আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

পরিশেষ কাব্যগ্রন্থের ‘অগোচর’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামঅগোচর
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থপরিশেষ
প্রকাশের বছর১৯৩২ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনদার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক লিরিক কবিতা (Philosophical / Metaphysical Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯৩২ সালে প্রকাশিত ‘পরিশেষ’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষভাগের এক গভীর ও পরিণত চিন্তার ফল। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে মানবমন, বিশ্বপ্রকৃতি এবং অস্তিত্বের রহস্য নিয়ে এক অনন্য দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। ‘অগোচর’ কবিতায় কবি হাটের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে মানুষের জীবনের এক গভীর সত্য উপলব্ধি করেছেন। হাজার হাজার মুখ ও মানুষের ভিড়ে প্রত্যেকেই যেন তাদের নিজস্ব ইতিহাস ও স্মৃতি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, যার সিংহভাগই বাইরের দুনিয়ার কাছে চিরকালের জন্য অজানা বা অগোচর থেকে যায়। মানুষের অন্তরের সেই নিরালা ভুবনে আলো নেই, শব্দ নেই এবং প্রবেশের পথও নেই। কিন্তু এই অসীম রহস্যের মাঝেও একজন ‘মহা-অপরিচিত’ বা পরম সত্তা আছেন, যাঁর অগোচর সভাতলে সবার অন্তরের অজানা এবং অব্যক্ত সত্য উন্মোচিত হয়—এই গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতেই কবিতাটি সমাপ্ত হয়েছে।

অগোচর কবিতা (সম্পূর্ণ)

হাটের ভিড়ের দিকে চেয়ে দেখি,

হাজার হাজার মুখ হাজার হাজার ইতিহাস

     ঢাকা দিয়ে আসে যায় দিনের আলোয়

           রাতের আঁধারে।

         সব কথা তার

     কোনো কালে জানবে না কেউ,

         নিজেও জানে না কোনো লোক।

     মুখর আলাপ তার, উচ্চস্বরে কত আলোচনা,

           তারি অন্তস্তলে

                 বিচিত্র বিপুল

           স্মৃতিবিস্মৃতির সৃষ্টিরাশি।

     সেখানে তো শব্দ নেই আলো নেই,

           বাইরের দৃষ্টি নেই,

               প্রবেশের পথ নেই কারো।

                 সংখ্যাহীন মানুষের

           এই যে প্রচ্ছন্ন বাণী, অশ্রুত কাহিনী

                 কোন্‌ আদিকাল হতে

                 অন্তঃশীল অগণ্য ধারায়

           আঁধার মৃত্যুর মাঝে মেশে রাত্রিদিন,

                 কী হল তাদের,

                         কী এদের কাজ।

হে প্রিয়, তোমার যতটুকু

           দেখেছি শুনেছি

     জেনেছি, পেয়েছি স্পর্শ করি’ —

   তার বহুশতগুণ অদৃশ্য অশ্রুত

         রহস্য কিসের জন্য বন্ধ হয়ে আছে,

               কার অপেক্ষায়।

           সে নিরালা ভবনের

           কুলুপ তোমার কাছে নেই।

                 কার কাছে আছে তবে।

           কে মহা-অপরিচিত যার অগোচর সভাতলে

           হে চেনা-অপরিচিত, তোমার আসন?

সেই কি সবার চেয়ে জানে

     আমাদের অন্তরের অজানারে।

        সবার চেয়ে কি বড়ো তার ভালোবাসা

                যার শুভদৃষ্টি-কাছে

           অব্যক্ত করেছে অবগুণ্ঠন মোচন।

Amar Rabindranath Logo

অগোচর কবিতার Romanized Version:

Hater bhirer dike cheye dekhi,
Hajar hajar mukh hajar hajar itihas
Dhaka diye ashe jay diner aloy
Rater andhare.
Shob kotha tar
Kono kale janbe na keu,
Nijeo jane na kono lok.
Mokhor alap tar, uchchoshore koto alochona,
Tari ontostale
Bichitro bipul
Sritibmritir srishtirashi.
Sekhane to shobdo nei alo nei,
Baireer drishti nei,
Probesher poth nei karo.
Shongkhahin manusher
Ei je prochhonno bani, oshrut kahini
Kon adikal hote
Ontoshil ogonno dharay
Andhar mrittur majhe meshe ratridin,
Ki holo tader,
Ki eder kaj.
He priyo, tomar jotuku
Dekhechi shunechi
Jenechi, peyechi sporsho kori’ —
Tar bohushatogun odrishyo oshrut
Rohosyo kiser jonno bondho hoye ache,
Kar opekhay.
Se nirala vhoboner
Kulup tomar kache nei.
Kar kache ache tobe.
Ke moha-oporichito jar ogochor shovatole
He cheno-oporichito, tomar ashon?
Shei ki shobar cheye jane
Amader ontorer ojanare.
Shobar cheye ki boro tar bhalobasha
Jar shubhodrishti-kache
Obyakto koreche obogundhon mochon.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • মানবসত্তার অন্তহীন রহস্য: মানুষের প্রকাশ্য জীবনের আড়ালে যে এক বিরাট অদৃশ্য ও অব্যক্ত স্মৃতির জগৎ লুকিয়ে থাকে, তা বাইরের মানুষ তো বটেই, অনেক সময় নিজেরাও জানে না।
  • পরম সত্তার সন্ধান: দৃশ্যমান জগতের বাইরে এক ‘মহা-অপরিচিত’ বা পরম ঈশ্বরের ভালোবাসা ও দৃষ্টিই কেবল মানুষের অন্তরের গভীরতম অজানাকে জানতে ও উন্মুক্ত করতে পারে—এই দার্শনিক তত্ত্বই কবিতার মূল প্রতিপাদ্য।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (পরিশেষ কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত