আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

চৈতালী কাব্যগ্রন্থের ‘খেয়া’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামখেয়া
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থচৈতালী
প্রকাশের বছর১৮৯৬ (আশ্বিন, ১৩০৩ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনদার্শনিক ও নিসর্গ-সংলগ্ন লিরিক কবিতা (Philosophical / Nature Lyric)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৮৯৬ সালে প্রকাশিত ‘চৈতালী’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য রচনার “চিত্রা-চৈতালি পর্ব”-এর অন্তর্গত একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৭৮টি কবিতা রয়েছে, যেগুলোতে গ্রামীণ বাংলার সহজ জীবনযাত্রা, নিসর্গপ্রীতি এবং মানবজীবনের গভীর সত্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ‘খেয়া’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে নদীর স্রোতে খেয়া নৌকা পারাপার করে—কেউ ঘরে যায়, কেউ বা ঘর থেকে বাইরে আসে। দুই পাড়ের দুটি গ্রাম পরস্পর জানাশোনা হয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনাগোনা করে। পৃথিবীর বুকে কত দ্বন্দ্ব, সর্বনাশ, নতুন নতুন ইতিহাস রচনা, রক্তের প্রবাহ আর সোনার মুকুটের ওঠা-পড়ার খেলা চলে; সভ্যতার কত তৃষ্ণা-ক্ষুধা, হলাহল ও সুধা তৈরি হয়। কিন্তু এই নদীর ঘাটে তার কোনো ছোঁয়া লাগে না—দুই পাড়ের মানুষগুলোর নাম কেউ জানে না, তারা কেবল একে অপরের পানে চেয়ে থাকে। সভ্যতার সংঘাতের বাইরে মানবজীবনের এই চিরন্তন ও শান্ত ধারাটিই এই কবিতার মূল প্রাণ।

খেয়া কবিতা (সম্পূর্ণ)

খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে,

কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।

দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা,

সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা।

পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ,

নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস,

রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে

সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে,

সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা,

উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা–

শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম,

দোঁহাপানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম।

এই খে-য়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে,

কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।

খেয়া কবিতার Romanized Version:
Kheya nouka parapar kore nodisrote,
Keho jay ghore, keho ashe ghor hote.
Dui tire dui gram ache janashona,
Shokal hoite shondha kore anagona.
Prithibite koto dwondo koto shorbobnash,
Notun notun koto gore itihash,
Roktoprobhaber majhe phenaiya uthe
Shonar mukut koto fute ar tute,
Shovyotar nobo nobo koto trishna khudha,
Uthe koto holohol, uthe koto shudha–
Shudhu hetha dui tire, keba jane nam,
Donhapane cheye ache duikhani gram.
Ei kheya chirodin chole nodisrote,
Keho jay ghore, keho ashe ghor hote.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
  • বাইরের দ্বন্দ্ব বনাম অন্তরের শান্তি: পৃথিবীর বড় বড় যুদ্ধ, ক্ষমতা দখল ও সভ্যতার উত্থান-পতনের কোলাহল থেকে দূরে মানবজীবনের চিরন্তন ও সহজ প্রবাহের একটি শান্ত রূপ এই কবিতায় মূর্ত হয়েছে।
  • নিত্যবহমান জীবন: খেয়া নৌকার পারাপার এবং দুই গ্রামের মানুষের এই সাধারণ আনাগোনা যুগ যুগ ধরে মানবজীবনের শাশ্বত সত্য ও নিরবচ্ছিন্নযাত্রাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (চৈতালী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত