বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীথিকা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম জীবনোচ্ছল ও প্রকৃতিপ্রেমের কবিতা হলো ‘প্রাণের ডাক’। এই কবিতায় প্রকৃতির স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের স্পন্দনের সাথে মানুষের অন্তরের একাত্মতার কথা বলা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | প্রাণের ডাক |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | বীথিকা |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৫ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | জীবনমুখী ও প্রকৃতিপ্রেমের গীতি-কবিতা (Life-affirming and Nature Lyrical Poem) |
সুদূর আকাশে ওড়ে চিল,
উড়ে ফেরে কাক,
বারে বারে ভোরের কোকিল
ঘন দেয় ডাক।
জলাশয় কোন্ গ্রামপারে,
বক উড়ে যায় তারই ধারে,
ডাকাডাকি করে শালিখেরা।
প্রয়োজন থাক্ নাই থাক্
যে যাহারে খুশি দেয় ডাক,
যেথাসেথা করে চলাফেরা।
উছল প্রাণের চঞ্চলতা
আপনারে নিয়ে।
অস্তিত্বের আনন্দ ও ব্যথা
উঠিছে ফেনিয়ে।
জোয়ার লেগেছে জাগরণে–
কলোল্লাস তাই অকারণে,
মুখরতা তাই দিকে দিকে।
ঘাসে ঘাসে পাতায় পাতায়,
কী মদিরা গোপনে মাতায়,
অধীরা করেছে ধরণীকে।
নিভৃতে পৃথক কোরো নাকো
তুমি আপনারে।
ভাবনার বেড়া বেঁধে রাখো
কেন চারি ধারে।
প্রাণের উল্লাস অহেতুক
রক্ত তব হোক-না উৎসুক,
খুলে রাখো অনিমেষ চোখ;
ফেলো জাল চারি দিক ঘিরে,
যাহা পাও টেনে লও তীরে
ঝিনুক শামুক যাই হোক।
হয়তো বা কোনো কাজ নাই,
ওঠো তবু ওঠো;
বৃথা হোক, তবুও বৃথাই
পথ-পানে ছোটো।
মাটির হৃদয়খানি ব্যেপে
প্রাণের কাঁপন ওঠে কেঁপে,
কেবল পরশ তার লহো।
আজি এই চৈত্রের প্রভাতে
আছ তুমি সকলের সাথে,
এ কথাটি মনে প্রাণে কহো।

- প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস:“সুদূর আকাশে ওড়ে চিল, / উড়ে ফেরে কাক… প্রয়োজন থাক্ নাই থাক্ / যে যাহারে খুশি দেয় ডাক,”— আকাশের চিল, কাক, ভোরের কোকিল বা শালিখেরা কোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়াই ডাকাডাকি করে। প্রকৃতির প্রতিটি জীব তাদের নিজেদের মতো করে এক স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীন আনন্দে মেতে ওঠে।
- প্রাণের অহেতুক আনন্দ:“অস্তিত্বের আনন্দ ও ব্যথা / উঠিছে ফেনিয়ে। / জোয়ার লেগেছে জাগরণে– / কলোল্লাস তাই অকারণে,”— পৃথিবীতে টিকে থাকার বা অস্তিত্বের এক নিজস্ব আনন্দ রয়েছে। প্রকৃতির ঘাসে ও পাতায় যেন এক গোপন নেশা কাজ করছে, যা ধরণীকে চঞ্চল করে তুলেছে। এই জেগে ওঠার জোয়ারেই চারদিক অকারণে মুখর হয়ে উঠেছে।
- মানুষের প্রতি প্রকৃতির আহ্বান:“নিভৃতে পৃথক কোরো নাকো / তুমি আপনারে… হয়তো বা কোনো কাজ নাই, / ওঠো তবু ওঠো;”— কবি মানুষকে নিজের খোলস বা ভাবনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির এই বিশাল প্রাণের স্পন্দনের সাথে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো কাজ না থাকলেও অকারণে পথে নামতে বলেছেন এবং চৈত্রের এই সকালে মহাবিশ্বের সকলের সাথে নিজের অস্তিত্বের একাত্মতা মনে প্রাণে উপলব্ধি করতে বলেছেন।









![স্রোত srot [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্রোত srot [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/স্রোত-srot-কবিতা--1024x536.gif)
