আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

দুজন কবিতা | dujon kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

দুজন কবিতাটি [ dujon kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

দুজন dujon কবিতা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ দুজন

 

 

দুজন কবিতা | dujon kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সূর্যান্তদিগন্ত হতে বর্ণচ্ছটা উঠেছে উচ্ছ্বাসি।

               দুজনে বসেছে পাশাপাশি।

          সমস্ত শরীরে মনে লইতেছে টানি

                   আকাশের বাণী।

          চোখেতে পলক নাই, মুখে নাই কথা,

             স্তব্ধ চঞ্চলতা।

একদিন যুগলের যাত্রা হয়েছিল শুরু,

          বক্ষ করেছিল দুরু দুরু

             অনির্বচনীয় সুখে।

          বর্তমান মুহূর্তের দৃষ্টির সম্মুখে

                তাদের মিলনগ্রন্থি হয়েছিল বাঁধা।

                   সে-মুহূর্ত পরিপূর্ণ; নাহি তাহে বাধা,

                                  দ্বন্দ্ব নাই, নাই ভয়,

                                       নাইকো সংশয়।

 

 

 

                             সে-মুহূর্ত বাঁশির গানের মতো;

                           অসীমতা তার কেন্দ্রে রয়েছে সংহত।

                                         সে-মুহূর্ত উৎসের মতন;

                                       একটি সংকীর্ণ মহাক্ষণ

                            উচ্ছলিত দেয় ঢেলে আপনার সবকিছু দান।

                             সে সম্পদ দেখা দেয় লয়ে নৃত্য, লয়ে গান,

                             লয়ে সূর্যালোকভরা হাসি,

                                ফেনিল কল্লোল রাশি রাশি।

                                   সে-মুহূর্তধারা

                                ক্রমে আজ হল হারা

                                   সুদূরের মাঝে।

                                   সে-সুদূরে বাজে

                                      মহাসমুদ্রের গাথা।

                                   সেইখানে আছে পাতা

                             বিরাটের মহাসন কালের প্রাঙ্গণে।

                     সর্ব দুঃখ, সর্ব সুখ মেলে সেথা প্রকাণ্ড মিলনে।

                             সেথা আকাশের পটে

                          অস্ত-উদয়ের শৈলতটে

                       রবিচ্ছবি আঁকিল যে অপরূপ মায়া

                   তারি সঙ্গে গাঁথা পড়ে রজনীর ছায়া।

 

                 সেথা আজ যাত্রী দুইজনে

          শান্ত হয়ে চেয়ে আছে সুদূর গগনে।

                 কিছুতে বুঝিতে নাহি পারে

                   কেন বারে বারে

                  দুই চক্ষু ভরে ওঠে জলে।

                ভাবনার সুগভীর তলে

                  ভাবনার অতীত যে-ভাষা

                             করিয়াছে বাসা

                   অকথিত কোন্‌ কথা

                             কী বারতা

                   কাঁপাইছে বক্ষের পঞ্জরে।

বিশ্বের বৃহৎ বাণী লেখা আছে যে মায়া-অক্ষরে,

           তার মধ্যে কতটুকু শ্লোকে

ওদের মিলনলিপি, চিহ্ন তার পড়েছে কি চোখে!

আরও দেখুনঃ 

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত