Table of Contents
দুজন সখী কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | দুই সখী |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | বীথিকা |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩৫ (১৩৪২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | দার্শনিক ও রোমান্টিক লিরিক (Philosophical & Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
দুজন সখী (সম্পূর্ণ কবিতা):
দুজন সখীরে
দূর হতে দেখেছিনু অজানার তীরে।
জানি নে কাদের ঘর; দ্বার খোলা আকাশের পানে,
দিনান্তে কহিতেছিল কী কথা কে জানে।
এক নিমিষেতে
অপরিচয়ের দেখা চলে যেতে যেতে
উপরের দিকে চেয়ে।
দুটি মেয়ে
যেন দুটি আলোকণা
আমার মনের পথে ছায়াতলে করিল রচনা
ক্ষণতরে আকাশের বাণী,
অর্থ তার নাহি জানি।
যাহারা ওদের চেনে,
নাম জানে, কাছে লয় টেনে,
একসাথে দিন যাপে,
প্রত্যহের বিচিত্র আলাপে
ওদের বেঁধেছে তারা ছোটো করে
পরিচয়ডোরে।
সত্য নয়
ঘরের ভিত্তিতে ঘেরা সেই পরিচয়।
যাবে দিন,
সে জানা কোথায় হবে লীন।
বন্ধহীন অনন্তের বক্ষতলে উঠিয়াছে জেগে
কী নিশ্বাসবেগে
যুগলতরঙ্গসম।
অসীম কালের মাঝে ওরা অনুপম,
ওরা অনুদ্দেশ,
কোথায় ওদের শেষ
ঘরের মানুষ জানে সে কি?
নিত্যের চিত্তের পটে ক্ষণিকের চিত্র গেনু দেখি–
আশ্চর্য সে লেখা,
সে তুলির রেখা
যুগযুগান্তর-মাঝে একবার দেখা দিল নিজে–
জানি নে তাহার পরে কী যে।

দুই সখী কবিতা Romanized Version:
Bondhohin ononter bokkhotole uthiyachhe jege
Ki nishshashbege
Jugoltorongoshomo.
Oshim kaler majhe ora onupom,
Ora onuddesh,
Kothay oder shesh
Ghorer manush jane she ki?
Nitter chitter pote khoniker chitro genu dekhi--
Ashchorjo she lekha,
She tulir rekha
Jugojugantor-majhe ekbar dekha dilo nije--
Jani ne tahar pore ki je.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- ক্ষণিকের দৃষ্টিতে অনন্তের বার্তা:“দুটি মেয়ে / যেন দুটি আলোকণা / আমার মনের পথে ছায়াতলে করিল রচনা / ক্ষণতরে আকাশের বাণী,”— পথ চলতে চলতে এক নিমিষের দেখা পাওয়া দুটি মেয়ে কবির কাছে পার্থিব কোনো সত্তা থাকেনি; তারা যেন আকাশের নিগূঢ় আলো ও বাণীর প্রতীক হয়ে কবির ভাবনায় স্থায়ী আসন করে নেয়।
- লৌকিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা:“ওদের বেঁধেছে তারা ছোটো করে / পরিচয়ডোরে। / সত্য নয় / ঘরের ভিত্তিতে ঘেরা সেই পরিচয়।”— কবি উপলব্ধি করেন, আত্মীয়স্বজন বা সমাজ নাম-ধাম ও নিত্যদিনের সম্পর্কের ক্ষুদ্র ছাঁচে মানুষকে বেঁধে রাখে। কিন্তু মানুষের আসল সত্য ঘরের চারদেয়ালে আবদ্ধ নয়; অনন্তকালের তুলনায় পার্থিব এই পরিচয় নিতান্তই ভঙ্গুর ও ক্ষণস্থায়ী।
- অনন্তের ক্যানভাসে মানবসত্তা:“নিত্যের চিত্তের পটে ক্ষণিকের চিত্র গেনু দেখি– / আশ্চর্য সে লেখা, / সে তুলির রেখা / যুগযুগান্তর-মাঝে একবার দেখা দিল নিজে–“— কবি মহাকালের শাশ্বত ক্যানভাসে সেই দুই সখীর উপস্থিতিকে দেখেছেন এক অপূর্ব ও বিরল তুলির আঁচড় হিসেবে। ক্ষণিকের জন্য সেই রূপ প্রকাশ পেয়ে আবার অসীমে বিলীন হয়ে যায়, যা মানুষের জীবনরহস্যের গভীর সত্যকেই তুলে ধরে।

![প্রচ্ছন্না prochchhonna [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচ্ছন্না prochchhonna [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/প্রচ্ছন্না-prochchhonna-কবিতা--1024x536.gif)





![সজনি গো শাঙন গগনে sojoni go sangon gogone [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সজনি গো শাঙন গগনে sojoni go sangon gogone [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/সজনি-গো-শাঙন-গগনে-sojoni-go-sangon-gogone-কবিতা--1024x536.gif)
![ফুলবালা phulbala [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলবালা phulbala [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ফুলবালা-phulbala-কবিতা--1024x536.gif)

