আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

কল্পনা কাব্যগ্রন্থের মদনভস্মের পূর্বে কবিতা [ Modonbhoshmer Purbe ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ “কল্পনা” বাংলা কবিতায় এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই গ্রন্থে কবি পুরাণ, কল্পলোক, প্রেম, প্রকৃতি ও মানবচেতনার সূক্ষ্ম মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। “মদনভস্মের পূর্বে” কবিতাটি সেই কাব্যগ্রন্থের অন্যতম উল্লেখযোগ্য রচনা, যেখানে কবি মদনদেবতার ভস্মীভবনের পূর্ববর্তী এক স্বর্ণযুগের কল্পচিত্র অঙ্কন করেছেন।

এই কবিতায় প্রেম, যৌবন, প্রকৃতি ও মানব-দেবতার এক স্বতঃস্ফূর্ত ঐক্য প্রকাশ পেয়েছে—যেখানে অনঙ্গ দেবতা কেবল কামনার প্রতীক নন, বরং সৃষ্টিশীল জীবনীশক্তির মূর্ত রূপ। কবিতার শুরুতে আমরা দেখি এক প্রাচীন, সৌন্দর্যে পূর্ণ জগৎ—যেখানে তরুণ-তরুণী, বন-উপবন, নদী, পশুপাখি এবং দেবতার আবির্ভাব এক অবিচ্ছিন্ন আনন্দযজ্ঞে মিলিত। শেষাংশে কবি সেই অতীতের প্রেমময় আহ্বানকে বর্তমানেও আহ্বান করেন, যেন দেবতার স্পর্শে আবার নবীন হয় মানবজগৎ ও ধরণী।

 

মদনভস্মের পূর্বে কবিতা [ Modonbhoshmer Purbe ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একদা তুমি অঙ্গ ধরি ফিরিতে নব ভুবনে

          মরি মরি অনঙ্গদেবতা।

কুসুমরথে মকরকেতু উড়িত মধু-পবনে

         পথিকবধূ চরণে প্রণতা।

ছড়াত পথে আঁচল হতে অশোক চাঁপা করবী

         মিলিয়া যত তরুণ তরুণী,

বকুলবনে পবন হত সুরার মতো সুরভি–

        পরান হত অরুণবরনী।

সন্ধ্যা হলে কুমারীদলে বিজন তব দেউলে

       জ্বালায়ে দিত প্রদীপ যতনে,

শূন্য হলে তোমার তৃণ বাছিয়া ফুলমুকুলে

        সায়ক তারা গড়িত গোপনে।

কিশোরকবি মুগ্ধছবি বসিয়া তব সোপানে

        বাজায়ে বীণা রচিত রাগিণী।

হরিণ-সাথে হরিণী আসি চাহিত দীন নয়ানে,

         বাঘের সাথে আসিত বাঘিনী।

হাসিয়া যবে তুলিতে ধনু প্রণয়ভীরু ষোড়শী

         চরণে ধরি করিত মিনতি।

পঞ্চশর গোপনে লয়ে কৌতূহলে উলসি

         পরখছলে খেলিত যুবতী।

শ্যামল তৃণশয়নতলে ছড়ায়ে মধুমাধুরী

        ঘুমাতে তুমি গভীর আলসে,

ভাঙাতে ঘুম লাজুক বধূ করিত কত চাতুরী–

         নূপুর দুটি বাজাত লালসে।

কাননপথে কলস লয়ে চলিত যবে নাগরী

         কুসুমশর মারিতে গোপনে,

যমুনাকূলে মনের ভুলে ভাসায়ে দিয়ে গাগরি

        রহিত চাহি আকুল নয়নে।

বাহিয়া তব কুসুমতরী সমুখে আসি হাসিতে,

         শরমে বালা উঠিত জাগিয়া–

শাসনতরে বাঁকায়ে ভুরু নামিয়া জলরাশিতে

        মারিত জল হাসিয়া রাগিয়া।

তেমনি আজো উদিছে বিধু, মাতিছে মধুযামিনী,

         মাধবীলতা মুদিছে মুকুলে–

বকুলতলে বাঁধিছে চুল একেলা বসি কামিনী

         মলয়ানীল-শিথিল-দুকূলে।

বিজন নদীপুলিনে আজো ডাকিছে চখা চখীরে,

         মাঝেতে বহে বিরহবাহিনী।

গোপনব্যথা-কাতরা বালা বিরলে ডাকি সখীরে

         কাঁদিয়া কহে করুণ কাহিনী।

এসো গো আজি অঙ্গ ধরি সঙ্গে করি সখারে,

         বন্যমালা জড়ায়ে অলকে–

এসো গোপনে মৃদুচরণে বাসরগৃহদুয়ারে

         স্তিমিতশিখা প্রদীপ-আলোকে।

এসো চতুর মধুর হাসি তড়িৎসম সহসা

         চকিত করো বধূরে হরষে–

নবীন করো মানবঘর, ধরণী করো বিবশা

        দেবতাপদ-সরস-পরশে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত