আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বিচিত্রতা কাব্যগ্রন্থের কুমার কবিতা | Kumar Kobita

Table of Content

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বিচিত্রতা

কবিতার নামঃ কুমার

 

কুমার কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুমার, তোমার প্রতীক্ষা করে নারী,

অভিষেক-তরে এনেছে তীর্থবারি।

            সাজাবে অঙ্গ উজ্জ্বল বরবেশে,

            জয়মাল্য-যে পরাবে তোমার কেশে,

            বরণ করিবে তোমারে সে-উদ্দেশে

                         দাঁড়ায়েছে সারি সারি।

দৈত্যের হাতে স্বর্গের পরাভবে

বারে বারে, বীর, জাগ ভয়ার্ত ভবে।

            ভাই ব’লে তাই নারী করে আহ্বান,

            তোমারে রমণী পেতে চাহে সন্তান,

            প্রিয় ব’লে গলে করিবে মাল্য দান

                         আনন্দে গৌরবে।

হেরো, জাগে সে যে রাতের প্রহর গণি,

তোমার বিজয়শঙ্খ উঠুক ধ্বনি।

            গর্জিত তব তর্জনধিক্কারে

            লজ্জিত করো কুৎসিত ভীরুতারে,

            মন্দ্রিত হোক বন্দীশালার দ্বারে

                         মুক্তির জাগরণী।

তুমি এসে যদি পাশে নাহি দাও স্থান,

হে কিশোর, তাহে নারীর অসম্মান।

            তব কল্যাণে কুঙ্কুম তার ভালে,

            তব প্রাঙ্গণে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালে,

            তব বন্দনে সাজায় পূজার থালে

                             প্রাণের শ্রেষ্ঠ দান।

তুমি নাই, মিছে বসন্ত আসে বনে

বিরহবিকল চঞ্চল সমীরণে।

            দুর্বল মোহ কোন আয়োজন করে

            যেথা অরাজক হিয়া লজ্জায় মরে–

            ওই ডাকে, রাজা, এসো এ শূন্য ঘরে

                             হৃদয়সিংহাসনে।

চেয়ে আছে নারী, প্রদীপ হয়েছে জ্বালা–

বিফল কোরো না বীরের বরণডালা।

            মিলনলগ্ন বারে বারে ফিরে যায়

            বরসজ্জার ব্যর্থতাবেদনায়,

            মনে মনে সদা ব্যথিত কল্পনায়

                             তোমারে পরায় মালা।

তব রথ তারা স্বপ্নে দেখিছে জেগে,

ছুটিছে অশ্ব বিদ্যুৎকশা লেগে।

            ঘুরিছে চক্র বহ্নিবরন সে যে,

            উঠিছে শূন্যে ঘর্ঘর তার বেজে,

            প্রোজ্জ্বল চূড়া প্রভাতসূর্যতেজে,

                             ধ্বজা রঞ্জিত রাঙা সন্ধ্যার মেঘে।

উদ্দেশহীন দুর্গম কোন্‌খানে

চল দুঃসহ দুঃসাহসের টানে।

            দিল আহ্বান আলসনিদ্রা-নাশা

            উদয়কূলের শৈলমূলের বাসা,

            অমরালোকের নব আলোকের ভাষা

                             দীপ্ত হয়েছে দৃপ্ত তোমার প্রাণে।

অদূরে সুনীল সাগরে ঊর্মিরাশি

উত্তালবেগে উঠিছে সমুচ্ছ্বাসি।

            পথিক ঝটিকা রুদ্রের অভিসারে

            উধাও ছুটিছে সীমাসমুদ্রপারে,

            উল্লোল কলগর্জিত পারাবারে

                             ফেনগর্গরে ধ্বনিছে অট্টহাসি।

আত্মলোপের নিত্যনিবিড় কারা,

তুমি উদ্দাম সেই বন্ধনহারা।

            কোনো শঙ্কার কার্মূকটংকারে

            পারে না তোমারে বিহ্বল করিবারে,

            মৃত্যুর ছায়া ভেদিয়া তিমিরপারে

                             নির্ভয়ে ধাও যেথা জ্বলে ধ্রুবতারা।

চাহে নারী তব রথসঙ্গিনী হবে,

তোমার ধনুর তূণ চিহ্নিয়া লবে।

            অবারিত পথে আছে আগ্রহভরে

            তব যাত্রায় আত্মদানের তরে,

            গ্রহণ করিয়ো সম্মানে সমাদরে–

                             জাগ্রত করি রাখিয়ো শঙ্খরবে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত