আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

শ্রাবণের পত্র কবিতা । shraboner potro kobita | মানসী  কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

শ্রাবণের পত্র কবিতা [ shraboner potro kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর মানসী  কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ মানসী 

কবিতার নামঃ শ্রাবণের পত্র

শ্রাবণের পত্র কবিতা । shraboner potro kobita | মানসী  কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বন্ধু হে,

     পরিপূর্ণ বরষায়                       আছি তব ভরসায়,

           কাজকর্ম করো সায়, এস চট্‌পট্‌!

     শামলা আঁটিয়া নিত্য               তুমি কর ডেপুটিত্ব,

           একা প’ড়ে মোর চিত্ত করে ছট্‌ফট্‌।

     যখন যা সাজে ভাই                তখন করিবে তাই,

           কালাকাল মানা নাই কলির বিচার!

     শ্রাবণে ডেপুটিপনা                এ তো কভু নয় সনা-

           তন প্রথা, এ যে অনা-সৃষ্টি অনাচার।

     ছুটি লয়ে কোনোমতে            পোট্‌মাণ্টো তুলি রথে

           সেজেগুজে রেলপথে করো অভিসার।

     লয়ে দাড়ি লয়ে হাসি               অবতীর্ণ হও আসি,

           রুধিয়া জানালা শাসি বসি একবার।

     বজ্ররবে সচকিত                  কাঁপিবে গৃহের ভিত,

           পথে শুনি কদাচিৎ চক্র খড়্‌খড়্‌।

     হা রে রে ইংরাজ-রাজ,           এ সাধে হানিলি বাজ–

           শুধু কাজ, শুধু কাজ, শুধু ধড়্‌ফড়্‌।

 

     আমলা-শামলা-স্রোতে          ভাসাইলি এ ভারতে,

           যেন নেই ত্রিজগতে হাসি গল্প গান–

     নেই বাঁশি, নেই বঁধু,                নেই রে যৌবনমধু,

           মুছেছে পথিকবধূ সজল নয়ান।

     যেন রে শরম টুটে                  কদম্ব আর না ফুটে,

           কেতকী শিহরী উঠে করে না আকুল–

     কেবল জগৎটাকে                   জড়ায়ে সহস্র পাকে

           গবর্মেণ্ট পড়ে থাকে বিরাট বিপুল।

     বিষম রাক্ষস ওটা,            মেলিয়া আপিস-কোটা

           গ্রাস করে গোটা গোটা বন্ধুবান্ধবেরে–

বৃহৎ বিদেশে দেশে              কে কোথা তলায় শেষে

           কোথাকার সর্বনেশে সর্বিসের ফেরে।

     এ দিকে বাদর ভরা,                  নবীন শ্যামল ধরা,

           নিশিদিন জল-ঝরা সঘন গগন।

     এ দিকে ঘরের কোণে                বিরহিণী বাতায়নে,

           দিগন্তে তমালবনে নয়ন মগন।

     হেঁট মুণ্ড করি হেঁট               মিছে কর তফভঢ়তঢ়ন,

           খালি রেখে খালি পেট ভরিছ কাগজ।

     এ দিকে যে গোরা মিলে         কালা বন্ধু লুটে নিলে,

           তার বেলা কী করিলে নাই কোনো খোঁজ।

     দেখিছ না আঁখি খুলে               ম্যাঞ্চেস্ট্র লিভারপুলে

           দেশী শিল্প জলে গুলে করিল পভশভড়ব।

     “আষাঢ়ে গল্প’ সে কই,            সেও বুঝি গেল ওই

           আমাদের নিতান্তই দেশের জিনিস।

     তুমি আছ কোথা গিয়া,         আমি আছি শূন্যহিয়া,

           কোথায় বা সে তাকিয়া শোকতাপহরা।

     সে তাকিয়া– গল্পগীতি           সাহিত্যচর্চার স্মৃতি

           কত হাসি কত প্রীতি   কত তুলো   -ভরা!

     কোথায় সে যদুপতি,               কোথা মথুরার গতি,

           অথ, চিন্তা করি ইতি কুরু মনস্থির–

     মায়াময় এ জগৎ                     নহে সৎ নহে সৎ,

           যেন পদ্মপত্রবৎ, তদুপরি নীর।

     অতএব ত্বরা ক’রে                 উত্তর লিখিবে মোরে,

           সর্বদা নিকটে ঘোরে কাল সে করাল–

     ( সুধী তুমি ত্যজি নীর            গ্রহণ করিয়ো ক্ষীর )

           এই তত্ত্ব এ চিঠির জানিয়ো moral।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত