কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ভানুসিংহ ঠাকুর) |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী |
| প্রকাশের বছর | ১৮৮৪ (১২৯১ বঙ্গাব্দ) [পদাবলী সংকলন হিসেবে প্রকাশিত] |
| কবিতার ধরন | মৈথিলি পদাবলির স্টাইলে রচিত ভক্তি ও দার্শনিক লিরিক কবিতা (Maithili Padavali Style / Devotional Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণ বয়সে ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে বৈষ্ণব পদাবলির অনুকরণে ব্রজবুলি বা মৈথিলি ভাষায় বেশ কিছু পদ রচনা করেছিলেন, যা ১৮৮৪ সালে ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনের অন্যতম রত্ন হলো ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ পদটি। এখানে বৈষ্ণবীয় রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও অভিসারের রূপককে মৃত্যুর সাথে মেলানো হয়েছে। কবি মৃত্যুকে কোনো ভয়ঙ্কর বা নিষ্ঠুর শক্তি হিসেবে দেখাননি; বরং মেঘবরণ রূপ, রক্তকমল কর এবং তাপ-বিমোচন করুণ কোরের অধিকারী মৃত্যুকে তিনি কৃষ্ণের (শ্যামের) সমান বলে সম্বোধন করেছেন। রাধা যেমন দীর্ঘ বিরহ ও যন্ত্রণার পর সমস্ত বাধা পেরিয়ে প্রলয় ও অন্ধকারের বুক চিরে অভিসারে বেরিয়ে পড়ে প্রিয়তমের কাছে পৌঁছায়, তেমনই সাধকও মৃত্যুকে পরম বন্ধু ও শ্যামের মতো আপন করে নিয়ে সমস্ত ভয় ও বাধা অতিক্রম করে চিরশান্তির কোলে লুটিয়ে পড়ে—এই সুগভীর আধ্যাত্মিক ভাবনাই কবিতার মূল প্রাণ।
মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান কবিতা (সম্পূর্ণ)
মরণরে,
তুঁহুঁ মম শ্যাম সমান!
মেঘ বরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট,
রক্ত কমল কর, রক্ত অধর-পুট,
তাপ-বিমোচন কৰুণ কোর তব,
মৃত্যু অমৃত করে দান!
তুহু মম শ্যাম সমান।
মরণরে,
শ্যাম তোঁহারই নাম,
চির বিসরল যব্, নিরদয় মাধব
তুঁহুঁ ন ভইবি মোয় বাম!
আকুল রাধা রিঝ অতি জরজর,
ঝরই নয়ন দউ অনুখন ঝরঝর,
তুঁহুঁ মম মাধব, তুঁহুঁ মম দোসর,
তুঁহুঁ মম তাপ ঘুচাও,
মরণ তু আওরে আও।
ভুজ পাশে তব লম্ব সম্বোধয়ি,
আঁখিপাত মঝু আসব মোদয়ি,
কোর উপর তুঝ রোদয়ি রোদয়ি
নীদ ভরব সব দেহ।
তুঁহুঁ নহি বিসরবি, তুঁহুঁ নহি ছোড়বি
রাধা-হৃদয় তু কবহুঁ ন তোড়বি,
হিয়-হিয় রাখবি অনুদিন অনুখণ
অতুলন তোঁহার লেহ।
দূর সঙে তুঁহুঁ বাঁশি বজাওসি,
অনুখণ ডাকসি, অনুখণ ডাকসি
রাধা রাধা রাধা,
দিবস ফুরাওল, অবহুঁ ম যাওব,
বিরহ তাপ তব অবহুঁ ঘুচাওব,
কুঞ্জ-বাট পর অবহুঁ ম ধাওব
সব কছু টুটইব বাধা!
গগন সঘন অব, তিমির মগন ভব,
তড়িত চকিত অতি, ঘোর মেঘ রব,
শাল তাল তৰু সভয় তবধ সব,
পন্থ বিজন অতি ঘোর,
একলি যাওব তুঝ অভিসারে,
যা’ক পিয়া তুঁহুঁ কি ভয় তাহারে,
ভয় বাধা সব অভয় মুরতি ধরি,
পন্থ দেখাওব মোর।
ভানু সিংহ কহে, “ছিয়ে ছিয়ে রাধা
চঞ্চল হৃদয় তোহারি,
মাধব পহু মম, প্রিয় স মরণসে
অব তুঁহুঁ দেখ বিচারি!”
মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- মৃত্যুর অভিন্ন রূপ ও শ্যামপ্রেম: মৃত্যুকে ভয়ের বস্তু না ভেবে তাকে কৃষ্ণের (শ্যামের) স্নিগ্ধ ও করুণাময় রূপ হিসেবে দেখার এক অতীন্দ্রিয় ও শান্ত দৃষ্টিভঙ্গি।
- ভয়হীন অভিসার: রাধার অভিসারের মতো সমস্ত প্রলয়, অন্ধকার ও ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে মৃত্যুরূপী প্রিয়ার অভিসারে একা এগিয়ে যাওয়া এবং জীবনের সমস্ত তাপ ও বিরহ চিরতরে ঘুচিয়ে নেওয়ার পরম শান্তি—এই কবিতার মূল বার্তা।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।



![ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থের 'মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান' কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান moron re tui momo sham soman [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/কবিতার-শিরনামঃ-মরণ-রে-তুঁহু-মম-শ্যাম-সমান-1024x536.gif)

![ভগ্নহৃদয় bhognohridoy [ কাব্যগ্রন্থ ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 ভগ্নহৃদয় bhognohridoy [ কাব্যগ্রন্থ ]](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ভগ্নহৃদয়-bhognohridoy-কাব্যগ্রন্থ--1024x536.gif)
![ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ (১৮৮৪) ] Bhanushingher Podaboli 3 ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী bhanushingher podaboli [ কাব্যগ্রন্থ ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ভানুসিংহ-ঠাকুরের-পদাবলী-bhanushingher-podaboli-কাব্যগ্রন্থ--1024x536.gif)

