আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

দেবদারু কবিতা | debdaru kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

দেবদারু কবিতাটি [ debdaru-kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা-কাব্যগ্রন্থের অংশ।

দেবদারু debdaru

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ দেবদারু debdaru

 

দেবদারু কবিতা | debdaru kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দেবদারু, তুমি মহাবাণী

দিয়েছ মৌনের বক্ষে প্রাণমন্ত্র আনি–

          যে প্রাণ নিস্তব্ধ ছিল মরুদূর্গতলে

                   প্রস্তরশৃঙ্খলে

          কোটি কোটি যুগযুগান্তরে।

যে প্রথম যুগে তুমি দেখা দিলে নির্জনে প্রান্তরে,

রুদ্ধ অগ্নিতেজের উচ্ছ্বাস

          উদ্‌ঘাটন করি দিল ভবিষ্যের ইতিহাস–

                   জীবের কঠিন দ্বন্দ্ব অন্তহীন,

                   দুঃখে সুখে যুদ্ধ রাত্রিদিন,

                   জ্বেলে ক্ষোভহুতাশন

          অন্তরবিবরে যাহা সর্পসম করে অন্দোলন

                   শিখার রসনা

                   অশান্ত বাসনা।

                   স্নিগ্ধ স্তব্ধ রূপে

          শ্যামল শান্তিতে তুমি চুপে চুপে

          ধরণীর রঙ্গভূমে রচি দিলে কী ভূমিকা–

          তারই মাঝে প্রাণীর হৃদয়রক্তে লিখা

                   মহানাট্য জীবনমৃত্যুর,

                   কঠিন নিষ্ঠুর

                    দুর্গম পথের দুঃসাহস।

          যে পতাকা ঊর্ধ্বপানে তুলেছিল নিরলস,

          বলো কে জানিত তাহা নিরন্তর যুদ্ধের পতাকা,

                   সৌম্যকান্তি-দিয়ে-ঢাকা!

          কে জানিত, আজ আমি এ-জন্মের জীবন মন্থিয়া

                   যে বাণী উদ্ধার করি চলেছি গ্রন্থিয়া

                   দিনে দিনে আমার আয়ুতে,

                   সে যুগের বসন্তবায়ুতে

                             প্রথম নীরব মন্ত্র তারই

                   ভাষাহারা মর্মরেতে দিয়েছ বিস্তারি

                             তুমি, বনস্পতি,

                   মোর জ্যোতিবন্দনায় জন্মপূর্ব প্রথম প্রণতি!

Amar Rabindranath Logo

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত