Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | দূত |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | মহুয়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯২৯ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রূপকাশ্রিত লিরিক ও আধ্যাত্মিক প্রেমের কবিতা (Allegorical Spiritual-Romantic Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
ছিনু আমি বিষাদে মগনা
অন্যমনা
তোমার বিচ্ছেদ-অন্ধকারে।
হেনকালে নির্জন কুটিরদ্বারে
অকস্মাৎ
কে করিল করাঘাত,
কহিল গম্ভীর কণ্ঠে, অতিথি এসেছি, দ্বার-খোলো।
মনে হল
ওই যেন তোমারি স্বর শুনি,
ওই যেন দক্ষিণবায়ু দূরে ফেলি মদির ফাল্গুনী
দিগন্তে আসিল পূর্বদ্বারে,
পাঠালো নির্ঘোষ তার বজ্রধ্বনিমন্দ্রিত মল্লারে।
কেঁপেছিল বক্ষতল
বিলম্ব করি নি তবু অর্ধ পল।
মুহূর্তে মুছিনু অশ্রুবারি,
বিরহিণী নারী,
ছাড়িনু ধেয়ান তব তোমারি সম্মানে,
ছুটে গেনু দ্বার-পানে।
শুধালেম, তুমি দূত কার।
সে কহিল, আমি তো সবার।
যে ঘরে তোমার শয্যা একদিন পেতেছি আদরে
ডাকিলাম তারে সেই ঘরে।
আনিলাম অর্ঘ্যথালি,
দীপ দিনু জ্বালি।
দেখিলাম বাঁধা তারি ভালে
যে মালা পরায়েছিনু তোমারেই বিদায়ের কালে।

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- বিরহের ধ্যান ও অচেনা ডাক:“ছিনু আমি বিষাদে মগনা / অন্যমনা / তোমার বিচ্ছেদ-অন্ধকারে। / … কহিল গম্ভীর কণ্ঠে, অতিথি এসেছি, দ্বার-খোলো।”— প্রিয়ার একান্ত নিজস্ব বিরহভাবনা ভেঙে দেয় বাইরে থেকে আসা এক গম্ভীর আহ্বান। দরজায় এই করাঘাত যেন ব্যক্তিগত শোকের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর জগতের সাথে যুক্ত হওয়ার এক অপ্রত্যাশিত সংকেত।
- সার্বজনীনতার আহ্বান ও সমাদর:“শুধালেম, তুমি দূত কার। / সে কহিল, আমি তো সবার। / যে ঘরে তোমার শয্যা একদিন পেতেছি আদরে / ডাকিলাম তারে সেই ঘরে।”— আগন্তুক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নয়, সে বিশ্বের সকলের। বিরহিণী নারী নিজের প্রিয়তমের স্মৃতিধন্য সেই নির্জন কক্ষে কোনো দ্বিধা ছাড়াই সার্বজনীন অতিথিকে স্থান দেয়, যা ব্যক্তিগত ভালোবাসাকে এক উদার আতিথেয়তায় রূপান্তর করে।
- চরম রহস্যোদ্ঘাটন ও অদ্বৈত মিলন:“দেখিলাম বাঁধা তারি ভালে / যে মালা পরায়েছিনু তোমারেই বিদায়ের কালে।”— কবিতার সমাপ্তিতে রূপকটি পূর্ণতা পায়। প্রিয়া যাকে বিদায় জানিয়েছিল, সে তো বিশ্বচরাচরেই ব্যাপ্ত হয়ে আছে। বিশ্বের প্রতিটি জীবের বা অচেনা অতিথির মাঝেই সেই চিরন্তন প্রিয়তম বিদ্যমান। বিচ্ছেদের সময় প্রিয়কে দেওয়া মালাটি সবার প্রতিনিধিত্বকারী অতিথির ললাটে দেখে ব্যক্তিগত প্রেম এক অখণ্ড আধ্যাত্মিক সত্যে পর্যবসিত হয়।