Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া (৭ সংখ্যক কবিতা) |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শেষ সপ্তক |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৫ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আধুনিক গদ্যকবিতা ও আধ্যাত্মিক দার্শনিক লিরিক (Philosophical Prose Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ
আকস্মিক চেতনার নিবিড়তায়
চঞ্চল হয়ে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে,
তখন কোন্ কথা জানাতে তার এত অধৈর্য।
–যে কথা দেহের অতীত।
খাঁচার পাখির কণ্ঠে যে বাণী
সে তো কেবল খাঁচারি নয়,
তার মধ্যে গোপনে আছে সুদূর অগোচরের অরণ্য-মর্মর,
আছে করুণ বিস্মৃতি।
সামনে তাকিয়ে চোখের দেখা দেখি–
এ তো কেবলি দেখার জাল-বোনা নয়।–
বসুন্ধরা তাকিয়ে থাকেন নির্নিমেষে
দেশ-পারানো কোন্ দেশের দিকে,
দিগ্বলয়ের ইঙ্গিতলীন
কোন্ কল্পলোকের অদৃশ্য সংকেতে।
দীর্ঘপথ ভালোমন্দয় বিকীর্ণ,
রাত্রিদিনের যাত্রা দুঃখসুখের বন্ধুর পথে।
শুধু কেবল পথ চলাতেই কি এ পথের লক্ষ্য?
ভিড়ের কলরব পেরিয়ে আসছে গানের আহ্বান,
তার সত্য মিলবে কোন্খানে?
মাটির তলায় সুপ্ত আছে বীজ।
তাকে স্পর্শ করে চৈত্রের তাপ,
মাঘের হিম, শ্রাবণের বৃষ্টিধারা।
অন্ধকারে সে দেখছে অভাবিতের স্বপ্ন।
স্বপ্নেই কি তার শেষ?
উষার আলোয় তার ফুলের প্রকাশ;
আজ নেই, তাই বলে কি নেই কোনোদিনই?
সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- দেহের বন্ধন ও দেহাতীত চেতনা:“অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ / আকস্মিক চেতনার নিবিড়তায় / চঞ্চল হয়ে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে, / … যে কথা দেহের অতীত।”— মানুষ দৈহিক কাঠামোর ভেতর আবদ্ধ হলেও তার অন্তরের প্রাণসত্তা আকস্মিক আত্মিক আলোড়নে চঞ্চল হয়ে ওঠে। সে এমন এক পরম সত্য বা অনুভূতি প্রকাশ করতে ব্যাকুল হয়, যা রক্তমাংসের স্থূল সীমানার অতীত।
- খাঁচার পাখি ও বসুন্ধরার রূপক:“খাঁচার পাখির কণ্ঠে যে বাণী / সে তো কেবল খাঁচারি নয়, / তার মধ্যে গোপনে আছে সুদূর অগোচরের অরণ্য-মর্মর, / আছে করুণ বিস্মৃতি।”— খাঁচায় বন্দি পাখি যেমন সম্পূর্ণ খাঁচার নয়—তার কণ্ঠে অরণ্যের স্মৃতি অনুরণিত হয়, তেমনি মানবাত্মাও নিছক পার্থিব জগতের নয়। এই ধরিত্রীও দৃশ্যমান জগতের ওপারে দিগন্তলীন কোনো এক কল্পলোকের ইশারার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
- সুপ্ত বীজ ও পরম সার্থকতা:“মাটির তলায় সুপ্ত আছে বীজ। / … অন্ধকারে সে দেখছে অভাবিতের স্বপ্ন। / স্বপ্নেই কি তার শেষ? / উষার আলোয় তার ফুলের প্রকাশ; / আজ নেই, তাই বলে কি নেই কোনোদিনই?”— মাটির নিচের অন্ধকারের বীজ যেমন তাপ, শৈত্য ও বৃষ্টির মধ্য দিয়ে গোপনে প্রস্ফুটনের স্বপ্ন দেখে, মানবপ্রাণের যাত্রাও কেবল দুঃখ-সুখের বন্ধুর পথে হেঁটে চলায় শেষ হয় না। বর্তমান মুহূর্তে রূপহীন থাকলেও উষার আলোয় প্রস্ফুটিত ফুলের মতো একদিন অন্তরের সত্যও পূর্ণ মহিমায় প্রকাশিত হবে—এই পরম আশাবাদেই কবিতার সমাপ্তি।