আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

অন্তরতম ontorotomo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

অন্তরতম ontorotomo [ কবিতা ]

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : ক্ষণিকা [ ১৯০০ ]

কবিতার শিরোনামঃ অন্তরতম

অন্তরতম ontorotomo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অন্তরতম

আমি যে তোমায় জানি, সে তো কেউ   জানে না।

তুমি মোর পানে চাও, সে তো কেউ    মানে না।

        মোর মুখে পেলে তোমার আভাস

        কত জনে কত করে পরিহাস,

               পাছে সে না পারি সহিতে

         নানা ছলে তাই ডাকি যে তোমায়–

                কেহ কিছু নারে কহিতে।

অন্তরতম ontorotomo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

         তোমার পথ যে তুমি চিনায়েছ

                সে কথা বলি নে কাহারে।

         সবাই ঘুমালে জনহীন রাতে

                একা আসি তব দুয়ারে।

         স্তব্ধ তোমার উদার আলয়,

         বীণাটি বাজাতে মনে করি ভয়,

                চেয়ে থাকি শুধু নীরবে।

         চকিতে তোমার ছায়া দেখি যদি

                ফিরে আসি তব গরবে।

         প্রভাত না হতে কখন আবার

                গৃহকোণ-মাঝে আসিয়া

         বাতায়নে বসি বিহ্বল বীণা

                বিজনে বাজাই হাসিয়া।

         পথ দিয়ে যে বা আসে যে বা যায়

         সহসা থমকি চমকিয়া চায়,

                মনে করে তারে ডেকেছি–

         জানে না তো কেহ কত নাম দিয়ে

                এক নামখানি ঢেকেছি।

         ভোরের গোলাপ সে গানে সহসা

                সাড়া দেয় ফুলকাননে,

         ভোরের তারাটি সে গানে জাগিয়া

                চেয়ে দেখে মোর আননে।

         সব সংসার কাছে আসে ঘিরে,

         প্রিয়জন সুখে ভাসে আঁখিনীরে,

                হাসি জেগে ওঠে ভবনে।

         যে নামে যে ছলে বীণাটি বাজাই

                সাড়া পাই সারা ভুবনে।

         নিশীথে নিশীথে বিপুল প্রাসাদে

                তোমার মহলে মহলে

         হাজার হাজার সোনার প্রদীপ

                জ্বলে অচপল অনলে।

         মোর দীপে জ্বেলে তাহারি আলোক

         পথ দিয়ে আসি, হাসে কত লোক,

               দূরে যেতে হয় পালায়ে–

         তাই তো শিখা সে ভবনশিখরে

               পারি নে রাখিতে জ্বালায়ে।

         বলি নে তো কারে, সকালে বিকালে

               তোমার পথের মাঝেতে

         বাঁশি বুকে লয়ে বিনা কাজে আসি

               বেড়াই ছদ্মসাজেতে।

         যাহা মুখে আসে গাই সেই গান

         নানা রাগিণীতে দিয়ে নানা তান,

               এক গান রাখি গোপনে।

         নানা মুখপানে আঁখি মেলি চাই,

               তোমা-পানে চাই স্বপনে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত