বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ (১৮৯০) কাব্যগ্রন্থের একটি অত্যন্ত গভীর আবেগপূর্ণ ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক কবিতা হলো ‘আশঙ্কা’। এই কবিতায় প্রেমের এক সর্বগ্রাসী রূপ এবং সেই ভালোবাসার মানুষকে হারানোর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের চিত্র সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | আশঙ্কা |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | মানসী |
| প্রকাশের বছর | ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ |
| কবিতার ধরন | প্রেমের কবিতা ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক (Romantic and Psychological Lyric) |
মানসী কাব্যগ্রন্থের ‘আশঙ্কা’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কে জানে এ কি ভালো?
আকাশ-ভরা কিরণধারা
আছিল মোর তপন-তারা,
আজিকে শুধু একেলা তুমি
আমার আঁখি-আলো–
কে জানে এ কি ভালো?
কত-না শোভা, কত-না সুখ,
কত-না ছিল অমিয়-মুখ,
নিত্য-নব পুষ্পরাশি
ফুটিত মোর দ্বারে–
ক্ষুদ্র আশা ক্ষুদ্র স্নেহ
মনের ছিল শতেক গেহ,
আকাশ ছিল, ধরণী ছিল
আমার চারি ধারে–
কোথায় তারা, সকলে আজি
তোমাতেই লুকালো।
কে জানে এ কি ভালো?
কম্পিত এ হৃদয়খানি
তোমার কাছে তাই।
দিবসনিশি জাগিয়া আছি,
নয়নে ঘুম নাই।
সকল গান সকল প্রাণ
তোমারে আমি করেছি দান–
তোমারে ছেড়ে বিশ্বে মোর
তিলেক নাহি ঠাঁই।
সকল পেয়ে তবুও যদি
তৃপ্তি নাহি মেলে,
তবুও যদি চলিয়া যাও
আমারে পাছে ফেলে,
নিমেষে সব শূন্য হবে
তোমারি এই আসন ভবে,
চিহ্নসম কেবল রবে
মৃত্যু-রেখা কালো।
কে জানে এ কি ভালো?
Manoshi Kabbyogranther ‘Ashonka’ Kobita — Rabindranath Thakur
Ke jane e ki bhalo?
Akash-bhora kirondhara
Achhilo mor topon-tara,
Ajike shudhu ekela tumi
Amar ankhi-alo—
Ke jane e ki bhalo?
Koto-na shobha, koto-na shukh,
Koto-na chhilo amiyo-mukh,
Nitto-nobo pushporashi
Phutito mor dware—
Khudro asha khudro sneho
Moner chhilo shotek geho,
Akash chhilo, dhoroni chhilo
Amar chari dhare—
Kothay tara, sokole aji
Tomatei lukalo.
Ke jane e ki bhalo?
Komponito e hridoykhani
Tomar kachhe tai.
Dibosh-nishi jagiya achhi,
Noyone ghum nai.
Sokol gaan sokol pran
Tomare ami korechhi daan—
Tomare chhere bishwe mor
Tilek nahi thai.
Sokol peye tobuo jodi
Tripti nahi mele,
Tobu-o jodi choliya jao
Amare pachhe phele,
Nimeshe shob shunyo hobe
Tomari ei ashon bhobe,
Chihnoshom kebol robe
Mrityu-rekha kalo.
Ke jane e ki bhalo?
- সর্বগ্রাসী প্রেমের শঙ্কা: কবি অনুভব করছেন যে তাঁর জীবনের সমস্ত আলো, আনন্দ এবং মনোযোগ এখন কেবল একজনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। একসময় পৃথিবীর আকাশ, ধরিত্রী এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক আশা-স্নেহ তাঁকে ঘিরে থাকত। কিন্তু এখন সেই বৈচিত্র্যময় পৃথিবী যেন শুধু একজনের মাঝেই হারিয়ে গেছে। এই সর্বগ্রাসী প্রেম তাঁর মনে প্রশ্ন জাগায়—”কে জানে এ কি ভালো?”
- নিঃস্ব হওয়ার ভয় ও শূন্যতা: কবি তাঁর সকল গান ও প্রাণ প্রিয়জনকে দান করেছেন। তাঁর ভয় হলো, নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার পরও যদি প্রিয়জন অতৃপ্ত থেকে তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, তবে তাঁর জীবনে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তখন পুরো পৃথিবী শূন্য হয়ে যাবে এবং কেবল মৃত্যুর কালো রেখাই বাকি থাকবে। হারানোর এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ভীতিই কবিতার মূল উপজীব্য।





![কথা কাব্যগ্রন্থের স্পর্শমণি কবিতা [Sharshamani Kobita] 3 স্পর্শমণি কবিতা । sharshamani kobita। কথা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/স্পর্শমণি-কবিতা-1024x536.gif)
![শ্যামলী কাব্যগ্রন্থের চিরযাত্রী কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিরযাত্রী কবিতা [ Chirojatri Kobita ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/চিরযাত্রী-কবিতা-Chirojatri-Kobita--1024x536.gif)
![ছবি ও গান কাব্যগ্রন্থের মধ্যাহ্নে কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধ্যাহ্নে madhyaahne [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/মধ্যাহ্নে-madhyaahne-কবিতা--1024x536.gif)