গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ‘ওগো মৌন, না যদি কও’ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (১৯১০)-র এটি একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর প্রার্থনাগীত (পরবর্তীকালে রবীন্দ্রসঙ্গীত হিসেবেও অত্যন্ত জনপ্রিয়)। যখন পরমাত্মা নীরব থাকেন এবং সাধকের ডাকে সাড়া দেন না, তখন সেই পরম মৌনতাকে অন্তরে ধারণ করে অবিচল ধৈর্য ধরার আকুল বাসনা এ রচনায় ফুটে উঠেছে। রাতের আঁধারে নক্ষত্রেরা যেমন নিমেষহীন চোখে প্রভাতের প্রতীক্ষায় জেগে থাকে, ভক্তের চিত্তও তেমনি সমাহিত হয়ে থাকে। সাধকের বিশ্বাস—একদিন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রভাতের আলোকধারার মতোই ভগবানের বাণী আকাশ বিদীর্ণ করে নেমে আসবে, এবং তাঁরই সুরের পরশে ভক্তের অন্তরের বনলতায় আনন্দের ফুল ফুটবে ও নীড়ের পাখির কণ্ঠে সুর জাগবে।

পুরো কবিতা:

ওগো মৌন-না যদি কও

              না-ই কহিলে কথা।

       বক্ষ ভরি বইব আমি

              তোমার নীরবতা।

                           স্তব্ধ হয়ে রইব পড়ে,

                           রজনী রয় যেমন করে

                           জ্বালিয়ে তারা নিমেষহারা

                                  ধৈর্যে অবনতা।

       হবে হবে প্রভাত হবে

              আঁধার যাবে কেটে।

       তোমার বাণী সোনার ধারা

              পড়বে আকাশ ফেটে।

                           তখন আমার পাখির বাসায়

                           জাগবে কি গান তোমার ভাষায়।

                           তোমার তানে ফোটাবে ফুল

                                  আমার বনলতা?

 

Ogo moun—na jodi kôo puro kobita

Ogo moun—na jodi kôo

Na-i kohile kotha.

Bokkho bhori boib ami

Tomar nirobota.

Stobdho hoye roib pore,

Rojoni roy jemon kore

Jwāliẏe tara nimesh-hara

Dhoirye obonota.

Hobe hobe probhat hobe

Andhar jabe kete.

Tomar bani sonar dhara

Porbe akash phete.

Tokhon amar pakhir basay

Jagbe ki gaan tomar bhashay.

Tomar tane photabe phul

Amar bonolota?

মূল ভাব ও তাৎপর্য:
  • নীরবতার উপাসনা ও ধৈর্য: ঈশ্বরের বাণীর অনুপস্থিতি কোনো শূন্যতা নয়; তাঁর নীরবতাও একটি মহাশক্তি। ভক্ত জোর করে কোনো শব্দ বা উত্তর ছিনিয়ে নিতে চান না, বরং সেই মৌনতাকে বুকে ধারণ করে রাতের নক্ষত্রের মতো অতন্দ্র ও অবনত চিত্তে অপেক্ষা করেন।
  • প্রভাতের নববাণীর প্রত্যাশা: অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। যখন সময় পূর্ণ হবে, তখন ঈশ্বরের বাণী সোনার আলোর ধারায় আকাশ ফেটে ঝরে পড়বে। সেই ঐশ্বরিক সুরে জাগবে প্রকৃতির গান ও প্রাণের স্ফুরণ।
গানটির স্বরলিপি, সুরবিন্যাস ও সম্পূর্ণ অনুমোদিত পাঠের জন্য বিশ্বভারতী প্রকাশিত ‘গীতবিতান’ বা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি দেখে নিতে পারেন অথবা ইন্টারনেটে গুগল সার্চ করে এর পূর্ণাঙ্গ লিরিক অনুসন্ধান করতে পারেন।

মন্তব্য করুন