পূরবী কাব্যগ্রন্থের আহ্বান কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থের একটি অত্যন্ত গভীর, দার্শনিক ও অধ্যাত্ম-প্রণয়চেতনার দীর্ঘ লিরিক কবিতা হলো ‘আহ্বান’। মানুষের অন্তরের অপ্রকাশিত শক্তি ও সৃষ্টিশীলতাকে জাগিয়ে তুলতে যে পরম ডাক বা ‘আহ্বান’ কাজ করে—যা কোনো নারীরূপে, কোনো দেবদূতী হয়ে অথবা স্বর্গের আলোকস্পর্শে মর্ত্যের সুপ্ত প্রাণকে উদ্বেল করে—সেই রহস্যময় উদ্বোধন ও জীবনের অন্তিমলগ্নে শেষ সুর বাঁধার আকুল প্রতীক্ষা এ কবিতায় মহিমান্বিত রূপ পেয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণতথ্য
কবিতার নামআহ্বান
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থপূরবী
রচনাকাল/প্রেক্ষাপট১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ); কবির দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণকালে রচিত
প্রকাশের বছর১৯২৫ (১৩৩২ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনরোমান্টিক আত্মজাগরণ, চিরমানবীর ধ্যান ও ভাবগম্ভীর লিরিক (Philosophical Romantic Ode)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯২৪ সালে রচিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ বার্ধক্যের দোলাচলে দাঁড়িয়ে জীবনের সামগ্রিক সৃষ্টিপ্রেরণাকে নতুন করে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি অনুভব করেছেন, মানবজীবন হাজারো মানুষের স্রোতে ভেসে যেতে পারত বিস্মৃতির আঁধারে; কিন্তু বারবার কোনো-না-কোনো রহস্যময়ী শক্তি বা চিরন্তন নারীসত্তা এসে দ্বার উন্মোচন করে তাঁকে ডেকেছে। সেই ডাকার আলোকচ্ছটাতেই কবি নিজের প্রতিভার প্রকৃত স্বরূপ চিনতে পেরেছেন। উষা যেমন রাতের ঘুমন্ত বিশ্বকে আলো দিয়ে ডেকে তোলে এবং মাটি থেকে অরণ্যের রূপ-রস-গন্ধের প্রাণস্পন্দন ছুটিয়ে দেয়, তেমনি প্রেরণাদায়িনী শক্তির আহ্বানেই কবির কল্পলোকের অর্গল ভেঙে সংগীতে শতদল ফুটে ওঠে। কিন্তু জীবনের অপরাহ্ণে এসে কবি অনুভব করেন, তাঁর শেষ গানটি হয়তো এখনও সম্পূর্ণ গাওয়া হয়নি। তাই তিনি এক প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখীর আহ্বান চান—যা সমস্ত অবরুদ্ধ বেদনাকে প্লাবনের মতো ভাসিয়ে দিয়ে অবশেষে এক শান্ত, শুভ্র ও চিরন্তন প্রশান্তির সৃষ্টি করবে।

আমারে যে ডাক দেবে এ জীবনে তারে বারংবার সম্পূর্ণ কবিতা:

আমারে যে ডাক দেবে এ জীবনে তারে বারংবার

            ফিরেছি ডাকিয়া।

সে নারী বিচিত্র বেশে মৃদু হেসে খুলিয়াছে দ্বার

            থাকিয়া থাকিয়া।

দীপখানি তুলে ধ’রে, মুখে চেয়ে, ক্ষণকাল থামি

            চিনেছে আমারে।

তারি সেই চাওয়া, সেই চেনার আলোক দিয়ে আমি

            চিনি আপনারে।

সহস্রের বন্যাস্রোতে জন্ম হতে মৃত্যুর আঁধারে

            চলে যাই ভেসে।

নিজেরে হারায়ে ফেলি অস্পষ্টের প্রচ্ছন্ন পাথারে

            কোন্‌ নিরুদ্দেশে।

নামহীন দীপ্তিহীন তৃপ্তিহীন আত্মবিস্মৃতির

            তমসার মাঝে।

কোথা হতে অকস্মাৎ কর মোরে খুঁজিয়া বাহির

            তাহা বুঝি না যে।

তব কণ্ঠে মোর নাম যেই শুনি, গান গেয়ে উঠি–

            “আছি, আমি আছি।’

সেই আপনার গানে লুপ্তির কুয়াশা ফেলে টুটি

            বাঁচি, আমি বাঁচি।

তুমি মোরে চাও যবে অব্যক্তের অখ্যাত আবাসে

            আলো উঠে জ্বলে–

অসাড়ের সাড়া জাগে, নিশ্চল তুষার গলে আসে

            নৃত্যকলরোলে।

নিঃশব্দচরণে উষা নিখিলের সুপ্তির দুয়ারে

            দাঁড়ায় একাকী,

রক্ত-অবগুণ্ঠনের অন্তরালে নাম ধরি কারে

            চলে যায় ডাকি।

অমনি প্রভাত তার বীণা হাতে বাহিরিয়া আসে,

            শূন্য ভরে গানে;

ঐশ্বর্য ছড়ায়ে দেয় মুক্তহস্তে আকাশে আকাশে,

            ক্লান্তি নাহি জানে।

কোন্‌ জ্যোতির্ময়ী হোথা অমরাবতীর বাতায়নে

            রচিতেছে গান

আলোকের বর্ণে বর্ণে; নির্নিমেষ উদ্দীপ্ত নয়নে

            করিছে আহ্বান।

তাই তো চাঞ্চল্য জাগে মাটির গভীর অন্ধকারে;

            রোমাঞ্চিত তৃণে।

ধরণী ক্রন্দিয়া উঠে, প্রাণস্পন্দ ছুটে চারিধারে

            বিপিনে বিপিনে।

তাই তো গোপন ধন খুঁজে পায় অকিঞ্চন ধূলি

            নিরুদ্ধ ভাণ্ডারে।

বর্ণে গন্ধে রূপে রসে আপনার দৈন্য যায় ভুলি

            পত্রপুষ্পভারে।

দেবতার প্রাথর্নায় কার্পণ্যের বন্ধ মুষ্টি খুলে,

            রিক্ততারে টুটি

রহস্যসমুদ্রতলে উন্মথিয়া উঠে উপকূলে

            রত্ন মুঠি মুঠি।

তুমি সে আকাশভ্রষ্ট প্রবাসী আলোক, হে কল্যাণী,

            দেবতার দূতী।

মর্তের গৃহের প্রান্তে বহিয়া এনেছে তব বাণী

            স্বর্গের আকূতি।

ভঙ্গুর মাটির ভাণ্ডে গুপ্ত আছে যে অমৃতবারি

            মৃত্যুর আড়ালে,

দেবতার হয়ে হেথা তাহারি সন্ধানে তুমি, নারী,

            দু বাহু বাড়ালে।

তাই তো কবির চিত্তে কল্পলোকে টুটিল অর্গল

            বেদনার বেগে,

মানসতরঙ্গতলে বাণীর সংগীতশতদল

            নেচে ওঠে জেগে।

সুপ্তির তিমিরবক্ষ দীর্ণ করে তেজস্বী তাপস

            দীপ্তির কৃপাণে;

বীরের দক্ষিণ হস্ত মুক্তিমন্ত্রে বজ্র করে বশ,

            অসত্যেরে হানে।

হে অভিসারিকা, তব বহুদূর পদধ্বনি লাগি

            আপনার মনে

বাণীহীন প্রতীক্ষায় আমি আজ একা বসে জাগি

            নির্জন প্রাঙ্গণে।

দীপ চাহে তব শিখা, মৌনী বীণা ধেয়ায় তোমার

            অঙ্গুলিপরশ।

তারায় তারায় খোঁজে তৃষ্ণায়-আতুর অন্ধকার

            সঙ্গসুধারস।

নিদ্রাহীন বেদনায় ভাবি কবে আসিবে পরানে

            চরম আহ্বান।

মনে জানি এ জীবনে সাঙ্গ হয় নাই পূর্ণ তানে

            মোর শেষ গান।

কোথা তুমি, শেষবার যে ছোঁয়াবে তব স্পর্শমণি

            আমার সংগীতে।

মহানিস্তব্ধের প্রান্তে কোথা বসে রয়েছ রমণী

            নীরব নিশীথে।

মহেন্দ্রের বজ্র হতে কালো চক্ষে বিদ্যুতের আলো

            আনো আনো ডাকি–

বর্ষণ-কাঙাল মোর মেঘের অন্তরে বহ্নি জ্বালো

            হে কালবৈশাখী।

অশ্রুভারে ক্লান্ত তার স্তব্ধ মূক অবরুদ্ধ দান

            কালো হয়ে উঠে।

বন্যাবেগে মুক্ত করো, রিক্ত করি করো পরিত্রাণ,

            সব লও লুটে।

তার পরে যাও যদি যেয়ো চলি, দিগন্ত-অঙ্গন

            হয়ে যাবে স্থির।

বিরহের শুভ্রতায় শূন্যে দেখা দিবে চিরন্তন

            শান্তি সুগম্ভীর।

স্বচ্ছ আনন্দের মাঝে মিলে যাবে সর্বশেষ লাভ,

            সর্বশেষ ক্ষতি–

দুঃখে সুখে পূর্ণ হবে অরূপসুন্দর আবির্ভাব,

            অশ্রুধৌত জ্যোতি।

ওরে পান্থ, কোথা তোর দিনান্তের যাত্রাসহচরী।

            দক্ষিণপবন

বহুক্ষণ চলে গেছে অরণ্যের পল্লব মর্মরি–

            নিকুঞ্জভবন

গন্ধের ইঙ্গিত দিয়ে বসন্তের উৎসবের পথ

            করে না প্রচার।

কাহারে ডাকিস তুই, গেছে চলে তার স্বর্ণরথ

            কোন্‌ সিন্ধুপার।

জানি জানি, আপনার অন্তরের গহনবাসীরে

            আজিও না চিনি।

সন্ধ্যারতিলগ্নে কেন আসিলে না নিভৃত মন্দিরে

            শেষ পূজারিনী।

কেন সাজালে না দীপ, তোমার পূজার মন্ত্র-গানে

            জাগায়ে দিলে না

তিমিররাত্রির বাণী, গোপনে যা লীন আছে প্রাণে

            দিনের অচেনা।

অসমাপ্ত পরিচয় অসম্পূর্ণ নৈবেদ্যের থালি

            নিতে হল তুলে।

রচিয়া রাখে নি মোর প্রেয়সী কি বরণের ডালি

            মরণের কূলে।

সেখানে কি পুষ্পবনে গীতহীনা রজনীর তারা

            নব জন্ম লভি

এই নীরবের বক্ষে নব ছন্দে ছুটাবে ফোয়ারা

            প্রভাতী ভৈরবী।

Amare je dak debe e jibone tare barembar kobita Romanized Version:

Amare je dak debe e jibone tare barembar
Phirechhi dakiya.
She nari bichitro beshe mridu heshe khuliyachhe dwar
Thakiya thakiya.
Dipkhani tule dho’re, mukhe cheye, khonokal thami
Chinechhe amare.
Tari shei chawa, shei chenar alok diye ami
Chini aponare.
Shohosrer bonnasrote jonmo hote mrittur andhare
Chole jai bheshe.
Nijere haraye pheli osposhto’r prochhonno pathare
Kon niruddeshe.
Namhin diptihin triptihin atmobissmritir
Tomosar majhe.
Kotha hote okossmat koro more khunjiya bahir
Taha bujhi na je.
Tobo konthe mor nam jei shuni, gan geye uthi–
“Achhi, ami achhi.’
Shei aponar gane luptir kuyasha phele tuti
Banchi, ami banchi.
Tumi more chao jobe obbokter okhyato abashe
Alo uthe jwole–
Osharer sara jage, nishchol tushar gole ashe
Nrittokolorole.
Nisshobdochorone usha nikhiler suptir duyare
Danray ekaki,
Rôkto-obogunthoner ontorale nam dhori kare
Chole jay daki.
Omoni probhat tar bina hate bahiriya ashe,
Shunno bhore gane;
Oishorjo chhoraye dey muktohoste akashe akashe,
Klanti nahi jane.
Kon jyotirmoyi hotha omorabotir batayone
Rochitechhe gan
Aloker borne borne; ninnimesh uddipto noyone
Korichhe ahban.
Tai to chanchollo jage matir gobhir ondhokare;
Romanchito trine.
Dhoroni krondiya uthe, pranspondo chhute charidhare
Bipine bipine.
Tai to gopon dhon khunje pay okinchon dhuli
Niruddho bhandare.
Borne gondhe rupe roshe aponar doinno jay bhuli
Potropushpobhare.
Debotar prartthonay karponner bondho mushti khule,
Riktotare tuti
Rohossosomudrotale unmothiya uthe upokule
Rotno muthi muthi.
Tumi she akashbhroshto probashi alok, he kollani,
Debotar duti.
Morter griher prante bohiya enecche tobo bani
Sworger akuti.
Bhonggur matir bhande gupto achhe je omritobari
Mrittur arale,
Debotar hoye hetha tahari shondhane tumi, nari,
Du bahu barale.
Tai to kobir chitte kolpoloke tutilo orgol
Bedonar bege,
Manosotoronggotole banir shonggitoshotodol
Neche othe jege.
Suptir timirobokkho dirno kore tejosshi taposh
Diptir kripane;
Birer dokkhin hosto muktimontre bojro kore bosh,
Oshottere hane.
He obhisarika, tobo bohudur pododhoni lagi
Aponar mone
Banihin protikkhay ami aj eka boshe jagi
Nirjon pranggone.
Dip chahe tobo shikha, mouni bina dheyay tomar
Onguliporosh.
Taray taray khoje trishnay-atur ondhookar
Shonggosudharosh.
Nidrahin bedonay bhabi kobe ashibe porane
Chorom ahban.
Mone jani e jibone sanggo hoy nai purno tane
Mor shesh gan.
Kotha tumi, sheshbar je chhonwabe tobo sporshomoni
Amar shonggite.
Mohanistobdher prante kotha boshe royechho romoni
Nirob nishithe.
Mohendrer bojro hote kalo chokhkhe biddyuter alo
Ano ano daki–
Borshon-kangal mor megher ontore bohni jwalo
He kalboishakhi.
Oshrubhare klanto tar stobdho muk oboruddho dan
Kalo hoye uthe.
Bonnabege mukto koro, rikto kori koro poritran,
Shob low lute.
Tar pore jao jodi jeyo choli, digonto-ongon
Hoye jabe sthir.
Biroher shubhrotay shunne dekha dibe chironton
Shanti sugombhir.
Swocchho anonder majhe mile jabe shorboshesh labh,
Shorboshesh khoti–
Dukkhe sukhe purno hobe orupshundor abirbhab,
Oshrudhouto jyoti.
Ore pantho, kotha tor dinanter jatrashohochori.
Dokkhinopobon
Bohukkhon chole gechhe oronner pollob mormori–
Nikunjobhobon
Gondher inggito diye boshonter utshober poth
Kore na prochar.
Kahare dakish tui, gechhe chole tar shwornoroth
Kon sindhupar.
Jani jani, aponar ontorer gohonobashire
Ajio na chini.
Shondhyarotilogne keno ashile na nibhrito mondire
Shesh pujarini.
Keno sajale na dip, tomar pujar montro-gane
Jagaye dile na
Timirratrir bani, gopone ja lin achhe prane
Diner ochena.
Oshomapto porichoy oshompurno noibedder thali
Nite holo tule.
Rochiya rakhe ni mor preyoshi ki boronero dali
Moroner kule.
Shekhane ki pushpobone git-hina rojonir tara
Nobo jonmo lobhi
Ei nirober bokkhe nobo chhonde chhutabe phowara
Probhati bhoirobi.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • চেনার আলো ও আত্মপরিচয়:
    “দীপখানি তুলে ধ’রে, মুখে চেয়ে, ক্ষণকাল থামি / চিনেছে আমারে। / তারি সেই চাওয়া, সেই চেনার আলোক দিয়ে আমি / চিনি আপনারে।”
    — মানুষ নিজের প্রকৃত রূপ একা আবিষ্কার করতে পারে না; অন্যের ভালোবাসাপূর্ণ দৃষ্টির স্বীকৃতিতেই তার সুপ্ত আত্মপরিচয় মূর্ত হয়। প্রেয়সী যখন প্রদীপ তুলে কবির মুখের পানে চেয়েছে, সেই চেনার আলোতেই কবি নিজের শিল্পীসত্তাকে পূর্ণাঙ্গরূপে উপলব্ধি করেছেন।
  • আহ্বানের মহাজাগতিক প্রাণশক্তি:
    “তব কণ্ঠে মোর নাম যেই শুনি, গান গেয়ে উঠি– / ‘আছি, আমি আছি।’ … তাই তো চাঞ্চল্য জাগে মাটির গভীর অন্ধকারে; / রোমাঞ্চিত তৃণে। / ধরণী ক্রন্দিয়া উঠে, প্রাণস্পন্দ ছুটে চারিধারে”
    — এই ডাক কোনো সাধারণ ডাক নয়। উষা যেমন রাতের আঁধার সরিয়ে বিশ্বচরাচরে প্রাণের প্রাচুর্য এনে দেয়, বীজ যেমন মাটির অন্ধকার চিরে ফুল-ফল হয়ে ফুটে ওঠে, তেমনি এক অলৌকিক আহ্বানে কবির অবচেতন মনের রুদ্ধ কপাট খুলে যায় এবং বাণীর শতদল জেগে ওঠে।
  • কালবৈশাখীর রুদ্র রূপ ও শান্তিময় পরিণতি:
    “মহেন্দ্রের বজ্র হতে কালো চক্ষে বিদ্যুতের আলো / আনো আনো ডাকি– / বর্ষণ-কাঙাল মোর মেঘের অন্তরে বহ্নি জ্বালো / হে কালবৈশাখী। … বিরহের শুভ্রতায় শূন্যে দেখা দিবে চিরন্তন / শান্তি সুগম্ভীর।”
    — জীবনের শেষ পর্যায় এসে কবি আর কোনো মৃদু স্পর্শ চান না; তিনি চান কালবৈশাখীর মতো রুদ্র বিপ্লব—যা অন্তরের সঞ্চিত সমস্ত রুদ্ধ অশ্রু ও সুরকে ঝড়ের বেগে মুক্ত করে দেবে। সমস্ত কিছু ভেঙেচুরে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পরই তো নেমে আসে এক অনাবিল, ধৌত ও শুভ্র নিস্তব্ধতা।
  • মরণের কূলে অসমাপ্তির পূর্ণতা:
    “অসমাপ্ত পরিচয় অসম্পূর্ণ নৈবেদ্যের থালি / নিতে হল তুলে। / রচিয়া রাখে নি মোর প্রেয়সী কি বরণের ডালি / মরণের কূলে।”
    — মর্ত্যের আলোয় যে পরিচয় অসমাপ্ত রয়ে গেল, যে পূজার থালি অসম্পূর্ণ থেকে গেল, কবি বিশ্বাস করেন মৃত্যুর পারে তা সার্থক হবে। রজনীর স্তব্ধ তারা সেখানে নবীন প্রভাতী ভৈরবীর ছন্দে এক অনন্ত আনন্দের ফোয়ারা হয়ে ঝরে পড়বে।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ (অনুলিপির বিবিধ টাইপো যেমন ‘প্রাথর্নায়’-এর স্থলে প্রমিত ‘প্রার্থনায়’ রূপসহ), ছন্দবিন্যাস ও সংকলন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (পূরবী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন