhkho sohar toposyatei hok bangalir joy,
Bhoyke jara mane tarai jagiye rakhe bhoy.
Mrittuke je eriye chole mrittu tarei tane
Mrittu jara buk pete loy bachte tarai jane.
Paloyaner chelara shara othe jedin khepe,
Fose shorpo hingsha dorpo shokol prithbi byepe,
Bibhatso tar khudhar jwaly jage danob bhaya,
Gorji bole “Amai shotyo– debta mithya maya,’
Shedin jeno kripa amay koren bhogoban–
Meshin-ganer shamukhe gai jui fuler ei gan.–
Shopnosom porobase eli pashe kotha hote tui
O amar jui!
Ojana bhashar deshe
Shohosha bolili ese,
“Amare chen ki.”
Tor pane cheye cheye
Hridoy uthilo geye,
“Chini, chini sokhi!”
Koto prate janayeche chiro porichito tor hasi,
“Ami bhalobashi.”
Birohobhyathar moto eli prane kotha hote tui
O amar jui!
Aj tai pore mone
Badol-sanjher bone
Jhor jhor dhara,
Mathe mathe vije hawa
Jeno ki-shopne-pawa,
Ghure ghure shara.
Sojol timiro-tole tor gondho boleche nishasi,
“Ami bhalobashi.”
Milonshukher moto kotha hote eshechis tui
O amar jui!
Mone pore koto rate
Dip jwle janalate
Batase chonchol.
Madhuri dhore na prane,
Ki bedona bokhe ane,
Chokhe ane jol.
Se rate tomar mala boleche mormer kachhe ashi,
“Ami bhalobashi.”
Oshonto kaler jeno dirghoshash bohechis tui
O amar jui!
Bokhe enechechis kar
Yug-yuganter bhar,
Byartho poth-chawa–
Bare bare dware ashi
Kon nirober deshe
Fire fire jawa.
Tor majhe kede baje chiroprotyashar kon bashi
“Ami bhalobashi.”
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- প্রবাসে স্বদেশের গন্ধ ও জুঁই ফুলের রূপক: প্রবাসের অচেনা আবহাওয়ায় হঠাৎ একটি জুঁই ফুলের গন্ধ কবিকে তাঁর নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত করে। এই জুঁই ফুল কেবল একটি ফুল নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন কোমলতা, প্রাণশক্তি ও সংস্কৃতির প্রতীক।
- ক্ষমতার আস্ফালনা বনাম প্রেমের অমরতা:
“রাজ-প্রতাপের দম্ভ সে তো এক দমকের বায়ু, / সবুর করতে পারে এমন নাই তো তাহার আয়ু।”— ব্রিটিশ শাসকদের জেল, জরিমানা, বন্দুক ও পুলিশি অত্যাচারের নির্মম দম্ভকে কবি এক নিমেষের ঝড়ের সাথে তুলনা করেছেন। বাহুবল বা পালোয়ানি ক্ষমতা চিরস্থায়ী হতে পারে না; ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে বড় বড় সাম্রাজ্য ও কারাগার ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু মানুষের প্রেম ও জুঁই ফুলের মতো কোমল সৌন্দর্য চিরকাল বেঁচে থাকে।
- দুঃখ ও ত্যাগের মহিমা:
“মৃত্যুকে যে এড়িয়ে চলে মৃত্যু তারেই টানে / মৃত্যু যারা বুক পেতে লয় বাঁচতে তারাই জানে।”— ভয়ের সংস্কৃতিকে যারা প্রত্যাখ্যান করে এবং হাসিমুখে দুঃখ ও মৃত্যুকে বরণ করে নেয়, তারাই প্রকৃত অর্থে বাঁচতে জানে। মেশিনগানের সামনে দাঁড়িয়েও জুঁই ফুলের গান গাওয়ার অর্থ হলো হিংস্র শক্তির সামনে মাথা না নোয়ানো।
উৎস
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (পূরবী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।
![পূরবী কাব্যগ্রন্থের চিঠি কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 চিঠি chithi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/চিঠি-chithi-কবিতা-.gif)