শেষ সপ্তক কাব্যগ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ সপ্তক কাব্যগ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে’ কবিতাটি তাঁর আত্মপরিচয়, সময়বোধ, জন্ম-মৃত্যুর দর্শন এবং দীর্ঘ সৃষ্টিজীবনের এক গভীর আত্মসমীক্ষামূলক রচনা। কবিতাটি ১৩৪২ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯৩৫ সালে, কবির জীবনের শেষ পর্বে রচিত। এটি শেষ সপ্তক-এর ৪৩ নম্বর কবিতা এবং শুরুতেই “শ্রীমান অমিয়চন্দ্র চক্রবতী কল্যাণীয়েষু” সম্বোধন রয়েছে।

কবিতাটির কেন্দ্রীয় প্রতীক ‘পঁচিশে বৈশাখ’—রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন। কিন্তু এখানে জন্মদিন কেবল একটি ব্যক্তিগত জন্মতারিখ নয়; এটি সময়ের প্রবাহে একের পর এক ‘রবীন্দ্রনাথ’-এর জন্ম ও বিলয়ের প্রতীক। কবি নিজের শৈশব, যৌবন, প্রেম, সাধনা, সাহিত্যসৃষ্টি, সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নির্মিত নিজের নানা পরিচয়কে ফিরে দেখেছেন।

Table of Contents

কবিতার মূল তথ্য

বিষয়তথ্য
কবিতার নামপঁচিশে বৈশাখ চলেছে
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থশেষ সপ্তক
প্রকাশকাল১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ
বঙ্গাব্দ১৩৪২
কবিতার ক্রম৪৩
উৎসর্গ/সম্বোধনশ্রীমান অমিয়চন্দ্র চক্রবর্তী কল্যাণীয়েষু
প্রধান বিষয়সময়, জন্ম-মৃত্যু, আত্মপরিচয়, স্মৃতি, সৃষ্টিজীবন ও উত্তরাধিকার
প্রধান প্রতীকপঁচিশে বৈশাখ, রথ, পাত্র, মালা, একতারা, সমুদ্র, দীপ, সুর
রচনার প্রকৃতিআত্মসমীক্ষামূলক ও দার্শনিক কবিতা

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের শেষ পর্যায়ের কবিতাগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আত্মস্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের পুনর্বিবেচনা। বয়স যত এগিয়েছে, তাঁর কাছে ‘রবীন্দ্রনাথ’ নামটি তত বেশি একটি একক ব্যক্তিসত্তার বদলে বহু সময়ের বহু অভিজ্ঞতায় নির্মিত একটি চলমান সত্তায় পরিণত হয়েছে।

‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে’ কবিতায় সেই উপলব্ধিই বিশেষভাবে প্রকাশিত। কবি নিজের জন্মদিনকে সামনে রেখে নিজের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে যেন একে একে পিছনে ফিরে দেখেছেন। শৈশবের যে মানুষটি একসময় ছিল, তাকে বর্তমানের কেউ আর চেনে না; যৌবনের যে মানুষটি প্রেম, সৌন্দর্য ও সৃষ্টির সন্ধানে বেরিয়েছিল, সেও পরে পরিবর্তিত হয়েছে; আবার জীবনের সংগ্রাম ও সামাজিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে অন্য এক রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্র রচনাবলীর পাঠে কবিতাটি শেষ সপ্তক-এর ৪৩ নম্বর রচনা হিসেবে পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ কবিতা

শ্রীমান অমিয়চন্দ্র চক্রবতী কল্যাণীয়েষু

পঁচিশে বৈশাখ চলেছে

জন্মদিনের ধারাকে বহন করে

মৃত্যুদিনের দিকে।

সেই চলতি আসনের উপর বসে

কোন্‌ কারিগর গাঁথছে

ছোটো ছোটো জন্মমৃত্যুর সীমানায়

নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা।

রথে চড়ে চলেছে কাল;

পদাতিক পথিক চলতে চলতে

পাত্র তুলে ধরে,

পায় কিছু পানীয়;–

পান সারা হলে

পিছিয়ে পড়ে অন্ধকারে;

চাকার তলায়

ভাঙা পাত্র ধুলায় যায় গুঁড়িয়ে।

তার পিছনে পিছনে

নতুন পাত্র নিয়ে যে আসে ছুটে,

পায় নতুন রস,

একই তার নাম,

কিন্তু সে বুঝি আর-একজন।

একদিন ছিলেম বালক।

কয়েকটি জন্মদিনের ছাঁদের মধ্যে

সেই যে-লোকটার মূর্তি হয়েছিল গড়া

তোমরা তাকে কেউ জান না।

সে সত্য ছিল যাদের জানার মধ্যে

কেউ নেই তারা।

সেই বালক না আছে আপন স্বরূপে

না আছে কারো স্মৃতিতে।

সে গেছে চলে তার ছোটো সংসারটাকে নিয়ে;

তার সেদিনকার কান্না-হাসির

প্রতিধ্বনি আসে না কোনো হাওয়ায়।

তার ভাঙা খেলনার টুকরোগুলোও

দেখিনে ধুলোর ‘পরে।

সেদিন জীবনের ছোটো গবাক্ষের কাছে

সে বসে থাকত বাইরের দিকে চেয়ে।

তার বিশ্ব ছিল

সেইটুকু ফাঁকের বেষ্টনীর মধ্যে।

তার অবোধ চোখ-মেলে চাওয়া

ঠেকে যেত বাগানের পাঁচিলটাতে

সারি সারি নারকেল গাছে।

সন্ধ্যেবেলাটা রূপকথার রসে নিবিড়;

বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝখানে

বেড়া ছিল না উঁচু,

মনটা এদিক থেকে ওদিকে

ডিঙিয়ে যেত অনায়াসেই।

প্রদোষের আলো-আঁধারে

বস্তুর সঙ্গে ছায়াগুলো ছিল জড়িয়ে,

দুইই ছিল একগোত্রের।

সে-কয়দিনের জন্মদিন

একটা দ্বীপ,

কিছুকাল ছিল আলোতে,

কাল-সমুদ্রের তলায় গেছে ডুবে।

ভাঁটার সময় কখনো কখনো

দেখা যায় তার পাহাড়ের চূড়া,

দেখা যায় প্রবালের রক্তিম তটরেখা।

পঁচিশে বৈশাখ তার পরে দেখা দিল

আর-এক কালান্তরে,

ফাল্গুনের প্রত্যুষে

রঙিন আভার অস্পষ্টতায়।

তরুণ যৌবনের বাউল

সুর বেঁধে নিল আপন একতারাতে,

ডেকে বেড়াল

নিরুদ্দেশ মনের মানুষকে

অনির্দেশ্য বেদনার খ্যাপা সুরে।

সেই শুনে কোনো-কোনোদিন বা

বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মীর আসন টলেছিল,

তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন

তাঁর কোনো কোনো দূতীকে

পলাশবনের রঙমাতাল ছায়াপথে

কাজ-ভোলানো সকাল-বিকালে।

তখন কানে কানে মৃদু গলায় তাদের কথা শুনেছি,

কিছু বুঝেছি, কিছু বুঝিনি।

দেখেছি কালো চোখের পক্ষ্ণরেখায়

জলের আভাস;

দেখেছি কম্পিত অধরে নিমীলিত বাণীর

বেদনা;

শুনেছি ক্বণিত কঙ্কণে

চঞ্চল আগ্রহের চকিত ঝংকার।

তারা রেখে গেছে আমার অজানিতে

পঁচিশে বৈশাখের

প্রথম ঘুমভাঙা প্রভাতে

নতুন ফোটা বেলফুলের মালা;

ভোরের স্বপ্ন

তারি গন্ধে ছিল বিহ্বল।

সেদিনকার জন্মদিনের কিশোর জগৎ

ছিল রূপকথার পাড়ার গায়ে-গায়েই,

জানা না-জানার সংশয়ে।

সেখানে রাজকন্যা আপন এলোচুলের আবরণে

কখনো বা ছিল ঘুমিয়ে,

কখনো বা জেগেছিল চমকে উঠে’

সোনার কাঠির পরশ লেগে।

দিন গেল।

সেই বসন্তীরঙের পঁচিশে বৈশাখের

রঙ-করা প্রাচীরগুলো

পড়ল ভেঙে।

যে পথে বকুলবনের পাতার দোলনে

ছায়ায় লাগত কাঁপন,

হাওয়ায় জাগত মর্মর,

বিরহী কোকিলের

কুহুরবের মিনতিতে

আতুর হত মধ্যাহ্ন,

মৌমাছির ডানায় লাগত গুঞ্জন

ফুলগন্ধের অদৃশ্য ইশারা বেয়ে,

সেই তৃণ-বিছানো বীথিকা

পৌঁছল এসে পাথরে-বাঁধানো রাজপথে।

সেদিনকার কিশোরক

সুর সেধেছিল যে-একতারায়

একে একে তাতে চড়িয়ে দিল

তারের পর নতুন তার।

সেদিন পঁচিশে বৈশাখ

আমাকে আনল ডেকে

বন্ধুর পথ দিয়ে

তরঙ্গমন্দ্রিত জনসমুদ্রতীরে।

বেলা-অবেলায়

ধ্বনিতে ধ্বনিতে গেঁথে

জাল ফেলেছি মাঝদরিয়ায়;

কোনো মন দিয়েছে ধরা,

ছিন্ন জালের ভিতর থেকে

কেউ বা গেছে পালিয়ে।

কখনো দিন এসেছে ম্লান হয়ে,

সাধনায় এসেছে নৈরাশ্য,

গ্লানিভারে নত হয়েছে মন।

এমন সময়ে অবসাদের অপরাহ্নে

অপ্রত্যাশিত পথে এসেছে

অমরাবতীর মর্ত্যপ্রতিমা;

সেবাকে তারা সুন্দর করে,

তপঃক্লান্তের জন্যে তারা

আনে সুধার পাত্র;

ভয়কে তারা অপমানিত করে

উল্লোল হাস্যের কলোচ্ছ্বাসে;

তারা জাগিয়ে তোলে দুঃসাহসের শিখা

ভস্মে-ঢাকা অঙ্গারের থেকে;

তারা আকাশবাণীকে ডেকে আনে

প্রকাশের তপস্যায়।

তারা আমার নিবে-আসা দীপে

জ্বালিয়ে গেছে শিখা,

শিথিল-হওয়া তারে

বেঁধে দিয়েছে সুর,

পঁচিশে বৈশাখকে

বরণমাল্য পরিয়েছে

আপন হাতে গেঁথে।

তাদের পরশমণির ছোঁওয়া

আজো আছে

আমার গানে আমার বাণীতে।

সেদিন জীবনের রণক্ষেত্রে

দিকে দিকে জেগে উঠল সংগ্রামের সংঘাত

গুরু গুরু মেঘমন্দ্রে।

একতারা ফেলে দিয়ে

কখনো বা নিতে হল ভেরী।

খর মধ্যাহ্নের তাপে

ছুটতে হল

জয়পরাজয়ের আবর্তনের মধ্যে।

পায়ে বিঁধেছে কাঁটা,

ক্ষত বক্ষে পড়েছে রক্তধারা।

নির্মম কঠোরতা মেরেছে ঢেউ

আমার নৌকার ডাইনে বাঁয়ে,

জীবনের পণ্য চেয়েছে ডুবিয়ে দিতে

নিন্দার তলায়, পঙ্কের মধ্যে।

বিদ্বেষে অনুরাগে

ঈর্ষায় মৈত্রীতে,

সংগীতে পরুষ কোলাহলে

আলোড়িত তপ্ত বাষ্পনিঃশ্বাসের মধ্য দিয়ে

আমার জগৎ গিয়েছে তার কক্ষপথে।

এই দুর্গমে, এই বিরোধ-সংক্ষোভের মধ্যে

পঁচিশে বৈশাখের প্রৌঢ় প্রহরে

তোমরা এসেছ আমার কাছে।

জেনেছ কি,

আমার প্রকাশে

অনেক আছে অসমাপ্ত

অনেক ছিন্ন বিচ্ছিন্ন

অনেক উপেক্ষিত?

অন্তরে বাহিরে

সেই ভালো মন্দ,

স্পষ্ট অস্পষ্ট,

খ্যাত অখ্যাত,

ব্যর্থ চরিতার্থের জটিল সম্মিশ্রণের মধ্য থেকে

যে আমার মূর্তি

তোমাদের শ্রদ্ধায়, তোমাদের ভালোবাসায়,

তোমাদের ক্ষমায়

আজ প্রতিফলিত,

আজ যার সামনে এনেছ তোমাদের মালা,

তাকেই আমার পঁচিশে বৈশাখের

শেষবেলাকার পরিচয় বলে

নিলেম স্বীকার করে,

আর রেখে গেলেম তোমাদের জন্যে

আমার আশীর্বাদ।

যাবার সময় এই মানসী মূর্তি

রইল তোমাদের চিত্তে,

কালের হাতে রইল বলে

করব না অহংকার।

তার পরে দাও আমাকে ছুটি

জীবনের কালো-সাদা সূত্রে গাঁথা

সকল পরিচয়ের অন্তরালে;

নির্জন নামহীন নিভৃতে;

নানা সুরের নানা তারের যন্ত্রে

সুর মিলিয়ে নিতে দাও

এক চরম সংগীতের গভীরতায়।

 

Romanized Version

Shriman Amiyachandra Chakrabarti Kalyaniyeshu

Pochishe Boishakh cholechhe

Jonmodiner dharake bohon kore

Mrityudiner dike.

Sei cholti asoner upor bose

Kon karigor gãthchhe

Chhoto chhoto jonmomrityur simanay

Nana Rabindranather ekkhana mala.

Rothe chore cholchhe kaal;

Podatik pothik cholte cholte

Patro tule dhore,

Pay kichhu paniyo;—

Pan sara hole

Pichhiye pore andhokare;

Chakar talay

Bhanga patro dhulay jay guriye.

Tar pichhone pichhone

Notun patro niye je ase chhute,

Pay notun ros,

Ekoi tar nam,

Kintu se bujhi ar-ekjon.

Ekdin chhilem balok.

Koyekti jonmodiner chhãder moddhe

Sei je-loktar murti hoyechhilo gora

Tomra take keu jan na.

Se sotyo chhilo jader janar moddhe

Keu nei tara.

Sei balok na ache apon swarupe

Na ache karo smritite.

Se gechhe chole tar chhoto songsartake niye;

Tar sedinkar kanna-hasir

Protidhwani ase na kono hawyay.

Tar bhanga khelnar tukroguloo

Dekhini dhulor ’pore.

Sedinkar jiboner chhoto gobakkher kachhe

Se bose thakto bairer dike cheye.

Tar bishwo chhilo

Seituku phãker bestonir moddhe.

Tar obodh chokh-mele chawa

Theke jeto baganer pãchiltate

Sari sari narkel gachhe.

Sandhyebelata rupkothar rose nibir;

Bishwas obishwaser majhkhane

Bera chhilo na unchu,

Monta edik theke odike

Dingie jeto anayasei.

Prodosher alo-andhare

Bostur songe chhayagulo chhilo joriye,

Du-i chhilo ekgotrer.

Se-koydiner jonmodin

Ekta dip,

Kichhukaal chhilo alote,

Kaal-somudrer talay gechhe dube.

Bhãtar somoy kokhono kokhono

Dekha jay tar paharer chura,

Dekha jay probaler roktim totorekha.

Pochishe Boishakh tar pore dekha dil

Ar-ek kalantore,

Phalguner protyushe

Rongin abhar ospostotay.

Torun jouboner baul

Sur bãdhe nil apon ektarate,

Deke beral

Niruddesh moner manushke

Anirdeshyo bedonar khyapa sure.

Sei shune kono-kono din ba

Baikunthe Lokkhmir ason tole chhilo,

Tini pathiye diyechhen

Tãr kono kono duti-ke

Polashboner rongmatol chhayapothe

Kaj-bholano sokal-bikale.

Tokhon kane kane mridu golay tãder kotha shunechhi,

Kichhu bujhechhi, kichhu bujhini.

Dekhechhi kalo chokher pokkhonrekhay

Joler abhas;

Dekhechhi kompito odhore nimilito banir

Bedona;

Shunechhi kvanito kankone

Chonchol agroher chokit jhonkar.

Tara rekhe gechhe amar ajanite

Pochishe Boishakher

Prothom ghum-bhanga probhate

Notun phota belphuler mala;

Bhorer swapno

Tari gondhe chhilo bihwol.

Sedinkar jonmodiner kishor jagot

Chhilo rupkothar parar gaye-gayei,

Jana-na-janar songshoye.

Sekhane rajkonnya apon elochuler aborone

Kokhono ba chhilo ghumiye,

Kokhono ba jegechhilo chomke uthe

Sonar kathir porosh lege.

Din gelo.

Sei bosonti-ronger Pochishe Boishakher

Rong-kora prachirgulo

Porlo bhenge.

Je pothe bokulboner patar dolone

Chhayay lagto kãpon,

Haway jagto mormor,

Birohi kokiler

Kuhuraber minotite

Atur hoto modhyahno,

Moumachhir danay lagto gunjon

Phulgondher odrishyo isharay beye,

Sei trin-bichhano bithika

Pouchhlo eshe pathore-bãdhano rajpothe.

Sedinkar kishork

Sur sedhechhilo je-ektaray

Eke eke tate choriye dil

Tarer por notun tar.

Sedin Pochishe Boishakh

Amake anlo deke

Bondhur poth diye

Torongomondrito janasamudratire.

Bela-obelay

Dhonite dhonite gẽthe

Jal phelechhi majhdoriyay;

Kono mon diyechhe dhora,

Chhinno jaler bhitor theke

Keu ba gechhe paliye.

Kokhono din eshechhe mlan hoye,

Sadhonay eshechhe nairashyo,

Glani-bhare noto hoyechhe mon.

Emon somoye obosader oporahne

Oprotyashito pothe eshechhe

Amaraboti-r martyoprotima;

Sebake tara shundor kore,

Tapah-klanter jonyo tara

Ane sudhar patro;

Bhoyke tara opomanito kore

Ullol hashyer kollole;

Tara jagiye tole dusshahoser shikha

Bhoshme-dhaka angarer theke;

Tara akashbanike deke ane

Prokash-er tapossyay.

Tara amar nibhe-asha dipe

Jaliye gechhe shikha,

Shithil-howa tare

Bẽdhe diyechhe sur,

Pochishe Boishakhke

Baronmallya poriyechhe

Apon hate gẽthe.

Tãder poroshmonir chhõwa

Ajo ache

Amar gane amar banite.

SedIn jiboner ronokshetre

Dike dike jege uthlo songramer songhat

Guru guru meghomondre.

Ektara phele diye

Kokhono ba nite holo bheri.

Khor modhyahner tape

Chhutte holo

Joy-porajoyer abartoner moddhe.

Pay-e bĩdhechhe kãta,

Kshot bokshe porechhe rokto-dhara.

Nirmom kothorota merechhe dheu

Amar noukar daine bãye,

Jiboner ponno cheyechhe dubiye dite

Nindar talay, panker moddhe.

Bidweshe onurage

Irshay moitrite,

Sangite porush kolahole

Alorito topto bashponishshasher moddho diye

Amar jagot gechhe tar kokkhopothe.

Ei durgome, ei birodh-songkshobher moddhe

Pochishe Boishakher prouRh prohore

Tomra eshechho amar kachhe.

Jenechho ki,

Amar prokashe

Onek ache asomapto

Onek chhinno bichchhinno

Onek upekshito?

Antore baire

Sei bhalo mondo,

Spashto ospashto,

Khyato okhyato,

Byartho choritarther jotil sommishroner modhyo theke

Je amar murti

Tomader shraddhay, tomader bhalobashay,

Tomader khomay

Aj protifolito,

Aj jar samne ene chho tomader mala,

Takei amar Pochishe Boishakher

Shesh-belakar porichoy bole

Nilem swikar kore,

Ar rekhe gelem tomader jonyo

Amar ashirbad.

Jabar somoy ei manosi murti

Roil tomader chitte,

Kaler hate roil bole

Korbo na ohongkar.

Tar pore dao amake chhuti

Jiboner kalo-sada sutre gãtha

Sokol porichoyer ontorale;

Nirjon namahin nibhrite;

Nana surer nana tarer jontre

Sur miliye nite dao

Ek chorom sangiter gobhiratay.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

১. জন্মদিন থেকে মৃত্যুদিনের দিকে যাত্রা

কবিতার প্রথম কয়েকটি পঙ্‌ক্তিতেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমগ্র জীবনকে একটি যাত্রা হিসেবে দেখিয়েছেন—

“পঁচিশে বৈশাখ চলেছে
জন্মদিনের ধারাকে বহন করে
মৃত্যুদিনের দিকে।”

এখানে জন্মদিন একটি স্থির বিন্দু নয়; বরং প্রতিটি বছর মানুষকে তার শেষ পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ককে কবি ভয় বা আতঙ্কের ভাষায় দেখেননি। বরং এটি সময়ের স্বাভাবিক প্রবাহ।

২. ‘নানা রবীন্দ্রনাথ’-এর জন্ম

কবিতার অন্যতম গভীর ভাবনা হলো—একজন মানুষ সারাজীবন একই মানুষ থাকেন না।

শিশু রবীন্দ্রনাথ, কিশোর রবীন্দ্রনাথ, তরুণ প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, সংগ্রামী রবীন্দ্রনাথ এবং পরিণত রবীন্দ্রনাথ—প্রত্যেকেই আলাদা এক একটি সত্তা।

তাই কবি বলেন—

“নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা।”

একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায় যেন একটি আলাদা ফুল; সময় সেই ফুলগুলো গেঁথে একটি মালা তৈরি করে।

৩. সময়ের হাতে পুরোনো সত্তার বিলয়

‘পাত্র’-এর উপমাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ সময়ের পথে এসে জীবনের রস গ্রহণ করে, তারপর সেই পাত্র ভেঙে যায়; তার জায়গায় নতুন পাত্র আসে।

“একই তার নাম,
কিন্তু সে বুঝি আর-একজন।”

নাম একই থাকলেও মানুষটির অভিজ্ঞতা, চিন্তা, অনুভূতি ও আত্মপরিচয় বদলে যায়। এই পরিবর্তনই মানবজীবনের স্বাভাবিক সত্য।

৪. হারিয়ে যাওয়া শৈশব

কবিতার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শৈশবের স্মৃতি। কিন্তু কবি জানেন, সেই শিশুটিকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

“সেই বালক না আছে আপন স্বরূপে
না আছে কারো স্মৃতিতে।”

শৈশবের ছোট্ট জানালা, বাগানের পাঁচিল, নারকেলগাছ, সন্ধ্যার আলো-আঁধারি, রূপকথার আবহ—সবই একসময় বাস্তব ছিল। এখন তারা স্মৃতির গভীরে নিমজ্জিত।

‘দ্বীপ’ ও ‘কাল-সমুদ্র’-এর চিত্রকল্পে এই স্মৃতির অবস্থান অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কখনো ভাঁটার সময়ে যেমন ডুবে যাওয়া দ্বীপের পাহাড়ের চূড়া দেখা যায়, তেমনি জীবনের গভীরে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কিছু অংশও স্মৃতিতে হঠাৎ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

৫. যৌবন, প্রেম ও সৌন্দর্যের আবির্ভাব

শৈশবের পর আসে আর-এক ‘পঁচিশে বৈশাখ’—যৌবনের।

তখন কবি নিজেকে দেখতে পান ‘বাউল’-এর মতো। তাঁর হাতে একতারা, তিনি খুঁজছেন “নিরুদ্দেশ মনের মানুষকে”।

এই অংশে প্রেম, সৌন্দর্য, কল্পনা ও শিল্পসৃষ্টির পারস্পরিক সম্পর্ক ফুটে ওঠে। পলাশবন, বসন্ত, বেলফুলের মালা, ভোরের স্বপ্ন, রাজকন্যা ও সোনার কাঠি—সব মিলিয়ে যৌবনের জগৎটি রূপকথার মতো।

৬. কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবতার রাজপথে

সময় এগিয়ে গেলে সেই রূপকথার জগৎ আর থাকে না।

“সেই তৃণ-বিছানো বীথিকা
পৌঁছল এসে পাথরে-বাঁধানো রাজপথে।”

এটি কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপক। শৈশব ও যৌবনের কোমল, কল্পনাময়, ব্যক্তিগত পথ পরিণত বয়সে এসে বাস্তব জীবনের কঠিন রাজপথে পৌঁছেছে।

একইভাবে একতারায় একের পর এক নতুন তার যুক্ত হয়েছে। শিল্পীর সৃষ্টিও সময়ের সঙ্গে প্রসারিত হয়েছে।

৭. শিল্পীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক

কবি তাঁর সৃষ্টিজীবনকে সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মাঝদরিয়ায় জাল ফেলেছেন—

“ধ্বনিতে ধ্বনিতে গেঁথে
জাল ফেলেছি মাঝদরিয়ায়;”

কখনো কোনো মন সেই জালে ধরা দিয়েছে, আবার কেউ ছিন্ন জালের ফাঁক দিয়ে পালিয়ে গেছে।

এখানে কবির সাহিত্য ও সংগীতের সঙ্গে পাঠক-শ্রোতার সম্পর্কের একটি রূপক পাওয়া যায়। শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে চান, কিন্তু প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে সেই যোগাযোগ সমানভাবে সম্পূর্ণ হয় না।

৮. অবসাদ ও পুনর্জাগরণ

সৃষ্টিজীবনে শুধু সাফল্য ছিল না। এসেছে নৈরাশ্য, ক্লান্তি ও আত্মগ্লানি।

কিন্তু সেই মুহূর্তে জীবনে এসেছে এমন কিছু মানুষ, যারা কবির ভাষায় “অমরাবতীর মর্ত্যপ্রতিমা”। তারা সেবা, সাহস, আনন্দ ও সৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে তাঁর নিভে-আসা দীপে আবার আগুন জ্বালিয়েছে।

“তারা আমার নিবে-আসা দীপে
জ্বালিয়ে গেছে শিখা,”

এই অংশে কবি মানুষের ভালোবাসা ও সহমর্মিতাকে সৃষ্টিশক্তির পুনর্জাগরণের উৎস হিসেবে দেখেছেন।

৯. শিল্পীর জীবনও এক রণক্ষেত্র

পরিণত বয়সে রবীন্দ্রনাথের পৃথিবী শুধু সৌন্দর্যের পৃথিবী নয়; সেখানে এসেছে বিরোধ, সমালোচনা, নিন্দা, ঈর্ষা, সংগ্রাম ও সামাজিক সংঘাত।

তাই একতারার পাশাপাশি তাঁকে কখনো “ভেরী” নিতে হয়েছে।

“একতারা ফেলে দিয়ে
কখনো বা নিতে হল ভেরী।”

অর্থাৎ শিল্পীকে কখনো শুধু সৌন্দর্যের সাধক হয়ে থাকলে চলে না; বাস্তব জীবনের সংঘাতের মধ্যেও তাঁকে প্রবেশ করতে হয়।

১০. অসম্পূর্ণ মানুষ ও সম্পূর্ণ ‘মূর্তি’

কবিতার শেষভাগে রবীন্দ্রনাথ নিজের পরিচয় সম্পর্কে সবচেয়ে গভীর স্বীকারোক্তি করেছেন।

তিনি স্বীকার করেন, তাঁর প্রকাশের মধ্যে রয়েছে—

  • অসমাপ্ততা,
  • ছিন্ন-বিচ্ছিন্নতা,
  • উপেক্ষিত অংশ,
  • ভালো ও মন্দ,
  • স্পষ্ট ও অস্পষ্ট,
  • খ্যাত ও অখ্যাত,
  • ব্যর্থতা ও সাফল্য।

অর্থাৎ মানুষের কোনো প্রকাশই একরৈখিক নয়।

তবু মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ক্ষমার মধ্য দিয়ে তাঁর একটি ‘মূর্তি’ তৈরি হয়েছে। সেই মূর্তিই তাঁর শেষ জীবনের সামাজিক পরিচয়।

১১. শেষ পরিচয়ের পর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা

কবিতার শেষ অংশটি অত্যন্ত শান্ত এবং গভীর।

কবি চান, মানুষের দেওয়া পরিচয়ের পরে তাঁকে যেন ছুটি দেওয়া হয়—

“সকল পরিচয়ের অন্তরালে;
নির্জন নামহীন নিভৃতে;”

এখানে তিনি খ্যাতি বা পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এক গভীরতর সত্তার সন্ধান করতে চান।

শেষে সেই আকাঙ্ক্ষা সংগীতের উপমায় প্রকাশিত হয়েছে—

“সুর মিলিয়ে নিতে দাও
এক চরম সংগীতের গভীরতায়।”

জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, সাফল্য, ব্যর্থতা, প্রেম, বিরোধ, আনন্দ ও বেদনার বিচ্ছিন্ন তারগুলোকে একত্র করে এক ‘চরম সংগীত’-এ মিলিয়ে নেওয়াই যেন তাঁর শেষ সাধনা।

কবিতাটির দার্শনিক তাৎপর্য

‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে’ মূলত একটি জন্মদিনের কবিতা হলেও এর গভীরে এটি আত্মপরিচয় ও সময়ের কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ এখানে নিজের জীবনকে স্মরণ করেছেন, কিন্তু আত্মজীবনী লেখার মতো করে নয়। তিনি নিজের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে আলাদা আলাদা ‘রবীন্দ্রনাথ’ হিসেবে দেখেছেন। ফলে কবিতাটি ব্যক্তিগত স্মৃতি অতিক্রম করে মানুষের সাধারণ অস্তিত্বের প্রশ্নে পৌঁছে যায়।

মানুষের নাম একই থাকে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি প্রতিনিয়ত বদলায়। শৈশবের মানুষটি যৌবনের মানুষ নয়; যৌবনের মানুষটি পরিণত বয়সের মানুষ নয়। প্রতিটি পর্যায় যেন পূর্ববর্তী সত্তার জন্ম ও মৃত্যু।

এই কারণেই কবিতার প্রথম পঙ্‌ক্তির “জন্মদিনের ধারাকে” শেষ পর্যন্ত “মৃত্যুদিনের দিকে” নিয়ে যাওয়ার ভাবটি সমগ্র কবিতার কাঠামোকে ধারণ করে।

‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রতীকের তাৎপর্য

‘পঁচিশে বৈশাখ’ এখানে তিনটি অর্থ বহন করে।

প্রথমত, এটি রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন।

দ্বিতীয়ত, এটি তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের পুনর্জন্মের প্রতীক।

তৃতীয়ত, এটি তাঁর সৃষ্টিশীল পরিচয়ের একটি চলমান পরিমাপ—যে পরিচয় প্রতি বছর নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন সম্পর্ক ও নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে।

তাই কবিতায় একই ‘পঁচিশে বৈশাখ’ কখনো শৈশবের, কখনো যৌবনের, কখনো সংগ্রামের, আবার শেষদিকে আত্মসমীক্ষার পঁচিশে বৈশাখ হয়ে ওঠে।

‘নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা’

কবিতার অন্যতম স্মরণীয় চিত্রকল্প হলো—

“নানা রবীন্দ্রনাথের একখানা মালা।”

এই একটি চিত্রকল্পেই কবিতার একটি বড় দর্শন ধরা পড়ে। একজন মানুষের জীবন আসলে একটিমাত্র পরিচয়ের ধারাবাহিকতা নয়। বহু বয়স, বহু অভিজ্ঞতা, বহু সম্পর্ক, বহু অনুভূতি ও বহু সৃষ্টির সমন্বয়ে একটি ব্যক্তিসত্তা গড়ে ওঠে।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর নিজের জীবনকে সেই মালার সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রতিটি ‘রবীন্দ্রনাথ’ একটি আলাদা ফুল; সময় তাদের একসূত্রে গেঁথে দিয়েছে।

শেষ পঙ্‌ক্তির তাৎপর্য

কবিতার শেষ আকাঙ্ক্ষা কোনো ব্যক্তিগত গৌরবের নয়। বরং কবি চান সমস্ত পরিচয় ও নামের বাইরে গিয়ে একটি গভীরতর সুরের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে।

“নানা সুরের নানা তারের যন্ত্রে
সুর মিলিয়ে নিতে দাও
এক চরম সংগীতের গভীরতায়।”

এই সমাপ্তি কবিতাটিকে জন্মদিনের স্মৃতিচারণ থেকে এক গভীর আধ্যাত্মিক ও নান্দনিক উপলব্ধিতে উন্নীত করেছে।

এখানে জীবনকে একটি বিচ্ছিন্ন সুরের সমষ্টি হিসেবে দেখা হয়েছে; আর মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া মানে সেই বিচ্ছিন্ন সুরগুলিকে এক বৃহত্তর সংগীতে মিলিয়ে দেওয়া।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ

‘পঁচিশে বৈশাখ চলেছে’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর দীর্ঘ জীবনকে পেছন ফিরে দেখেছেন। শৈশবের হারিয়ে যাওয়া মানুষ, যৌবনের প্রেম ও কল্পনা, শিল্পসাধনা, মানুষের ভালোবাসা, অবসাদ, সংগ্রাম, সাফল্য ও ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে তিনি নিজের বহুস্তরীয় পরিচয়কে পুনরাবিষ্কার করেছেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেছেন যে মানুষের কাছে যে ‘রবীন্দ্রনাথ’ পরিচিত, সেটিও তাঁর সমগ্র সত্তা নয়। সেই সামাজিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অন্তরালে তিনি খুঁজেছেন এক নামহীন, নির্জন গভীরতা—যেখানে জীবনের নানা সুর এক চরম সংগীতে মিলিত হতে পারে।

মূল ভাবনা এক নজরে

  • জন্মদিন একই সঙ্গে জীবনের অগ্রসরমান সময়ের স্মারক।
  • মানুষের জীবনে একাধিক ‘আমি’ জন্ম নেয় এবং বিলীন হয়।
  • শৈশব ও যৌবনের মানুষকে পরবর্তী বয়সের মানুষ আর সম্পূর্ণভাবে ফিরে পায় না।
  • শিল্পসৃষ্টি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়।
  • জীবনের সংগ্রাম শিল্পীর সৃষ্টিসত্তাকেও পরিবর্তিত করে।
  • মানুষের সামাজিক পরিচয় তার সম্পূর্ণ সত্তাকে ধারণ করে না।
  • শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ক্ষমার মধ্য দিয়ে অন্যের মনে একজন মানুষের একটি ‘মূর্তি’ তৈরি হয়।
  • শেষ পর্যন্ত কবির আকাঙ্ক্ষা খ্যাতির বাইরে গিয়ে এক গভীরতর সুরের সঙ্গে মিলিত হওয়া।

উৎস

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেষ সপ্তক, ১৩৪২ বঙ্গাব্দ/১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ।
  • রবীন্দ্র রচনাবলী, “শেষ সপ্তক — তেতাল্লিশ”।
  • রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি-ভিত্তিক Bichitra Tagore Electronic Hypertext Project, School of Cultural Texts and Records, Jadavpur University।
  • সঞ্চয়িতা-য় কবিতাটি “পঁচিশে বৈশাখ” নামে সংকলিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন