আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

নিরুদ্যম কবিতা [ Nirudyom Kobita ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

নিরুদ্যম কবিতা [ Nirudyom Kobita ]

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : খেয়া [ ১৯০৬ ]

কবিতার শিরনামঃ নিরুদ্যম 

নিরুদ্যম কবিতা [ Nirudyom Kobita ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তখন   আকাশতলে ঢেউ তুলেছে

                                পাখিরা গান গেয়ে।

                     তখন পথের দুটি ধারে

                     ফুল ফুটেছে ভারে ভারে,

                     মেঘের কোণে রঙ ধরেছে

                                দেখি নি কেউ চেয়ে।

            মোরা   আপন মনে ব্যস্ত হয়ে

                                চলেছিলেম ধেয়ে।

মোরা   সুখের বশে গাই নি তো গান,

                                করি নি কেউ খেলা।

                     চাই নি ভুলে ডাহিন-বাঁয়ে,

                     হাটের লাগি যাই নি গাঁয়ে,

                     হাসি নি কেউ, কই নি কথা,

                                করি নি কেউ হেলা।

            মোরা   ততই বেগে চলেছিলেম

                                যতই বাড়ে বেলা।

            শেষে   সূর্য যখন মাঝ-আকাশে,

                                কপোত ডাকে বনে–

                     তপ্ত হাওয়ায় ঘুরে ঘুরে

                     শুকনো পাতা বেড়ায় উড়ে,

                     বটের তলে রাখালশিশু

                                ঘুমায় অচেতনে,

            আমি    জলের ধারে শুলেম এসে

                                শ্যামল তৃণাসনে।

 

            আমার দলের সবাই আমার পানে

                                চেয়ে গেল হেসে।

                     চলে গেল উচ্চশিরে,

                     চাইল না কেউ পিছু ফিরে,

                     মিলিয়ে গেল সুদূর ছায়ায়

                                পথতরুর শেষে।

            তারা    পেরিয়ে গেল কত যে মাঠ,

                                কত দূরের দেশে!

            ওগো   ধন্য তোমরা দুখের যাত্রী,

                                ধন্য তোমরা সবে।

                     লাজের ঘায়ে উঠিতে চাই,

                     মনের মাঝে সাড়া না পাই,

                     মগ্ন হলেম আনন্দময়

                                অগাধ অগৌরবে–

                     পাখির গানে, বাঁশির তানে,

                                কম্পিত পল্লবে।

            আমি    মুগ্ধতনু দিলেম মেলে

                                বসুন্ধরার কোলে।

                     বাঁশের ছায়া কী কৌতুকে

                     নাচে আমার চক্ষে মুখে,

                     আমের মুকূল গন্ধে আমায়

                                বিধুর ক’রে তোলে–

            নয়ন    মুদে আসে মৌমাছিদের

                                গুঞ্জনকল্লোলে।

 

            সেই    রৌদ্রে-ঘেরা সবুজ আরাম

                                মিলিয়ে এল প্রাণে।

                     ভুলে গেলেম কিসের তরে

                     বাহির হলেম পথের ‘পরে,

                     ঢেলে দিলেম চেতনা মোর

                                ছায়ায় গন্ধে গানে–

            ধীরে    ঘুমিয়ে প’লেম অবশ দেহে

                                কখন কে তা জানে।

            শেষে   গভীর ঘুমের মধ্য হতে

                                ফুটল যখন আঁখি,

                     চেয়ে দেখি, কখন এসে

                     দাঁড়িয়ে আছ শিয়রদেশে

                     তোমার হাসি দিয়ে আমার

                                অচৈতন্য ঢাকি–

            ওগো, ভেবেছিলেম আছে আমার

                                কত-না পথ বাকি।

            মোরা   ভেবেছিলেম পরানপণে

                                সজাগ রব সবে–

                     সন্ধ্যা হবার আগে যদি

                     পার হতে না পারি নদী,

                     ভেবেছিলেম তাহা হলেই

                                সকল ব্যর্থ হবে।

            যখন    আমি থেমে গেলেম, তুমি

                                আপনি এলে কবে।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত