বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আধুনিক গদ্যকবিতার ধারার পথিকৃৎ কাব্যগ্রন্থ ‘পুনশ্চ’-র একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, সংবেদনশীল ও মনস্তাত্ত্বিক রূপকল্পসমৃদ্ধ কবিতা হলো ‘কোমল গান্ধার’। এক নারীর প্রাত্যহিক জীবনের চেনা আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অনির্বচনীয় বিষাদ, অকারণ করুণার আবহ এবং সুরের অতল মাধুর্যকে কবি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক গভীর কোমল স্বরের রূপকে এ কবিতায় চিত্রিত করেছেন।
Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | কোমল গান্ধার |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পুনশ্চ |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩২ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | আধুনিক সুরপ্রধান গদ্যকবিতা (Modern Prose Lyric / Character Sketch) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
পুনশ্চ কাব্যগ্রন্থের কোমল গান্ধার কবিতা
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
মনে মনে।
যদি তার কানে যেত অবাক হয়ে থাকত বসে,
বলত হেসে “মানে কী’।
মানে কিছুই যায় না বোঝা সেই মানেটাই খাঁটি।
কাজ আছে কর্ম আছে সংসারে,
ভালো মন্দ অনেক রকম আছে–
তাই নিয়ে তার মোটামুটি সবার সঙ্গে চেনাশোনা।
পাশের থেকে আমি দেখি বসে বসে
কেমন একটি সুর দিয়েছে চার দিকে।
আপনাকে ও আপনি জানে না।
যেখানে ওর অন্তর্যামীর আসন পাতা
সেইখানে তাঁর পায়ের কাছে
রয়েছে কোন্ ব্যথা-ধূপের পাত্রখানি।
সেখান থেকে ধোঁয়ার আভাস চোখের উপর পড়ে,
চাঁদের উপর মেঘের মতো–
হাসিকে দেয় একটুখানি ঢেকে।
গলার সুরে কী করুণা লাগে ঝাপসা হয়ে।
ওর জীবনের তানপুরা যে ওই সুরেতেই বাঁধা,
সেই কথাটি ও জানে না।
চলায় বলায় সব কাজেতেই ভৈরবী দেয় তান
কেন যে তার পাই নে কিনারা।
তাই তো আমি নাম দিয়েছি কোমল গান্ধার–
যায় না বোঝা যখন চক্ষু তোলে
বুকের মধ্যে অমন ক’রে
কেন লাগায় চোখের জলের মিড়।
সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- অনির্বচনীয়ের খাঁটি অর্থ:“বলত হেসে ‘মানে কী’। / মানে কিছুই যায় না বোঝা সেই মানেটাই খাঁটি।”— বুদ্ধির ভাষায় যাকে ব্যাখ্যা করা যায় না, অনুভূতির জগতে সেটাই সবচেয়ে খাঁটি। প্রাত্যহিক সংসারের ভালো-মন্দ ও কাজের ভিড়ে যাকে অতি সাধারণ মনে হয়, তার চারপাশের অলক্ষ্য সুরের দ্যোতনা কেবল একজন সংবেদনশীল কবি-দৃষ্টিতেই ধরা পড়ে।
- ব্যথা-ধূপের অদৃশ্য আবরণ:“যেখানে ওর অন্তর্যামীর আসন পাতা / সেইখানে তাঁর পায়ের কাছে / রয়েছে কোন্ ব্যথা-ধূপের পাত্রখানি। / সেখান থেকে ধোঁয়ার আভাস চোখের উপর পড়ে, / চাঁদের উপর মেঘের মতো– / হাসিকে দেয় একটুখানি ঢেকে।”— মেয়েটির গভীরতম সত্তায় কোনো এক অজানা দুঃখের উৎস রয়েছে। ধূপের ধোঁয়া যেমন পরিবেশকে সুবাসিত অথচ সামান্য ঝাপসা করে তোলে, তেমনি এক অলক্ষ্য করুণা চাঁদের ওপর পাতলা মেঘের মতো তার মুখের হাসিকে ঈষৎ ঢেকে রাখে।
- ভৈরবী ও চোখের জলের মীড়:“চলায় বলায় সব কাজেতেই ভৈরবী দেয় তান / কেন যে তার পাই নে কিনারা। / তাই তো আমি নাম দিয়েছি কোমল গান্ধার– / … বুকের মধ্যে অমন ক’রে / কেন লাগায় চোখের জলের মিড়।”— ভৈরবীর তান এবং কোমল গান্ধারের স্পর্শ যেমন এক বিরহময় মাধুর্যে হৃদয় সিক্ত করে, মেয়েটির সমস্ত চালচলন ও চাহনিতেও তেমনি এক অবচেতন অশ্রুর স্পর্শ মিশে থাকে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে এক সুর থেকে অন্য সুরে মসৃণভাবে গড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘মীড়’ বলে; তার চোখ তোলার ভঙ্গিতেও যেন সেই চোখের জলের করুণ মীড় দর্শকের বুকের গভীরে গিয়ে বাজে।




![শেষ দান shesh dan [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 শেষ দান shesh dan [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/শেষ-দান-shesh-dan-কবিতা--1024x536.gif)

![ফাঁকি phaki [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাঁকি phaki [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/ফাঁকি-phaki-কবিতা--1024x536.gif)

