আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

যোগিয়া

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : কড়ি ও কোমল

কবিতার শিরনামঃ যোগিয়া

যোগিয়া jogiya [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বহুদিন পরে আজি মেঘ গেছে চলে,

     রবির কিরণসুধা আকাশে উথলে।

স্নিগ্ধ শ্যাম পত্রপুটে              আলোক ঝলকি উঠে

          পুলক নাচিছে গাছে গাছে।

নবীন যৌবন যেন                  প্রেমের মিলনে কাঁপে,

          আনন্দ বিদ্যুৎ-আলো নাচে।

জুঁই সরোবরতীরে                 নিশ্বাস ফেলিয়া ধীরে

          ঝরিয়া পড়িতে চায় ভুঁয়ে,

অতি মৃদু হাসি তার,              বরষার বৃষ্টিধার

          গন্ধটুকু নিয়ে গেছে ধুয়ে।

আজিকে আপন প্রাণে             না জানি বা কোন্‌খানে

          যোগিয়া রাগিণী গায় কে রে।

ধীরে ধীরে সুর তার               মিলাইছে চারি ধার,

          আচ্ছন্ন করিছে প্রভাতেরে।

গাছপালা চারি ভিতে               সংগীতের মাধুরীতে

          মগ্ন হয়ে ধরে স্বপ্নছবি।

এ প্রভাত মনে হয়                 আরেক প্রভাতময়,

          রবি যেন আর কোনো রবি।

ভাবিতেছি মনে মনে               কোথা কোন্‌ উপবনে

          কী ভাবে সে গান গাইছে না জানি,

চোখে তার অশ্রুরেখা   একটু দেছে কি দেখা,

          ছড়ায়েছে চরণ দুখানি।

তার কি পায়ের কাছে    বাঁশিটি পড়িয়া আছে–

          আলোছায়া পড়েছে কপোলে।

মলিন মালাটি তুলি                ছিঁড়ি ছিঁড়ি পাতাগুলি

          ভাসাইছে সরসীর জলে।

 

 

বিষাদ-কাহিনী তার               সাধ যায় শুনিবার

          কোন্‌খানে তাহার ভবন।

তাহার আঁখির কাছে               যার মুখ জেগে আছে

          তাহারে বা দেখিতে কেমন।

এ কী রে আকুল ভাষা!          প্রাণের নিরাশ আশা

          পল্লবের মর্মরে মিশালো।

না জানি কাহারে চায়    তার দেখা নাহি পায়

          ম্লান তাই প্রভাতের আলো।

এমন কত-না প্রাতে               চাহিয়া আকাশপাতে

          কত লোক ফেলেছে নিশ্বাস,

সে-সব প্রভাত গেছে,              তারা তার সাথে গেছে

          লয়ে গেছে হৃদয়-হুতাশ!

এমন কত না আশা                কত ম্লান ভালোবাসা

          প্রতিদিন পড়িছে ঝরিয়া,

তাদের হৃদয়-ব্যথা                তাদের মরণ-গাথা

          কে গাইছে একত্র করিয়া,

পরস্পর পরস্পরে                 ডাকিতেছে নাম ধরে,

          কেহ তাহা শুনিতে না পায়।

কাছে আসে, বসে পাশে,তবুও কথা না ভাষে,

          অশ্রুজলে ফিরে ফিরে যায়।

চায় তবু নাহি পায়,                 অবশেষে নাহি চায়,

          অবশেষে নাহি গায় গান,

ধীরে ধীরে শূন্য হিয়া              বনের ছায়ায় গিয়া

          মুছে আসে সজল নয়ান।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত