বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খাপছাড়া’ (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম হাস্যরসাত্মক, ব্যঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক কবিতা হলো ‘পাড়াতে এসেছে এক’। এই কবিতায় পল্লীগ্রাম বা পাড়ায় আসা একজন অহংকারী ও হাতুড়ে গোছের ‘নাড়িটেপা ডাক্তার’-এর ভণ্ডামি, পসার জমানোর ফন্দি এবং সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নেওয়ার লঘু কৌতুকচিত্র অত্যন্ত সুন্দর ছন্দে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | পাড়াতে এসেছে এক (খাপছাড়া) |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | খাপছাড়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৭ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | ব্যঙ্গাত্মক ছড়া-কবিতা / লঘু সামাজিক শ্লেষ (Satirical Limerick / Humorous Wit) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ‘খাপছাড়া’ কাব্যে রবীন্দ্রনাথ সমাজের নানা অদ্ভুত চরিত্র, ভণ্ড চিকিৎসক এবং সুবিধাবাদী মানুষের মুখোশ অত্যন্ত নিপুণভাবে উন্মোচন করেছেন। ‘পাড়াতে এসেছে এক’ কবিতায় এমন একজন চিকিৎসকের কথা বলা হয়েছে যিনি পাড়ায় নতুন এসে নিজের বড়াই জাহির করেন। তাঁর উঁচু নাক আর জটিল ও দুর্বোধ্য ভাষায় ওষুধ লেখার অহংকার দেখে মনে হয় যেন এ দেশের সাধারণ মানুষ বা পশুকুলের পক্ষেও তা পড়া অসম্ভব! কিন্তু আসল কাজ হলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী দেখার ছলে নাড়ি টিপে বসা এবং যেকোনো উপায়ে পাওনা টাকা বা ফি আদায় করে নেওয়া। তাঁর এই লোভ ও ভণ্ডামির পরিণতির কথাই কবিতার শেষ চরণে বিদ্রূপের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
পাড়াতে এসেছে এক কবিতা (সম্পূর্ণ)
পাড়াতে-এসেছে এক
নাড়িটেপা ডাক্তার,
দূর থেকে দেখা যায়
অতি উঁচু নাক তার।
নাম লেখে ওষুধের,
এ দেশের পশুদের
সাধ্য কী পড়ে তাহা
এই বড়ো জাঁক তার।
যেথা যায় বাড়ি বাড়ি
দেখে যে ছেড়েছে নাড়ী,
পাওনাটা আদায়ের
মেলে না যে ফাঁক তার।
গেছে নির্বাকপুরে
ভক্তের ঝাঁক তার।

পাড়াতে এসেছে এক কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
অহংকারী ডাক্তার ও তার উঁচু নাক:
“পাড়াতে-এসেছে এক / নাড়িটেপা ডাক্তার, / দূর থেকে দেখা যায় / অতি উঁচু নাক তার।”
— পাড়ায় নতুন এক হাতুড়ে বা নাড়িটেপা ডাক্তার এসেছে, যার চালচলনে রয়েছে তীব্র অহংকার। তার দূর থেকেই দৃশ্যমান অতি উঁচু নাকটি যেন তার ভনিতা ও দাম্ভিকতারই প্রতীক।
দুর্বোধ্য ওষুধ লেখা ও বড়াই:
“নাম লেখে ওষুধের, / এ দেশের পশুদের / সাধ্য কী পড়ে তাহা / এই বড়ো জাঁক তার।”
— সে এমন সব অদ্ভুত ও জটিল ভাষায় ওষুধের নাম লেখে, যা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, এ দেশের পশুকুলের পক্ষেও পড়া অসম্ভব—এই ভুয়া জাঁকই তার একমাত্র সম্বল।
টাকা আদায়ের কড়াকড়ি:
“যেথা যায় বাড়ি বাড়ি / দেখে যে ছেড়েছে নাড়ী, / পাওনাটা আদায়ের / মেলে না যে ফাঁক তার।”
— সে যেখানেই চিকিৎসা করতে যায়, সেখানেই রোগীর নাড়ি ছাড়ার উপক্রম হয় (অর্থাৎ অবস্থা আরও খারাপ হয়), কিন্তু তার ভিজিট বা পাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বা ফাঁক থাকে না!
ভক্তের ঝাঁক ও নির্বাকপুর:
“গেছে নির্বাকপুরে / ভক্তের ঝাঁক তার।”
— কবি ব্যঙ্গের সুরে শেষ করেছেন যে, ওই ডাক্তারের চিকিৎসা বা খপ্পরে পড়ে শেষ পর্যন্ত তার ‘ভক্তের দল’ বা রোগীরা সব নির্বাকপুরে (মৃত্যুপুরী বা বোকাদের রাজ্যে) চলে গেছে!
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।


![রঙরেজিনী rongrejini [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রঙরেজিনী rongrejini [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/রঙরেজিনী-rongrejini-কবিতা--1024x536.gif)







![ছবি ও গান কাব্যগ্রন্থের ‘পাগল’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাগল paagol [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/পাগল-paagol-কবিতা-1-1-1024x536.gif)
![শেষ দান shesh dan [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ দান shesh dan [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/শেষ-দান-shesh-dan-কবিতা--1024x536.gif)