আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

স্মরণ কবিতা | soron kobita | সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

স্মরণ কবিতাটি [ soron kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থের অংশ।

স্মরণ

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ সেঁজুতি

কবিতার নামঃ স্মরণ

 

 

স্মরণ কবিতা | soron kobita | সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যখন রব না আমি মর্তকায়ায়

          তখন স্মরিতে যদি হয় মন

তবে তুমি এসো হেথা নিভৃত ছায়ায়

          যেখা এই চৈত্রের শালবন।

হেথায় যে মঞ্জরী দোলে শাখে শাখে,

          পুচ্ছ নাচায়ে যত পাখি গায়,

ওরা মোর নাম ধরে কভু নাহি ডাকে,

          মনে নাহি করে বসি নিরালায়।

কত যাওয়া কত আসা এই ছায়াতলে

          আনমনে নেয় ওরা সহজেই,

মিলায় নিমেষে কত প্রতি পলে পলে

          হিসাব কোথাও তার কিছু নেই।

ওদের এনেছে ডেকে আদিসমীরণে

          ইতিহাসলিপিহারা যেই কাল

আমারে সে ডেকেছিল কভু খনে খনে,

          রক্তে বাজায়েছিল তারি তাল।

সেদিন ভুলিয়াছিনু কীর্তি ও খ্যাতি,

          বিনা পথে চলেছিল ভোলা মন;

চারি দিকে নামহারা ক্ষণিকের জ্ঞাতি

          আপনারে করেছিল নিবেদন।

 

 

সেদিন ভাবনা ছিল মেঘের মতন,

          কিছু নাহি ছিল ধরে রাখিবার;

সেদিন আকাশে ছিল রূপের স্বপন,

          রঙ ছিল উড়ো ছবি আঁকিবার।

সেদিনের কোনো দানে ছোটো বড়ো কাজে

          স্বাক্ষর দিয়ে দাবি করি নাই;

যা লিখেছি যা মুছেছি শূন্যের মাঝে

          মিলায়েছে, দাম তার ধরি নাই।

সেদিনের হারা আমি– চিহ্নবিহীন

          পথ বেয়ে কোরো তার সন্ধান,

হারাতে হারাতে যেথা চলে যায় দিন,

          ভরিতে ভরিতে ডালি অবসান।

মাঝে মাঝে পেয়েছিল আহ্বান-পাঁতি

          যেখানে কালের সীমারেখা নেই–

খেলা করে চলে যায় খেলিবার সাথি

          গিয়েছিল দায়হীন সেখানেই।

দিন নাই, চাই নাই, রাখি নি কিছুই

          ভালো মন্দের কোনো জঞ্জাল;

চলে-যাওয়া ফাগুনের ঝরা ফুলে ভুঁই

          আসন পেতেছে মোর ক্ষণকাল।

 

সেইখানে মাঝে মাঝে এল যারা পাশে

          কথা তারা ফেলে গেছে কোন্‌ ঠাঁই;

সংসার তাহাদের ভোলে অনায়াসে,

          সভাঘরে তাহাদের স্থান নাই।

বাসা যার ছিল ঢাকা জনতার পারে,

          ভাষাহারাদের সাথে মিল যার,

যে আমি চায় নি কারে ঋণী করিবারে,

          রাখিয়া যে যায় নাই ঋণভার,

সে আমারে কে চিনেছ মর্তকায়ায়,

          কখনো স্মরিতে যদি হয় মন,

ডেকো না ডেকো না সভা– এসো এ ছায়ায়

          যেথা এই চৈত্রের শালবন।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত