আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

মানসী কাব্যগ্রন্থের ‘আশঙ্কা’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ (১৮৯০) কাব্যগ্রন্থের একটি অত্যন্ত গভীর আবেগপূর্ণ ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক কবিতা হলো ‘আশঙ্কা’। এই কবিতায় প্রেমের এক সর্বগ্রাসী রূপ এবং সেই ভালোবাসার মানুষকে হারানোর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের চিত্র সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।

কবিতার মূল তথ্য
বিষয়বিবরণ
কবিতার নামআশঙ্কা
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থমানসী
প্রকাশের বছর১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ
কবিতার ধরনপ্রেমের কবিতা ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক (Romantic and Psychological Lyric)

 

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের কাব্যজীবনের এক অন্যতম সন্ধিক্ষণ, যেখানে তাঁর চিন্তা ও অনুভূতির গভীরতা আরও পরিণত রূপ পায়। ‘আশঙ্কা’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে প্রেম যখন জীবনের সবকিছু গ্রাস করে নেয় এবং পৃথিবীর অন্য সব সৌন্দর্য ও সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে যায়, তখন সেই প্রেমের স্থায়িত্ব নিয়ে মনে এক অদ্ভুত ভয় বা শঙ্কার জন্ম হয়।

মানসী কাব্যগ্রন্থের ‘আশঙ্কা’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কে জানে এ কি ভালো?

আকাশ-ভরা কিরণধারা

আছিল মোর তপন-তারা,

আজিকে শুধু একেলা তুমি

     আমার আঁখি-আলো–

     কে জানে এ কি ভালো?

কত-না শোভা, কত-না সুখ,

কত-না ছিল অমিয়-মুখ,

নিত্য-নব পুষ্পরাশি

     ফুটিত মোর দ্বারে–

ক্ষুদ্র আশা  ক্ষুদ্র স্নেহ

মনের ছিল শতেক গেহ,

আকাশ ছিল, ধরণী ছিল

     আমার চারি ধারে–

কোথায় তারা, সকলে আজি

     তোমাতেই লুকালো।

     কে জানে এ কি ভালো?

কম্পিত এ হৃদয়খানি

     তোমার কাছে তাই।

দিবসনিশি জাগিয়া আছি,

     নয়নে ঘুম নাই।

সকল গান  সকল প্রাণ

তোমারে আমি করেছি দান–

তোমারে ছেড়ে বিশ্বে মোর

     তিলেক নাহি ঠাঁই।

সকল পেয়ে তবুও যদি

     তৃপ্তি নাহি মেলে,

তবুও যদি চলিয়া যাও

     আমারে পাছে ফেলে,

নিমেষে সব শূন্য হবে

তোমারি এই আসন ভবে,

চিহ্নসম কেবল রবে

     মৃত্যু-রেখা কালো।

     কে জানে এ কি ভালো?

Manoshi Kabbyogranther ‘Ashonka’ Kobita — Rabindranath Thakur

Ke jane e ki bhalo?

 

Akash-bhora kirondhara

Achhilo mor topon-tara,

Ajike shudhu ekela tumi

Amar ankhi-alo—

Ke jane e ki bhalo?

 

Koto-na shobha, koto-na shukh,

Koto-na chhilo amiyo-mukh,

Nitto-nobo pushporashi

Phutito mor dware—

Khudro asha khudro sneho

Moner chhilo shotek geho,

Akash chhilo, dhoroni chhilo

Amar chari dhare—

Kothay tara, sokole aji

Tomatei lukalo.

Ke jane e ki bhalo?

 

Komponito e hridoykhani

Tomar kachhe tai.

Dibosh-nishi jagiya achhi,

Noyone ghum nai.

 

Sokol gaan sokol pran

Tomare ami korechhi daan—

Tomare chhere bishwe mor

Tilek nahi thai.

Sokol peye tobuo jodi

Tripti nahi mele,

Tobu-o jodi choliya jao

Amare pachhe phele,

Nimeshe shob shunyo hobe

Tomari ei ashon bhobe,

Chihnoshom kebol robe

Mrityu-rekha kalo.

Ke jane e ki bhalo?

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
  • সর্বগ্রাসী প্রেমের শঙ্কা: কবি অনুভব করছেন যে তাঁর জীবনের সমস্ত আলো, আনন্দ এবং মনোযোগ এখন কেবল একজনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। একসময় পৃথিবীর আকাশ, ধরিত্রী এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক আশা-স্নেহ তাঁকে ঘিরে থাকত। কিন্তু এখন সেই বৈচিত্র্যময় পৃথিবী যেন শুধু একজনের মাঝেই হারিয়ে গেছে। এই সর্বগ্রাসী প্রেম তাঁর মনে প্রশ্ন জাগায়—”কে জানে এ কি ভালো?”
  • নিঃস্ব হওয়ার ভয় ও শূন্যতা: কবি তাঁর সকল গান ও প্রাণ প্রিয়জনকে দান করেছেন। তাঁর ভয় হলো, নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার পরও যদি প্রিয়জন অতৃপ্ত থেকে তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, তবে তাঁর জীবনে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তখন পুরো পৃথিবী শূন্য হয়ে যাবে এবং কেবল মৃত্যুর কালো রেখাই বাকি থাকবে। হারানোর এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ভীতিই কবিতার মূল উপজীব্য।
উৎস কবিতাটির সম্পূর্ণ পাঠ উপভোগ করতে আপনি গুগলে ‘আশঙ্কা কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ লিখে অনুসন্ধান করে পুরো কবিতাটি পড়ে নিতে পারেন।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত