আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

শিশু কাব্যগ্রন্থের মাস্টারবাবু । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । Mastarbabu Kobita

Table of Content

“মাস্টারবাবু” কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশু (১৯০৩) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি মজাদার ও হাস্যরসাত্মক শিশু-কবিতা। এখানে শিশুমনের কল্পনায় সে নিজেকে “মাস্টারবাবু” হিসেবে কল্পনা করে তার বেড়ালছানাটিকে পড়াতে বসায়। কিন্তু দুষ্টু বেড়ালছানাটি পড়াশোনায় মন না দিয়ে কেবল খেলা ও দুষ্টুমি করে। শিশুর ভাষায় কবিতাটি শিশু ও প্রাণীর মজার সম্পর্ক, নিষ্পাপ দুষ্টুমি ও পড়াশোনার অবহেলাকে রসাত্মক ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলে।

কবিতার মৌলিক তথ্য

  • কবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

  • কাব্যগ্রন্থ: শিশু

  • প্রকাশকাল: ১৯০৩

  • কবিতার নাম: মাস্টারবাবু (Mastarbabu)

  • বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি: শিশু-কবিতা, হাস্যরস, প্রাণী ও শিশু, কল্পনা

 

 

মাস্টারবাবু – কবিতার পাঠ

আমি আজ কানাই মাস্টার,

     পোড়ো মোর বেড়ালছানাটি।

আমি ওকে মারি নে মা, বেত,

     মিছিমিছি বসি নিয়ে কাঠি।

রোজ রোজ দেরি করে আসে,

     পড়াতে দেয় না ও তো মন,

ডান পা তুলিয়ে তোলে হাই

     যত আমি বলি “শোন্‌ শোন্‌’।

দিনরাত খেলা খেলা খেলা,

     লেখায় পড়ায় ভারি হেলা।

আমি বলি “চ ছ জ ঝ ঞ’,

     ও কেবল বলে “মিয়োঁ মিয়োঁ’।

প্রথম  ভাগের পাতা খুলে

       আমি ওরে বোঝাই মা, কত–

  চুরি করে খাস নে কখনো,

       ভালো হোস গোপালের মতো।

  যত বলি সব হয় মিছে,

       কথা যদি একটিও শোনে–

  মাছ যদি দেখেছে কোথাও

       কিছুই থাকে না আর মনে।

  চড়াই পাখির দেখা পেলে

       ছুটে যায় সব পড়া ফেলে।

  যত বলি “চ ছ জ ঝ ঞ’,

       দুষ্টুমি ক’রে বলে “মিয়োঁ’।

  আমি ওরে বলি বার বার,

       “পড়ার সময় তুমি পোড়ো–

  তার পরে ছুটি হয়ে গেলে

       খেলার সময় খেলা কোরো।’

  ভালোমানুষের মতো থাকে,

       আড়ে আড়ে চায় মুখপানে,

  এম্‌নি সে ভান করে যেন

       যা বলি বুঝেছে তার মানে।

  একটু সুযোগ বোঝে যেই

       কোথা যায় আর দেখা নেই।

  আমি বলি “চ ছ জ ঝ ঞ’,

       ও কেবল বলে “মিয়োঁ মিয়োঁ’।

ভাবার্থ

কবিতাটি শিশুর কল্পনার জগৎকে হাস্যরসে ভরিয়ে তুলেছে। এখানে শিশুটি নিজেকে গুরুগম্ভীর শিক্ষক মনে করে বেড়ালছানাটিকে পড়াতে বসায়, কিন্তু বেড়ালছানার মন কেবল খেলায়, দুষ্টুমিতে ও খাবারে। পড়ার সময় সে হাই তোলে, মাছ বা পাখি দেখলেই মনোযোগ হারায়, আর শিশুর শেখানো অক্ষরের বদলে কেবল “মিয়োঁ মিয়োঁ” বলে। শেষ পর্যন্ত বেড়ালছানাটি শিক্ষকের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে যায়। কবিতাটি শিশুর সহজ-সরল মনের আনন্দময় খেলার প্রতিচ্ছবি।

শব্দার্থ

  • পোড়ো: পড়ো (শেখো)।

  • প্রথম ভাগ: প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকের প্রথম অংশ।

  • গোপাল: শ্রীকৃষ্ণ, শিশুদের কাছে দুষ্টু কিন্তু ভালো স্বভাবের প্রতীক।

  • চ ছ জ ঝ ঞ: বাংলা বর্ণমালার অংশ।

  • মিয়োঁ মিয়োঁ: বেড়ালের ডাকের অনুকরণ।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত