আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

বঞ্চিত কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শ্যামলী [ ১৯৩৬ ]

কবিতার শিরোনামঃ বঞ্চিত

বঞ্চিত কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফুলিদের বাড়ি থেকে এসেই দেখি

      পোস্টকার্ডখানা আয়নার সামনেই,

            কখন এসেছে জানি নে তো।

মনে হল, সময় নেই একটুও;

            গাড়ি ধরতে পারব না বুঝি।

                 বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে

                       ছড়িয়ে পড়ল সিকি দুয়ানি,

                    কিছু কুড়োলেম, কিছু রইল বা,

                          গ’নে ওঠা হল না।

                 কাপড় ছাড়ি কখন।

            নীল রঙের রেশমি রুমালখানা

      দিলেম মাথার উপর তুলে কাঁটায় বিঁধে।

    চুলটাকে জড়িয়ে নিলুম কোনোমতে

          টবের গাছ থেকে তুলে নিলুম

                চন্দ্রমল্লিকা বাসন্তীরঙের।

স্টেশনে এসে দেখি গাড়ি আসেই না,

      জানি নে কতক্ষণ গেল–

            পাঁচ মিনিট, হয়তো বা পঁচিশ মিনিট।

গাড়িতে উঠে দেখি চেলি-পরা বিয়ের কনে দলে-বলে;

         আমার চোখে কিছুই পড়ে না যেন,

     খানিকটা লাল রঙের কুয়াশা, একখানা ফিকে ছবি।

      গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর, বেজে উঠছে বাঁশি,

               উড়ে আসছে কয়লার গুঁড়ো,

                    কেবলই মুখ মুছছি রুমালে।

            কোন্‌-এক স্টেশনে

    বাঁকে করে ছানা এনেছে গয়লার দল।

         গাড়িটাকে দেরি করাচ্ছে মিছিমিছি।

             হুইস্‌ল্‌ দিলে শেষকালে;

         সাড়া পড়ল চাকাগুলোয়, চলল গাড়ি।

             গাছপালা, ঘরবাড়ি, পানাপুকুর

          ছুটেছে জানলার দু ধারে পিছনের দিকে —

      পৃথিবী যেন কোথায় কী ফেলে এসেছে ভুলে,

                 ফিরে আর পায় কি-না পায়।

              গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর।

      মাঝখানে অকারণে গাড়িটা থামল অনেক ক্ষণ,

      খেতে খেতে খাবার গলায় বেধে যাবার মতো।

                            আবার বাঁশি বাজল,

                    আবার চলল গাড়ি ঘটর ঘটর।

                          শেষে দেখা দিল হাবড়া স্টেশন।

     চাইলেম না জানালার বাইরে,

                   মনে স্থির করে আছি —

খুঁজতে খুঁজতে আমাকে আবিষ্কার করবে একজন এসে,

         তার পরে দুজনের হাসি।

বিয়ের কনে, টোপর-হাতে আত্মীয়স্বজন,

         সবাই গেল চলে।

      কুলি এসে চাইলে মুখের দিকে,

   দেখলে গাড়ির ভিতরটাতে মুখ বাড়িয়ে,

            কিছুই নেই।

যারা কনেকে নিতে এসেছিল গেল চলে।

         যে জনস্রোত এ মুখে আসছিল

                 ফিরল গেটের দিকে।

গট গট করে চলতে চলতে

গার্ড্‌ আমার জানালার দিকে একটু তাকালে,

ভাবলে মেয়েটা নামে না কেন।

     মেয়েটাকে নামতেই হল।

এই আগন্তুকের ভিড়ের মধ্যে

আমি একটিমাত্র খাপছাড়া।

      মনে হল প্লাটফর্‌ম্‌টার

এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্ত প্রশ্ন করছে আমাকে;

         জবাব দিচ্ছি নীরবে,

                 “না এলেই হত।”

         আর-একবার পড়লুম পোস্টকার্ড্‌খানা —

                       ভুল করি নি তো?

এখন ফিরতি গাড়ি নেই একটাও।

যদি বা থাকত, তবু কি …

বুকের মধ্যে পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে

            কত রকমের “হয়তো’–

                 সবগুলিই সাংঘাতিক।

      বেরিয়ে এসে তাকিয়ে রইলুম ব্রিজটার দিকে।

            রাস্তার লোক কী ভাবলে জানি নে।

                  সামনে ছিল বাস্‌, উঠে পড়লুম।

                       ফেলে দিলুম চন্দ্রমল্লিকাটা।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত