আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

ভৈরবী গান কবিতা । bhoirobi gan kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

ভৈরবী গান কবিতা [ bhoirobi gan kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর মানসী  কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ মানসী 

কবিতার নামঃ ভৈরবী গান

ভৈরবী গান কবিতা । bhoirobi gan kobita | মানসী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ওগো,   কে তুমি বসিয়া উদাসমুরতি

                 বিষাদশান্ত শোভাতে!

ওই       ভৈরবী আর গেয়ো নাকো এই

                 প্রভাতে–

মোর     গৃহছাড়া এই পথিক-পরান

                 তরুণ হৃদয় লোভাতে।

ওই       মন-উদাসীন ওই আশাহীন

                 ওই ভাষাহীন কাকলি

দেয়      ব্যাকুল পরশে সকল জীবন

                 বিকলি।

দেয়      চরণে বাঁধিয়া প্রেমবাহু-ঘেরা

                 অশ্রুকোমল শিকলি।

হায়,     মিছে মনে হয় জীবনের ব্রত

                 মিছে মনে হয় সকলি।

যারে     ফেলিয়া এসেছি, মনে করি, তারে

                 ফিরে দেখে আসি শেষ বার।

ওই       কাঁদিছে সে যেন এলায়ে আকুল

                 কেশভার।

যারা      গৃহছায়ে বসি সজলনয়ন

                 মুখ মনে পড়ে সে সবার।

এই       সংকটময় কর্মজীবন

                 মনে হয় মরু সাহারা,

দূরে      মায়াময় পুরে দিতেছে দৈত্য

                 পাহারা।

তবে     ফিরে যাওয়া ভালো তাহাদের পাশে

                 পথ চেয়ে আছে যাহারা।

সেই      ছায়াতে বসিয়া সারা দিনমান

                 তরুমর্মর পবনে,

সেই      মুকুল-আকুল বকুলকুঞ্জ-

                 ভবনে,

সেই      কুহুকুহরিত বিরহরোদন

                 থেকে থেকে পশে শ্রবণে।

সেই      চিরকলতান উদার গঙ্গা

                 বহিছে আঁধারে আলোকে,

সেই      তীরে চিরদিন খেলিছে বালিকা-

                 বালকে।

ধীরে     সারা দেহ যেন মুদিয়া আসিছে

                 স্বপ্নপাখির পালকে।

হায়,     অতৃপ্ত যত মহৎ বাসনা

                 গোপনমর্মদাহিনী,

এই       আপনা মাঝারে শুষ্ক জীবন-

                 বাহিনী!

ওই       ভৈরবী দিয়া গাঁথিয়া গাঁথিয়া

                 চব নিরাশাকাহিনী

সদা       করুণ কন্ঠ কাঁদিয়া  গাহিবে,–

                 “হল না, কিছুই হবে না।

এই       মায়াময় ভবে চিরদিন কিছু

                 রবে না।

কেহ     জীবনের যত গুরুভার ব্রত

                 ধুলি হতে তুলি লবে না।

“এই     সংশয়মাঝে কোন্‌ পথে যাই,

                 কার তরে মরি খাটিয়া?

আমি     কার মিছে দুখে মরিতেছি বুক

                 ফাটিয়া?

ভবে      সত্য মিথ্যা কে করেছে ভাগ,

                 কে রেখেছে মত আঁটিয়া?

“যদি     কাজ নিতে হয়, কত কাজ আছে,

                 একা কি পারিব করিতে!

কাঁদে     শিশিরবিন্দু জগতের তৃষা

                 হরিতে!

কেন     অকূল সাগরে জীবন সঁপিব

                 একেলা জীর্ণ তরীতে!

“শেষে   দেখিব, পড়িল সুখযৌবন

                 ফুলের মতন খসিয়া,

হায়      বসন্তবায়ু মিছে চলে গেল

                 শ্বসিয়া,

সেই      যেখানে জগৎ ছিল এক কালে

                 সেইখানে আছে বসিয়া!

“শুধু    আমারি জীবন মরিল ঝুরিয়া

                 চিরজীবনের তিয়াষে।

এই       দগ্ধ হৃদয় এত দিন আছে

                 কী আশে!

সেই      ডাগর নয়ন, সরস অধর

                 গেল চলি কোথা দিয়া সে!”

ওগো,   থামো, যারে তুমি বিদায় দিয়েছ

                 তারে আর ফিরে চেয়ো না।

ওই       অশ্রুসজল ভৈরবী আর

                 গেয়ো না।

আজি    প্রথম প্রভাতে চলিবার পথ

                 নয়নবাষ্পে ছেয়ো না।

ওই       কুহকরাগিণী এখনি কেন গো

                 পথিকের প্রাণ বিবশে!

পথে     এখনো উঠিবে প্রখর তপন

                 দিবসে

পথে     রাক্ষসী সেই তিমিররজনী

                 না জানি কোথায় নিবসে!

থামো,   শুধু এক বার ডাকি নাম তাঁর

                 নবীন জীবন ভরিয়া–

যাব       যাঁর বল পেয়ে সংসারপথ

                 তরিয়া,

যত      মানবের গুরু মহৎজনের

                 চরণচিহ্ন ধরিয়া।

যাও      তাহাদের কাছে ঘরে যারা আছে

                 পাষাণে পরান বাঁধিয়া,

গাও      তাদের জীবনে তাদের বেদনে

                 কাঁদিয়া।

তারা     প’ড়ে ভূমিতলে ভাসে আঁখিজলে

                 নিজ সাধে বাদ সাধিয়া।

হায়,     উঠিতে চাহিছে পরান, তবুও

                 পারে না তাহারা উঠিতে।

তারা     পারে না ললিতলতার বাঁধন

                 টুটিতে।

তারা     পথ জানিয়াছে, দিবানিশি তবু

                 পথপাশে রহে লুটিতে!

তারা     অলস বেদন করিবে যাপন

                 অলস রাগিণী গাহিয়া,

রবে      দূর আলো-পানে আবিষ্ট তারা

                 দিবসরজনী বাহিয়া।

সেই      আপনার গানে আপনি গলিয়া

                 আপনারে তারা ভুলাবে,

স্নেহে   আপনার দেহে সকরুণ কর

                 বুলাবে।

সুখ       কোমল শয়নে রাখিয়া জীবন

                 ঘুমের দোলায় দোলাবে।

ওগো,   এর চেয়ে ভালো প্রখর দহন,

                 নিঠুর আঘাত চরণে।

যাব       আজীবন কাল পাষাণকঠিন

                 সরণে।

যদি       মৃত্যুর মাঝে নিয়ে যায় পথ,

                 সুখ আছে সেই মরণে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত