Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | তুমি মোর জীবনের মাঝে (স্মরণ কাব্যের ১৮ সংখ্যক কবিতা) |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | স্মরণ (অনলাইন প্রতিলিপিতে উল্লিখিত ১৯৬১ সালটি রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষের বিশেষ সংস্করণ; মূল কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশ ১৯০৩ সালে) |
| রচনাকাল/প্রথম প্রকাশ | ১৩০৯ বঙ্গাব্দ (১৯০২-১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ) |
| কবিতার ধরন | শোক-স্মৃতিচারণ ও মৃত্যু-উত্তরণের লিরিক কবিতা (Elegiac Lyric of Transfiguration) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
তুমি মোর জীবনের মাঝে
মিশায়েছ মৃত্যুর মাধুরী।
চিরবিদায়ের আভা দিয়া
রাঙায়ে গিয়েছ মোর হিয়া,
এঁকে গেছে সব ভাবনায়
সূর্যাস্তের বরনচাতুরী।
জীবনের দিক্চক্রসীমা
লভিয়াছে অপূর্ব মহিমা,
অশ্রুধৌত হৃদয়-আকাশে
দেখা যায় দূর স্বর্গপুরী।
তুমি মোর জীবনের মাঝে
মিশায়েছ মৃত্যুর মাধুরী।
তুমি, ওগো কল্যাণরূপিণী,
মরণেরে করেছ মঙ্গল।
জীবনের পরপার হতে
প্রতি ক্ষণে মর্ত্যের আলোতে
পাঠাইছ তব চিত্তখানি
মৌনপ্রেমে সজলকোমল।
মৃত্যুর নিভৃত স্নিগ্ধ ঘরে
বসে আছ বাতায়ন-‘পরে–
জ্বালায়ে রেখেছ দীপখানি
চিরন্তন আশায় উজ্জ্বল।
তুমি ওগো কল্যাণরূপিণী,
মরণেরে করেছ মঙ্গল।
তুমি মোর জীবন মরণ
বাঁধিয়াছ দুটি বাহু দিয়া।
প্রাণ তব করি অনাবৃত
মৃত্যু-মাঝে মিলালে অমৃত,
মরণেরে জীবনের প্রিয়
নিজ হাতে করিয়াছ প্রিয়া।
খুলিয়া দিয়াছ দ্বারখানি,
যবনিকা লইয়াছ টানি,
জন্মমরণের মাঝখানে
নিস্তব্ধ রয়েছ দাঁড়াইয়া।
তুমি মোর জীবন মরণ
বাঁধিয়াছ দুটি বাহু দিয়া।

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- মৃত্যুর মাধুর্য ও সূর্যাস্তের আভা:“তুমি মোর জীবনের মাঝে / মিশায়েছ মৃত্যুর মাধুরী। / চিরবিদায়ের আভা দিয়া / রাঙায়ে গিয়েছ মোর হিয়া, / এঁকে গেছে সব ভাবনায় / সূর্যাস্তের বরনচাতুরী।”— প্রয়াণ কোনো শূন্যতা তৈরি করেনি, বরং জীবনের ক্যানভাসে যোগ করেছে এক অলৌকিক গভীরতা। সূর্যাস্তের গোধূলির মতোই বিদায়ের রক্তিমাভা কবির মনের প্রতিটি ভাবনাকে বিষাদমধুর মহিমায় রাঙিয়ে দিয়েছে।
- মরণকে মঙ্গলময় করে তোলা:“তুমি, ওগো কল্যাণরূপিণী, / মরণেরে করেছ মঙ্গল। / … মৃত্যুর নিভৃত স্নিগ্ধ ঘরে / বসে আছ বাতায়ন-‘পরে– / জ্বালায়ে রেখেছ দীপখানি / চিরন্তন আশায় উজ্জ্বল।”— মৃত্যুর ওপারে যদি প্রিয়জন না থাকে, তবে তা ভীতিপ্রদ অন্ধকার। কিন্তু সেখানে স্বয়ং কল্যাণী পত্নী উপস্থিত থাকায় মৃত্যুলোক আর ভয়ের জায়গা নয়; তা এক স্নিগ্ধ গৃহ, যার জানালায় তিনি পরম আশার প্রদীপ জ্বেলে পথ চেয়ে আছেন।
- জীবন ও মৃত্যুর অখণ্ড সেতু:“তুমি মোর জীবন মরণ / বাঁধিয়াছ দুটি বাহু দিয়া। / … জন্মমরণের মাঝখানে / নিস্তব্ধ রয়েছ দাঁড়াইয়া।”— জীবিতাবস্থায় তিনি ছিলেন মর্ত্যজীবনের সঙ্গিনী, আর মৃত্যুর পর তিনি পরপারের অধিবাসী। দুই জগতের মাঝখানের পর্দাটি সরিয়ে দিয়ে তিনি এক হাতে জীবনকে এবং অন্য হাতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে অখণ্ড পরম মিলনের সেতু রচনা করেছেন।
![স্মরণ কাব্যগ্রন্থের ‘তুমি মোর জীবনের মাঝে’ কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 তুমি মোর জীবনের মাঝে tumi mor jiboner majhe [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/12/Rabindranath-Tagore-52-e1649747482466-300x215.jpg.webp)





![অপরাধী oporadhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপরাধী oporadhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/অপরাধী-oporadhi-কবিতা--1024x536.gif)
![শিশু কাব্যগ্রন্থের ঘুমচোরা কবিতা । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । Ghumchora ঘুমচোরা ghumchora [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ঘুমচোরা-ghumchora-কবিতা--1024x536.gif)