বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম দিককার রচনা ‘শৈশব সঙ্গীত’ (১৮৮৪) কাব্যগ্রন্থের একটি আখ্যানমূলক বা গাথাজাতীয় কবিতা হলো ‘অপ্সরা-প্রেম’। এই কবিতায় স্বর্গীয় অপ্সরা এবং মর্ত্যের মানবের মধ্যকার প্রেমের এক পৌরাণিক ও কাল্পনিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | অপ্সরা-প্রেম (গাথা) |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | শৈশব সঙ্গীত |
| প্রকাশের বছর | ১৮৮৪ (১২৯১ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | পৌরাণিক ও আখ্যানমূলক গাথা-কবিতা (Mythological and Narrative Ballad) |
Table of Contents
পুরো কবিতা:
গাথা
নায়িকার উক্তি
রজনীর পরে আসিছে দিবস,
দিবসের পর রাতি।
প্রতিপদ ছিল হ’ল পূরণিমা,
প্রতি নিশি নিশি বাড়িল চাঁদিমা,
প্রতি নিশি নিশি ক্ষীণ হয়ে এল
ফুরালো জোছনাভাতি।
উদিছে তপন উদয়শিখরে,
ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া সারা দিন ধ’রে
ধীর পদক্ষেপে অবসন্ন দেহে
যেতেছে চলিয়া বিশ্রামের গেহে
মলিন বিষণ্ণ অতি।
উদিছে তারকা আকাশের তলে,
আসিছে নিশীথ প্রতি পলে পলে,
পল পল করি যায় বিভাবরী,
নিভিছে তারকা এক এক করি,
হাসিতেছে উষা সতী।
এস গো, সখা, এস গো–
কত দিন ধ’রে বাতায়নপাশে
একেলা বসিয়া, সখা, তব আশে–
দেহে বল নাই, চোখে ঘুম নাই,
পথপানে চেয়ে রয়েছি সদাই–
এস গো, সখা, এস গো!–
সুমুখে তটিনী যেতেছে বহিয়া,
নিশ্বসিছে বায়ু রহিয়া রহিয়া,
লহরীর পর উঠিছে লহরী,
গণিতেছি বসি এক এক করি–
নাই রাতি নাই দিন।
ওই তৃণগুলি হরিত প্রান্তরে
নোয়াইছে মাথা মৃদুবায়ুভরে,
সারা দিন যায়– সারা রাত যায়–
শূন্য আঁখি মেলি চেয়ে আছি হায়–
নয়ন পলকহীন।
বরষে বাদল, গরজে অশনি,
পলকে পলকে চমকে দামিনী,
পাগলের মত হেথায় হোথায়
আঁধার আকাশে বহিতেছে বায়
অবিশ্রাম সারারাতি।
বহিতেছে বায়ু পাদপের ‘পরে,
বহিছে আঁধার-প্রাসাদ-শিখরে,
ভগ্ন দেবালয়ে বহে হুহু করি,
জাগিয়া উঠিছে তটিনীলহরী
তটিনী উঠিছে মাতি।
কোথায় গো, সখা, কোথা গো!
একাকী হেথায় বাতায়নপাশে
রয়েছি বসিয়া, সখা, তব আশে–
দেহে বল নাই, চোখে ঘুম নাই,
পথপানে চেয়ে রয়েছি সদাই–
কোথায় গো, সখা কোথা গো!
যাহারা যাহারা গিয়েছিল রণে,
সবাই ফিরিয়া এসেছে ভবনে,
প্রিয়-আলিঙ্গনে প্রণয়িনীগণ
কাঁদিয়া হাসিয়া মুছিছে নয়ন
কোন জ্বালা নাহি জানে।
আমিই কেবল একা আছি প’ড়ে
পরিশ্রান্ত অতি– আশা ক’রে ক’রে–
নিরাশ পরাণ আর ত রহে না,
আর ত পারি না, আর ত সহে না,
আর ত সহে না প্রাণে।
এস গো, সখা, এস গো!
একাকী হেথায় বাতায়নপাশে
একেলা বসিয়া, সখা, তব আশে–
দেহে বল নাই, চোখে ঘুম নাই,
পথপানে চেয়ে রয়েছি সদাই,
এস গো, সখা, এস গো!–
আসে সন্ধ্যা হয়ে আঁধার আলয়ে–
একেলা রয়েছি বসি,
যে যাহার ঘরে আসিতেছে ফিরে,
জ্বলিছে প্রদীপ কুটীরে কুটীরে,
শ্রান্ত মাথা রাখি বাতায়নদ্বারে
আঁধার প্রান্তরে চেয়ে আছি হা রে–
আকাশে উঠিছে শশী।
কত দিন আর রহিব এমন,
মরণ হইলে বাঁচি রে এখন!
অবশ হৃদয়, দেহ দুরবল,
শুকায়ে গিয়াছে নয়নের জল,
যেতেছে দিবস নিশি!
কোথায় গো সখা, কোথা গো!
কত দিন ধ’রে, সখা, তব আশে
একেলা বসিয়া বাতায়নপাশে–
দেহে বল নাই, চোখে ঘুম নাই,
পথপানে চেয়ে রয়েছি সদাই–
কোথায় গো সখা, কোথা গো!
অপ্সরার উক্তি
অদিতিভবন হইতে যখন
আসিতেছিলাম অলকাপুরে–
মাথার উপরে সাঁঝের গগন,
শারদ তটিনী বহিছে দূরে!
সাঁঝের কনকবরণ সাগর
অলস ভাবে সে ঘুমায়ে আছে,
দেখিনু দারুণ বাধিয়াছে রণ
গউরীশিখর গিরির কাছে।
দেখিনু সহসা বীর একজন
সমরসাগরে গিরির মতন–
পদতলে আসি আঘাতে লহরী,
তবুও অটল-পারা।
বিশাল ললাটে ভ্রূভঙ্গীটি নাই,
শান্ত ভাব জাগে নয়নে সদাই–
উরস-বরমে বরষার মত
বরিষে বাণের ধারা।
অশনিধ্বনিত ঝটিকার মেঘে
দেখেছি ত্রিদশপতি–
চারি দিকে সব ছুটিছে ভাঙ্গিছে,
তিনি সে মহান্ অতি!
এমন উদার শান্ত ভাব বুঝি
দেখি নি তাঁহারো কভু।
পৃথ্বী নত হয় যাঁহার অসিতে,
স্বরগ যে জন পারেন শাসিতে,
দুরবল এই নারীহৃদয়ের
তাঁহারে করিনু প্রভু।
দিলাম বিছায়ে দিব্য পাখাছায়া
মাথার উপরে তাঁর,
মায়া দিয়া তাঁরে রাখিনু আবরি
নাশিতে বাণের ধার।
প্রতি পদে পদে গেনু সাথে সাথে,
দেখিনু সমর ঘোর–
শোণিত হেরিয়া শিহরি উঠিল
আকুল হৃদয় মোর।
থামিল সমর, জয়ী বীর মোর
উঠিলা তরণী-‘পরে,
বহিল মৃদুল পবন, তরণী
চলিল গরবভরে।
গেল কত দিন– পূরবগগনে
উঠিল জলদরেখা,
মুহু ঝলকিয়া ক্ষীণ সৌদামিনী
দূর হ’তে দিল দেখা।
ক্রমশঃ জলদ ছাইল আকাশ,
অশনি সরোষে জ্বলি
মাথার উপর দিয়া তরণীর
অভিশাপ গেল বলি।
সহসা ভ্রূকুটি’ উঠিল সাগর,
পবন উঠিল জাগি,
শতেক ঊরমি মাতিয়া উঠিল
সহসা কিসের লাগি।
দারুণ উল্লাসে সফেন সাগর
অধীর হইল হেন–
ভাঙ্গে-বিভোলা মহেশের মত
নাচিতে লাগিল যেন।
তরণীর ‘পরে একেলা অটল
দাঁড়ায়ে বীর আমার,
শুনি ঝটিকার প্রলয়ের গীত
বাজিছে হৃদয় তাঁর।
দেখিতে দেখিতে ডুবিল তরণী,
ডুবিল নাবিক যত–
যুঝি যুঝি বীর সাগরের সাথে
হইল চেতনহত।
আকাশ হইতে নামিয়া ছুঁইনু
অধীর জলধিজল,
পদতলে আসি করিতে লাগিল
ঊরমিরা কোলাহল।
অধীর পবনে ছড়ায়ে পড়িল
কেশপাশ চারি ধার–
সাগরের কানে ঢালিতে লাগিনু
সুধীরে গীতের ধার!
গীত
কেন গো সাগর এমন চপল
এমন অধীরপ্রাণ,
শুন গো আমার গান
তবে শুন গো আমার গান!
পূরণিমানিশি আসিবে যখন
আসিবে যখন ফিরে–
তার মেঘের ঘোমটা সরায়ে দিব গো
খুলিয়ে দিব গো ধীরে!
যত হাসি তার পড়িবে তোমার
বিশাল হৃদয়-‘পরে,
কত আনন্দে ঊরমি জাগিবে তখন
নাচিবে পুলকভরে!
তবে থাম গো সাগর, থাম গো,
কেন হয়েছ অধীরপ্রাণ?
আমি লহরীশিশুরে করিব তোমার
তারার খেলেনা দান।
দিক্বালাদের বলিয়া দিব,
আঁকিবে তাহারা বসি
প্রতি ঊরমির মাথায় মাথায়
একটি একটি শশী।
তটিনীরে আমি দিব গো শিখায়ে
না হবে তাহার আন,
তারা গাহিবে প্রেমের গান,
তারা কানন হইতে আনিবে কুসুম
করিবে তোমারে দান–
তারা হৃদয় হইতে শত প্রেমধারা
করাবে তোমারে পান!
তবে থাম গো সাগর, থাম গো,
কেন হয়েছ অধীরপ্রাণ?
যদি ঊরমিশিশুরা নীরব নিশীথে
ঘুমাতে নাহিক চায়,
তবে জানিও সাগর ব’লে দিব আমি
আসিবে মৃদুল বায়–
কানন হইতে করিয়া তাহারা
ফুলের সুরভি পান
কানে কানে ধীরে গাহিয়া যাইবে
ঘুম পাড়াবার গান!
অমনি তাহারা ঘুমায়ে পড়িবে
তোমার বিশাল বুকে,
ঘুমায়ে ঘুমায়ে দেখিবে তখন
চাঁদের স্বপন সুখে!
যদি কভু হয় খেলাবার সাধ
আমারে কহিও তবে–
শতেক পবন আসিবে অমনি
হরষ-আকুল রবে–
সাগর-অচলে ঘেরিয়া ঘেরিয়া
হাসিয়া সফেন হাসি
মাথার উপরে ঢালিও তাহার
প্রবালমুকুতারাশি!
তবে রাখ গো আমার কথা,
তবে শুন গো আমার গান,
তবে থাম গো সাগর, থাম গো,
কেন হয়েছ অধীরপ্রাণ?
দেখ প্রবাল-আলয়ে সাগরবালা
গাঁথিতেছিল গো মুকুতামালা,
গাহিতেছিল গো গান,
আঁধার-অলক কপোলের শোভা
করিতেছিল গো পান!
কেহবা হরষে নাচিতেছিল
হরষে পাগল-পারা,
কেশপাশ হ’তে ঝরিতেছিল
নিটোল মুকুতাধারা!
কেহ মণিময় গুহায় বসিয়া
মৃদু অভিমানভরে
সাধাসাধি করে প্রণয়ী আসিয়া
একটি কথার তরে।
এমনি সময়ে শতেক ঊরমি
সহসা মাতিয়ে উঠেছে সুখে,
সহসা এমন লেগেছে আঘাত
আহা সে বালার কোমল বুকে!
ওই দেখ দেখ– আঁচল হইতে
ঝরিয়া পড়িল মুকুতারাশি!
ওই দেখ দেখ– হাসিতে হাসিতে
চমক লাগিয়া ঘুচিল হাসি!
ওই দেখ দেখ– নাচিতে নাচিতে
থমকি দাঁড়ায় মলিনমুখে,
ওই দেখ বালা অভিমান ত্যজি
ঝাঁপায়ে পড়িল প্রণয়ীবুকে!
থাম গো সাগর, থাম গো– থাম গো
হোয়ো না অমন পাগল-পারা–
আহা, দেখ দেখি সাগরললনা
ভয়ে একেবারে হয়েছে সারা!
বিবরণ হয়ে গিয়েছে কপোল,
মলিন হইয়ে গিয়েছে মুখ,
সভয়ে মুদিয়া আসিছে নয়ন
থরথর করি কাঁপিছে বুক!
আহা, থাম তুমি থাম গো–
হোয়ো না অধীরপ্রাণ,
রাখ গো আমার কথা,
ওগো শোন গো আমার গান!
যদি না রাখ আমার কথা,
যদি না থামে প্রমোদ তব,
তবে জানিও সাগর জানিও
আমিসাগরবালারে কব।
তারা জোছনা-নিশীথে ত্যজিয়া আলয়
সাজিয়া মুকুতাবেশে
হাসি হাসি আর গাহিবে না গান
তোমার উপরে এসে।
যে রূপ হেরিয়া লহরীরা তব
হইতে পাগল-মত,
যে গানে মজিয়া কানন ত্যজিয়া
আসিত বায়ুরা যত।
আধখানি তনু সলিলে লুকান’,
সুনিবিড় কেশরাশি
লহরীর সাথে নাচিয়া নাচিয়া
সলিলে পড়িত আসি,
অধীর ঊরমি মুখ চুমিবারে
যতন করিত কত,
নিরাশ হইয়া পড়িত ঢলিয়া
মরমে মিশায়ে যেত।
সে বালারা আর আসিবে না,
সে মধুর হাসি হাসিবে না,
জোছনায় মিশি সে রূপের ছায়া
সলিলে তোমার ভাসিবে না,
তবে থাম গো সাগর, থাম গো–
কেন হয়েছ অধীরপ্রাণ,
তুমি রাখ এ আমার কথা,
তুমি শোন এ আমার গান।
…
দেখিতে দেখিতে শতেক ঊরমি
সাগর-উরসে ঘুমায়ে এল,
দেখিতে দেখিতে মেঘেরা মিলিয়া
সুদূর শিখরে খেলাতে গেল।
যে মহাপবন সাগরহৃদয়ে
প্রলয়খেলায় আছিল রত,
অতি ধীরে ধীরে কপোল আমার
চুমিতে লাগিল প্রণয়ী-মত।
গীতরব মোর দ্বীপের কাননে
বহিয়া লইয়া গেল সে ধীরে–
“কে গায়” বলিয়া কাননবালারা
থামিতে কহিল পাপিয়াটিরে।
বীরেরে তখন লইয়া এলাম
অমরদ্বীপের কাননতীরে,
কুসুমশয়নে অচেতন দেহ
যতন করিয়া রাখিনু ধীরে।
চেতন পাইয়া উঠিল জাগিয়া,
অবাক্ রহিল চাহি,
পৃথিবীর স্মৃতি ঢাকিয়া ফেলিনু
মায়াময় গীত গাহি।
নূতন জীবন পাইয়া তখন
উঠিল সে বীর ধীরে,
সহসা আমারে দেখিতে পাইল
দাঁড়ায়ে সাগরতীরে।
নিমেষ হারায়ে চাহিয়া রহিল
অবাক্ নয়ন তার,
দেখিয়া দেখিয়া কিছুতেই যেন
দেখা ফুরায় না আর!
যেন আঁখি তার করিয়াছে পণ
এইরূপ এক ভাবে
নিমেষ না ফেলি চাহিয়া চাহিয়া
পাষাণ হইয়া যাবে।
রূপে রূপে যেন ডুবিয়া গিয়াছে
তাহার হৃদয়তল,
অবশ আঁখির পলক ফেলিতে
যেন রে নাইক বল!
কাছে গিয়া তার পরশিনু বাহু,
চমকি উঠিল হেন–
তিখিনী তিখিনী অশনি-সমান
বিঁধেছে যে দেহে শত শত বাণ,
নারীর কোমল পরশটুকুও
তার সহিল না যেন!
কাছে গেলে যেন পারে না সহিতে,
অভিভূত যেন পড়ে সে মহীতে,
রূপের কিরণে মন যেন তার
মুদিয়া ফেলে গো আঁখি,
সাধ যেন তার দেখিতে কেবল
অতিশয় দূরে থাকি !
…
নায়কের উক্তি
কি হ’ল গো, কি হ’ল আমার!
বনে বনে সিন্ধুতীরে বেড়াতেছি ফিরে ফিরে,
কি যেন হারান’ ধন খুঁজি আনিবার!
সহসা ভুলিয়ে যেন গিয়েছি কি কথা!
এই মনে আসে-আসে, আর যেন আসে না সে,
অধীর-হৃদয়ে শেষে ভ্রমি হেথা হোথা!
এ কি হ’ল এ কি হ’ল ব্যথা!
সম্মুখে অপার সিন্ধু দিবস যামিনি
অবিশ্রাম কলতানে কি কথা বলে কে জানে,
লুকান’ আঁধার প্রাণে কি এক কাহিনী।
সাধ যায় ডুব দিই, ভেদি গভীরতা
তল হ’তে তুলে আনি সে রহস্য কথা।
বায়ু এসে কি যে বলে পারি নে বুঝিতে
প্রাণ শুধু রহে গো যুঝিতে!
পাপিয়া একাকী কুঞ্জে কাঁপায় আকাশ,
শুনে কেন উঠে রে নিশ্বাস!
ওগো, দেবি, ওগো বনদেবি,
বল মোরে কি হয়েছে মোর!
কি ধন হারায়ে গেছে, কি সে কথা ভুলে গেছি,
হৃদয় ফেলেছে ছেয়ে কি সে ঘুমঘোর।
এ যে সব লতাপাতা হেরি চারি পাশে
এরা সব জানে যেন তবুও বলে না কেন!
আধখানি বলে, আর দুলে দুলে হাসে!
নিশীথে ঘুমাই যবে, কি যেন স্বপন হেরি,
প্রভাতে আসে না তাহা মনে,
কে পারে গো ছিঁড়ে দিতে এ প্রাণের আবরণ–
কি কথা সে রেখেছে গোপনে।
কি কথা সে!
এ হৃদয় অগ্নিগিরি দহিতেছে ধীরে ধীরে
কোন্ খানে কিসের হুতাশে!
…
অপ্সরার উক্তি
হ’ল না গো হ’ল না!
প্রেমসাধ বুঝি পূরিল না।
বল সখা, বল কি-করিব বল,
কী দিলে জুড়াবে হিয়া!
বাছিয়া বাছিয়া তুলিয়াছি ফুল,
তুলেছি গোলাপ, তুলেছি বকুল,
নিজ হাতে আমি রচেছি শয়ন
কমলকুসুম দিয়া।
কাঁটাগুলি সব ফেলেছি বাছিয়া,
রেণুগুলি ধীরে দিয়েছি মুছিয়া,
ফুলের উপরে গুছায়েছি ফুল
মনের মতন করি–
শীতল শিশির দিয়েছি ছিটায়ে
অনেক যতন করি।
হ’ল না গো হ’ল না!
প্রেমসাধ বুঝি পূরিল না!
শুন ওগো সখা, বনবালারে
দিয়েছি যে আমি বলি,
প্রতি শাখে শাখে গাইবে পাখী
প্রতি ফুলে ফুলে অলি।
দেখ চেয়ে দেখ বহিছে তটিনী,
বিমল তটিনী গো।
এত কথা তার রয়েছে প্রাণে,
বলিবারে চায় তটের কানে,
তবুও গভীর প্রাণের কথা
ভাষায় ফুটে নি গো!
দেখ হোথা ওই সাগর আসি
চুমিছে রজত বালুকারাশি,
দেখ হেথা চেয়ে চপল চরণে
চলেছে নিঝরধারা।
তীরে তীরে তার রাশি রাশি ফুল,
হাসি হাসি তারা হতেছে আকুল,
লহরে লহরে ঢলিয়া ঢলিয়া
খেলায়ে খেলায়ে হতেছে সারা।
হ’ল না গো হ’ল না,
প্রেম সাধ বুঝি পূরিল না।
তবে শুনিবে কি সখা গান?
তবে খুলিয়া দিব কি প্রাণ?
তবে চাঁদের হাসিতে নীরব নিশীথে
মিশাব ললিততান?
আমি গাব হৃদয়ের গান।
আমি গাব প্রণয়ের গান।
কভু হাসি কভু সজল নয়ন,
কভু বা বিরহ কভু বা মিলন,
কভু সোহাগেতে ঢল ঢল তনু
কভু মধু অভিমান।
কভু বা হৃদয় যেতেছে ফেটে,
সরমে তবুও কথা না ফুটে,
কভু বা পাষাণে বাধিয়া মরম
ফাটিয়া যেতেছে প্রাণ!
হ’ল না গো হ’ল না,
মনোসাধ আর পূরিল না।
এস তবে এস মায়ার বাঁধন
খুলে দিই ধীরে ধীরে
যেথা সাধ যাও, আমি একাকিনী
ব’সে থাকি সিন্ধুতীরে।
…
গান
সোনার পিঞ্জর ভাঙিয়ে আমার
প্রাণের পাখীটি উড়িয়ে যাক্!
সে যে হেথা গান গাহে না,
সে যে মোরে আর চাহে না,
সুদূর কানন হইতে সে যে
শুনেছে কাহার ডাক,
পাখীটি উড়িয়ে যাক্!
মুদিত নয়ন খুলিয়ে আমার
সাধের স্বপন যায় রে যায়!
হাসিতে অশ্রুতে গাঁথিয়া গাঁথিয়া
দিয়েছিনু তার বাহুতে বাঁধিয়া,
আপনার মনে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
ছিঁড়িয়া ফেলেছে হায় রে হায়!
সাধের স্বপন যায় রে যায়!
যে যায় সে যায় ফিরিয়ে না চায়,
যে থাকে সে শুধু করে হায় হায়,
নয়নের জল নয়নে শুকায়
মরমে লুকায় আশা।
বাঁধিতে পারে না আদরে সোহাগে,–
রজনী পোহায়, ঘুম হতে জাগে,
হাসিয়া কাঁদিয়া বিদায় সে মাগে–
আকাশে তাহার বাসা।
যায় যদি তবে যাক্,
একবার তবু ডাক্!
কি জানি যদি রে প্রাণ কাঁদে তার
তবে থাক্ তবে থাক্!
Puro Kobita:
Gatha
Nayikar ukti
Rajonir pore asichhe dibos,
Diboser por rati.
Protipod chhilo hol purnima,
Proti nishi nishi baril chandima,
Proti nishi nishi khin hoye el
Furalo jochhonabhati.
Udichhe topon udayashikhore,
Bhromiya bhromiya sara din dhore
Dhir podokkhepe obosonno dehe
Yetecchhe choliya bishramer gehe
Malin bishonno oti.
Udichhe taroka akasher tole,
Asichhe nishith proti pole pole,
Pol pol kori jay bibhabori,
Nibhichhe taroka ek ek kori,
Hashitechhe usha soti.
Eso go, sokha, eso go–
Koto din dhore batayonpashe
Ekela boshiya, sokha, tob ashe--
Dehe bol nai, chokhe ghum nai,
Pothpane cheye royechhi sodai--
Eso go, sokha, eso go!--
Sumukhe totini yetecchhe bohiya,
Nishshosichhe bayu rohiya rohiya,
Lohorir por uthichhe lohori,
Gonitechhi bosi ek ek kori--
Nai rati nai din.
Oi tringuli horit prantore
Noyayichhe matha mridubayubhori,
Sara din jay-- sara rat jay--
Shunyo ankhi meli cheye achhi hay--
Noyon polokhin.
Boroshe badol, gorojey oshoni,
Poloke poloke chomke damini,
Pagoler moto hethay hothay
Andhar akashe bohitese bay
Obishram sararati.
Bohitechhe bayu padoper ‘pore,
Bohichhe andhar-prasad-shikhore,
Bhogno debaloye bohe huhu kori,
Jagia uthichhe totinilohori
Totini uthichhe mati.
Kothay go, sokha, kotha go!
Ekaki hethay batayonpashe
Royechhi boshiya, sokha, tob ashe--
Dehe bol nai, chokhe ghum nai,
Pothpane cheye royechhi sodai--
Kothay go, sokha kotha go!
Jahara jahara giyechhilo rone,
Sobai phiriya esechhe bhobone,
Priyo-alingone pronoyinigan
Kandiya hashiya muchhichhe noyon
Kon jwala nahi jane.
Amii kebol eka achhi pore
Porishranto oti-- asha kore kore--
Nirash poran ar to roye na,
Ar to pari na, ar to sohe na,
Ar to sohe na prane.
Eso go, sokha, eso go!
Ekaki hethay batayonpashe
Ekela boshiya, sokha, tob ashe--
Dehe bol nai, chokhe ghum nai,
Pothpane cheye royechhi sodai,
Eso go, sokha, eso go!--
Ase sondhya hoye andhar aloye–
Ekela royechhi bosi,
Je jahaar ghore asitechhe phire,
Jolichhe prodip kutire kutire,
Shanto matha rakhi batayondware
Andhar prantore cheye achhi ha re--
Akashe uthichhe shoshi.
Koto din ar rohhib emon,
Moron hoile banchi re ekhon!
Obosh hridoy, deho durbol,
Shukaye giyechhe noyoner jol,
Yetecchhe dibos nishi!
Kothay go sokha, kotha go!
Koto din dhore, sokha, tob ashe
Ekela boshiya batayonpashe--
Dehe bol nai, chokhe ghum nai,
Pothpane cheye royechhi sodai--
Kothay go sokha, kotha go!
Apsorar ukti
Aditibhobon hoite jokhon
Asitechhilam Alakapure--
Mathar upore sanjher gagan,
Sharod totini bohichhe dure!
Sanjher konokboron sagor
Alos bhabe se ghumaye achhe,
Dikhinu darun bandhiyechhe ron
Gaurishikhor girir kachhe.
Dikhinu sohosa bir ekjon
Somorosagore girir moton--
Podotole asi aghate lohori,
Tobuo otol-para.
Bishal lolate bhru-bhongiti nai,
Shanto bhab jage noyone sodai--
Uros-borome boroshar moto
Borishe baner dhara.
Ashonidhwonit jhotikar meghe
Dekhechhi tridoshpoti--
Chari dike sob chhutichhe bhangichhe,
Tini se mohan oti!
Emon udar shanto bhab bujhi
Dekhi ni taharo kobhu.
Prithwi noto hoy jahar osite,
Sworog je jon paren shashite,
Durbal ei narir hridoyer
Tahare korinu probhu.
Dilem bichhaye dibyo pakhachhaya
Mathar upore tar,
Maya diya tare rakhinu abori
Nashite baner dhar.
Proti pode pode genu sathe sathe,
Dekhinu somor ghor--
Shonit heriya shihori uthil
Akul hridoy mor.
Thamil somor, joyi bir mor
Uthila toroni-'pore,
Bohil mridul pobon, toroni
Cholil gorobbhor-e.
Gel koto din– purbobogogone
Uthil jolodrekha,
Muhu jholakiya khin soudamini
Dur hote dil dekha.
Kromosh jolod chhail akash,
Oshoni soroshe jwole
Mathar upor diya toronir
Obhishap gel boli.
Sohosa bhrukuti’ uthil sagor,
Pobon uthil jagi,
Shotek urmi matiya uthil
Sohosa kiser lagi.
Darun ullase sophen sagor
Odhir hoil hen--
Bhange-bibhola Mahesher moto
Nachite lagil yen.
Toronir ‘pore ekela otol
Danaye bir amar,
Shuni jhotikar proloyer git
Bajichhe hridoy tar.
Dekhite dekhite dubil toroni,
Dubil nabik joto--
Jujhi jujhi bir sagorer sathe
Hoil chetonohot.
Akash hoite namiya chhunu
Odhir jalodhijol,
Podotole asi korite lagil
Urmira kolahal.
Odhiro pobone chhoraye poril
Keshopash chari dhar--
Sagorer kane dhalite laginu
Sudhire giter dhar!
Git
Keno go sagor emon chopol
Emon odhirpran,
Shun go amar gan
Tobe shun go amar gan!
Purnimanisi asibe jokhon
Asibe jokhon phire--
Tar megher ghomta soriye dib go
Khuliye dib go dhire!
Joto hasi tar poribe tomar
Bishal hridoy-'pore,
Koto anonde urmi jagibe tokhon
Nachibe pulokbhore!
Tobe tham go sagor, tham go,
Keno hoyech odhirpran?
Ami lohorishishure korib tomar
Tarar khelena dan.
Dikbalader boliya dib,
Ankibe tahara bosi
Proti urmir mathay mathay
Ekti ekti shoshi.
Totinire ami dib go shikhaye
Na hobe tahar an,
Tara gahibe premer gan,
Tara kanan hoite anibe kusum
Koribe tomare dan--
Tara hridoy hoite shoto premdhara
Korabe tomare pan!
Tobe tham go sagor, tham go,
Keno hoyech odhirpran?
Jodi urmishishura nirob nishithe
Ghumate nahik chay,
Tobe janio sagor bole dib ami
Asibe mridul bay--
Kanan hoite koriya tahara
Fuler surabhi pan
Kane kane dhire gahiya jaibe
Ghum parabar gan!
Amoni tahara ghumaye poribe
Tomar bishal buke,
Ghumaye ghumaye dekhbe tokhon
Chander swopon sukhe!
Jodi kobhu hoy khelabar sadh
Amare kohiyo tobe--
Shotek pobon asibe amoni
Horosh-akul robe--
Sagor-ochole gheriya gheriya
Hashiya sophen hasi
Mathar upore dhalio tahar
Probal-muktarashi!
Tobe rakh go amar kotha,
Tobe shun go amar gan,
Tobe tham go sagor, tham go,
Keno hoyech odhirpran?
Dekh probal-aloye sagorbala
Ganthitechhilo go muktomala,
Gahitichhilo go gan,
Andhar-olok kopoler shobha
Koritechhilo go pan!
Keho ba horoshe nachitechhilo
Horoshe pagol-para,
Keshopash hote jhoritechhilo
Nitol muktadhara!
Keho monimoy guhaye boshiya
Mridu obhimanbhore
Sadhashadhi kore pronoyi ashiya
Ekti kothar tore.
Emni somoye shotek urmi
Sohosa matiye uthechhe sukhe,
Sohosa emon legechhe aghat
Aha se balar komol buke!
Oi dekh dekh-- anchol hoite
Jhoriya poril muktarashi!
Oi dekh dekh-- hashite hashite
Chomok lagiya ghuchhil hasi!
Oi dekh dekh-- nachite nachite
Thamki daray malinmukhe,
Oi dekh bala obhiman tyaji
Jhapiye poril pronoyibuke!
Tham go sagor, tham go-- tham go
Hoyo na omon pagol-para--
Aha, dekh dekhi sagorlolona
Bhoye ekebare hoyechhe sara!
Biboron hoye giyechhe kopol,
Malin hoiye giyechhe mukh,
Shobhoye mudiya asichhe noyon
Thorothor kori kampichhe buk!
Aha, tham tumi tham go--
Hoyo na odhirpran,
Rakh go amar kotha,
Ogo shon go amar gan!
Jodi na rakh amar kotha,
Jodi na thame promod tob,
Tobe janio sagor janio
Ami sagorbalar-e kob.
Tara jochhona-nishithe tyajiya aloy
Sajiya muktabese
Hasi hasi ar gahibe na gan
Tomar upore eshe.
…
Je rup heriya lohorira tob
Hoite pagol-mot,
Je gane majiya kanan tyajiya
Asit bayura joto.
Adhkhani tanu solile lukan',
Sunibir keshorashi
Lohorir sathe nachiya nachiya
Solile porit asi,
Odhir urmi mukh chumbibare
Joton korit koto,
Nirash hoiya porit dhaliya
Morome mishaye jet.
Se balara ar asibe na,
Se modhur hasi hasibe na,
Jochhonay mishi se ruper chhaya
Solile tomar bhasibe na,
Tobe tham go sagor, tham go–
Keno hoyech odhirpran,
Tumi rakh e amar kotha,
Tumi shon e amar gan।
…
Dekhite dekhite shotek urmi
Sagor-urose ghumaye el,
Dekhite dekhite meghera miliya
Sudur shikhore khelate gel.
Je mohapobon sagorhridoye
Proloykhelay achhil rot,
Oti dhire dhire kopol amar
Chumite lagil pronoyi-mot.
Gitorob mor diper kanone
Bohiya loiya gel se dhire--
"Ke gay" boliya kanonbalara
Thamite kohil papiyati-re.
Birere tokhon loiya elam
Omordiper kanontire,
Kusumshoyone ocheton deho
Joton koriya rakhinu dhire.
Chetan paiya uthil jagiya,
Obak rohil chahi,
Prithibir smriti dhakiya phelinu
Mayamoy git gahi.
Nutan jibon paiya tokhon
Uthil se bir dhire,
Sohosa amare dekhite pail
Danaye sagortire.
Nimesh haraye chahiya rohil
Obak noyon tar,
Dekhiya dekhiya kichhutei jen
Dekha furay na ar!
Jen ankhi tar koriyechhe pon
Eirup ek bhabe
Nimesh na pheli chahiya chahiya
Pashan hoye jabe.
Rupe rupe jen dubiya giyechhe
Tahar hridoytol,
Obosh ankhi polok phelite
Jen re naik bol!
Kachhe giya tar poroshinu bahu,
Chamki uthil hen--
Tikhini tikhini oshoni-soman
Bindhechhe je dehe shot shot ban,
Narir komol porosh-tukuku
Tar sahil na jen!
Kachhe gele jen pare na soite,
Abhibhut jen pore se mohite,
Ruper kirone mon jen tar
Mudiya phele go ankhi,
Sadh jen tar dekhite kebol
Otishoy dure thaki!
…
Nayoker ukti
Ki hol go, ki hol amar!
Bane bane sindhutire beratechhi phire phire,
Ki jen haran' dhan khuji anibar!
Sohosa bhuliye jen giyechhi ki kotha!
Ei mone ase-ase, ar jen ase na se,
Adhir-hridoye sheshe bhromi hetha hotha!
E ki hol e ki hol byatha!
Somukhe apar sindhu dibos yamini
Obishram kolotane ki kotha bole ke jane,
Lukan' andhar prane ki ek kahini.
Sadh jay dub di, bhedi gobhirata
Tol hote tule ani se rohosyo kotha.
Bayu eshe ki je bole pari ne bujhite
Pran shudhu roye go jujhite!
Papia ekaki kunje kampay akash,
Shune keno uthe re nishshash!
Ogo, debi, ogo bonodebi,
Bol more ki hoyechhe mor!
Ki dhan haraye gechhe, ki se kotha bhule gechhi,
Hridoy phelechhe chheye ki se ghumghor.
E je sob lotapata heri chari pashe
E-ra sob jane jen tobuo bole na keno!
Adhkhani bole, ar dule dule hase!
Nishithe ghumai jobe, ki jen swopon heri,
Prabhate ase na taha mone,
Ke pare go chhire dite e praner aboron–
Ki kotha se rekhechhe gopone.
Ki kotha se!
E hridoy agnigiri dahitechhe dhire dhire
Kon khane kiser hutash-e!
…
Apsorar ukti
Hol na go hol na!
Premosadh bujhi puril na.
Bol sokha, bol ki-korib bol,
Ki dile jurabe hiya!
Bachhiya bachhiya tuliyachhi phul,
Tulechhi golap, tulechhi bokul,
Nij hate ami rochhechhi shayon
Komolkusum diya.
Kantaguli sob phelechhi bachhiya,
Renuguli dhire diyechhi muchhiya,
Fuler upore guchhayechhi phul
Moner moton kori--
Shitol shishir diyechhi chhitaye
Onek joton kori.
Hol na go hol na!
Premosadh bujhi puril na!
Shun ogo sokha, bonbalare
Diyechhi je ami boli,
Proti shakhe shakhe gaibe pakhi
Proti phule phule oli.
Dekh cheye dekh bohichhe totini,
Bimol totini go.
Et kotha tar royechhe prane,
Bolibare chay toter kane,
Tobu-o gobhir praner kotha
Bhashay phute ni go!
Dekh hotha oi sagor asi
Chumichhe rojat balukarashi,
Dekh hetha cheye chopol chorone
Cholchhe nijhorodhara.
Tire tire tar rashi rashi phul,
Hasi hasi tara hotchhe akul,
Lohore lohore dhaliya dhaliya
Khelaye khelaye hotchhe sara.
Hol na go hol na,
Prem sadh bujhi puril na.
Tobe shunibe ki sokha gan?
Tobe khuliya dib ki pran?
Tobe chander hashite nirob nishithe
Mishab lolitatan?
Ami gab hridoyer gan.
Ami gab pronoyer gan.
Kobhu hasi kobhu sojol noyon,
Kobhu ba birah kobhu ba milon,
Kobhu sohagete dhol dhol tanu
Kobhu modhu obhiman.
Kobhu ba hridoy yetecchhe phete,
Sorome tobuu kotha na phute,
Kobhu ba pashane badhiya morom
Phatiya yetecchhe pran!
Hol na go hol na,
Monosadh ar puril na.
Eso tobe es mayar bandhon
Khule di dhire dhire
Yetha sadh jao, ami ekakini
Bose thaki sindhutire।
…
Gan
Sonar pinjor bhangiye amar
Praner pakhiti uriye jak!
Se je hetha gan gahe na,
Se je more ar chahe na,
Sudur kanan hoite se je
Shunechhe kahar dak,
Pakhiti uriye jak!
Mudit noyon khuliye amar
Sadh-er swopon jay re jay!
Hashite oshrute ganthiya ganthiya
Diyechhinu tar bahute bandhiya,
Apnar mone kandiya kandiya
Chhiriya phelechhe hay re hay!
Sadh-er swopon jay re jay!
Je jay se jay phiriye na chay,
Je thake se shudhu kore hay hay,
Noyoner jol noyone shukay
Morome lukay asha.
Bandhite pare na adore sohage,–
Rojoni pohay, ghum hote jage,
Hashiya kandiya biday se mage–
Akashe tahar basa.
Jay jodi tobe jak,
Ekbar tobu dak!
Ki jani jodi re pran kande tar
Tobe thak tobe thak!
- স্বর্গ ও মর্ত্যের প্রেম:কবিতায় দেখানো হয়েছে কীভাবে স্বর্গের ঐশ্বর্য ও অমরত্ব মর্ত্যের মানুষের নিখাদ ভালোবাসার কাছে ম্লান হয়ে যায়। অপ্সরা তার স্বর্গীয় পরিচয় ভুলে একজন সাধারণ মানবের প্রেমে গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়ে এবং স্বর্গের সুখ ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়।
- অমরত্ব বনাম নশ্বর জীবন:স্বর্গের অপ্সরা অমর এবং চিরযৌবনা, অন্যদিকে মর্ত্যের মানুষ নশ্বর। এই দুই ভিন্ন জগতের প্রাণীর মধ্যকার প্রেমের যে চিরন্তন সংকট, প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অনিবার্য বিচ্ছেদের আশঙ্কা—তা কবিতায় অত্যন্ত করুণ ও সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
- আখ্যান বা গাথা-বৈশিষ্ট্য:কবিতাটি মূলত একটি গল্প বলে। এতে চরিত্র, সংলাপ এবং ঘটনার এক চমৎকার পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা রয়েছে, যা পাঠকদের এক কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। এটি কৈশোরক রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক কল্পনাবিলাস এবং আবেগঘন বর্ণনার এক অনবদ্য দলিল।
