পূরবী কাব্যগ্রন্থের ‘পথ’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পথ’ কবিতাটি তাঁর পূরবী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পূরবী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই কবিতায় ‘পথ’ কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার ভৌত মাধ্যম নয়; বরং সময়, জীবন, ইতিহাস, বিস্মৃতি এবং মানুষের চলমান অস্তিত্বের একটি গভীর প্রতীক।

কবিতার বক্তা নিজেকেই ‘পথ’ হিসেবে কল্পনা করেছেন। সে বহু দেশ ও বহু মানুষের পাশ দিয়ে চলে যায়, কিন্তু কোথাও স্থায়ীভাবে থামে না। মানুষের জীবন, সভ্যতা, উৎসব, শস্যক্ষেত্র, লোকালয়, সুখ-দুঃখ, স্মৃতি ও বিস্মৃতি—সবকিছুর মধ্য দিয়ে পথ এগিয়ে চলে ভবিষ্যতের দিকে।

এই কারণে ‘পথ’ একই সঙ্গে সাক্ষী, বাহক এবং বিস্মৃতির প্রতীক। সে অনেক কিছু বহন করে, আবার কিছুই নিজের জন্য ধরে রাখে না।

কবিতার মৌলিক তথ্য

বিষয়তথ্যতথ্য
কবিতার নামপথ
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থপূরবী
প্রকাশকাল১৯২৫
রচনার ধরনকবিতা
প্রধান বিষয়জীবন, সময়, যাত্রা, ইতিহাস, বিস্মৃতি ও ভবিষ্যৎ
প্রধান প্রতীকপথ, ধূলি, ঘাস, শস্যক্ষেত্র, যাত্রী ও শিশু
ভাষাবাংলা

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, মানবজীবন, সময়, মৃত্যু, আত্মঅনুসন্ধান ও বিশ্বমানবতার নানা দিক প্রকাশ পেয়েছে।

‘পথ’ কবিতায় তিনি একটি জড় বস্তুকে মানবিক কণ্ঠ দিয়েছেন। পথ নিজেই কথা বলে এবং নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানায়। সে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নয়; বরং মানুষের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম।

পথের নিজস্ব কোনো স্থায়ী অধিকার নেই। তার ওপর দিয়ে মানুষ যায়, ইতিহাস তৈরি হয়, আবার সেই ইতিহাসের চিহ্নও ধীরে ধীরে মুছে যায়। তাই কবিতাটিতে চলমানতা ও ক্ষণস্থায়িত্বের পাশাপাশি বিস্মৃতির একটি গভীর অনুভব রয়েছে।

সম্পূর্ণ কবিতা

আমি পথ, দূরে দূরে দেশে দেশে ফিরে ফিরে শেষে

দুয়ার-বাহিরে থামি এসে।

ভিতরেতে গাঁথা চলে নানা সূত্রে রচনার ধারা,

আমি পাই ক্ষণে ক্ষণে তারি ছিন্ন অংশ অর্থহারা,

সেথা হতে লেখে মোর ধূলিপটে দীপরশ্মিরেখা

অসম্পূর্ণ লেখা।

জীবনের সৌধমাঝে কত কক্ষ কত না মহলা,

তলার উপরে কত তলা।

আজন্মবিধবা তারি এক প্রান্তে রয়েছি একাকী,

সবার নিকটে থেকে তবুও অসীম দূরে থাকি,

লক্ষ্য নহি উপলক্ষ, দেশ নহি আমি যে উদ্দেশ—

মোর নাহি শেষ।

উৎসবসভায় যেতে যে পায় আহ্বান-পত্রখানি

তাহারে বহন করে আনি।

সে লিপির খণ্ডগুলি মোর বক্ষে উড়ে এসে পড়ে,

ধুলায় করিয়া লুপ্ত তাদের উড়ায়ে দিই ঝড়ে,

আমি মালা গেঁথে চলি শত শত জীর্ণ শতাব্দীর

বহু বিস্মৃতির।

কেহ যারে নাহি শোনে, সবাই যাহারে বলে “জানি’,

আমি সেই পুরাতন বাণী।

বণিকের পণ্যযান হে তুমি রাজার জয়রথ,

আমি চলিবার পথ, সেই আমি ভুলিবার পথ,

তীব্রদুঃখ মহাদম্ভ চিহ্ন মুছে গিয়েছে সবাই—

কিছু নাই, নাই।

কভু সুখে কভু দুঃখে নিয়ে চলি; সুদিন দুর্দিন

নাহি বুঝি আমি উদাসীন।

বারবার কচি ঘাস কোথা হতে আসে মোর কোলে,

চলে যায়— সেও যায় যে যায় তাহারে দ’লে দ’লে;

বিচিত্রের প্রয়োজনে অবিচিত্র আমি শূন্যময়—

কিছু নাহি রয়।

বসিতে না চাহে কেহ, কাহারো কিছু না সহে দেরি—

কারো নই, তাই সকলেরই।

বামে মোর শস্যক্ষেত্র, দক্ষিণে আমার লোকালয়—

প্রাণ সেথা দুই হস্তে বর্তমান আঁকড়িয়া রয়।

আমি সর্ববন্ধহীন নিত্য চলি তারি মধ্যখানে।

ভবিষ্যের পানে।

তাই আমি চিররিক্ত, কিছু নাহি থাকে মোর পুঁজি—

কিছু নাহি পাই, নাহি খুঁজি।

আমারে ভুলিবে ব’লে যাত্রীদল গান গাহে সুরে—

পারি নে রাখিতে তাহা, সে গান চলিয়া যায় দূরে।

বসন্ত আমার বুকে আসে যবে ধুলায় আকুল

নাহি দেয় ফুল।

পৌঁছিয়া ক্ষতির প্রান্তে বিত্তহীন একদিন শেষে

শয্যা পাতে মোর পাশে এসে।

পান্থের পাথেয় হতে খসে পড়ে যাহা ভাঙাচোরা

ধূলিরে বঞ্চনা করি কাড়িয়া তুলিয়া লয় ওরা;

আমি রিক্ত, ওরা রিক্ত, মোর ‘পরে নাই প্রীতিলেশ—

মোরে করে দ্বেষ।

শুধু শিশু বোঝে মোরে, আমারে সে জানে ছুটি ব’লে—

ঘর ছেড়ে আসে তাই চলে

নিষেধ বা অনুমতি মোর মাঝে না দেয় পাহারা,

আবশ্যকে নাহি রচে বিবিধের বস্তুময় কারা,

বিধাতার মতো শিশু লীলা দিয়ে শূন্য দেয় ভরে—

শিশু বোঝে মোরে।

বিলুপ্তির ধূলি দিয়ে যাহা খুশি সৃষ্টি করে তাই,

এই আছে এই তাহা নাই।

ভিত্তিহীন ঘর বেঁধে আনন্দে কাটায়ে দেয় বেলা,

মূল্য যার কিছু নাই তাই দিয়ে মূল্যহীন খেলা,

ভাঙাগড়া দুই নিয়ে নৃত্য তার অখণ্ড উল্লাসে—

মোরে ভালোবাসে।

Romanized Version

Ami poth, dure dure deshe deshe phire phire sheshe

Duar-bahire thami eshe.

Bhitorete gantha chole nana sutre rochonar dhara,

Ami pai khone khone tari chhinno ongsho orthahara,

Setha hote lekhe mor dhulipote diparashmirekha

Osompurno lekha.

Jiboner soudhomajhe koto kokkho koto na mohola,

Tolar upore koto tola.

Ajonmobidhoba tari ek prante royechi ekaki,

Sobar nikote theke tobuo oshim dure thaki,

Lokkhyo nahi upolokkho, desh nahi ami je uddesh—

Mor nahi shesh.

Utsobsobhay jete je pay ahban-potrokhani

Tahare bohon kore ani.

Se lipir khondoguli mor bokkhe ure eshe pore,

Dhulay koriya lupto tader uraye di jhore,

Ami mala genthe choli shot shot jirno shotabdir

Bohu bismritir.

Keho jare nahi shone, sobai jahare bole “jani’,

Ami sei puraton bani.

Boniker ponnyojan he tumi rajar joyroth,

Ami cholar poth, sei ami bhular poth,

Tibrodhukkho mohadombho chihno muche giyechhe sobai—

Kichhu nai, nai.

Kobhu sukhe kobhu dukkhe niye choli; sudin durdin

Nahi bujhi ami udashin.

Barbar kochi ghash kotha hote ashe mor kole,

Chole jay— seo jay je jay tahare dole dole;

Bichitrer proyojone obichitro ami shunyomoy—

Kichhu nahi roy.

Bosite na chahe keho, kaharo kichhu na sohe deri—

Karo noi, tai sokoler-i.

Bame mor shosshokhetro, dokkhine amar lokaloy—

Pran setha dui hoste bortoman akoriya roy.

Ami sorbobondhonhin nitto choli tari modhykhane.

Bhobishyer pane.

Tai ami chirorikto, kichhu nahi thake mor punji—

Kichhu nahi pai, nahi khuji.

Amare bhulibe bole jatridol gaan gahe sure—

Pari ne rakhite taha, se gaan choliya jay dure.

Bosonto amar buke ashe jobe dhulay akul

Nahi dey phul.

Pounchiya khotir prante bittihin ekdin sheshe

Shoyya pate mor pashe eshe.

Panther patheyo hote khoshe pore jaha bhangachora

Dhulire bonchona kori kariya tuliya loy ora;

Ami rikto, ora rikto, mor ‘pare nai pritilesh—

More kore dwebh.

Shudhu shishu bojhe more, amare se jane chhuti bole—

Ghor chhere ashe tai chole

Nishedh ba onumoti mor majhe na dey pahara,

Aboshyoke nahi roche bibidh-er bostumoy kara,

Bidhatar moto shishu lila diye shunya dey bhore—

Shishu bojhe more.

Biluptir dhuli diye jaha khushi srishti kore tai,

Ei achhe ei taha nai.

Bhittihin ghor bendhe anonde kataye dey bela,

Mullyo jar kichhu nai tai diye mullyohin khela,

Bhangagora dui niye nritya tar okhondo ullashe—

More bhalobashe.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

‘পথ’ একটি প্রতীক

কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলো ‘পথ’। এখানে পথ কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নয়; এটি জীবন ও সময়ের চলমানতার প্রতীক।

“আমি পথ, দূরে দূরে দেশে দেশে ফিরে ফিরে শেষে
দুয়ার-বাহিরে থামি এসে।”

পথ নিজে কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করে না। কিন্তু অসংখ্য মানুষের জীবন, যাত্রা ও ইতিহাস তার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে।

পথের কোনো শেষ নেই

“লক্ষ্য নহি উপলক্ষ, দেশ নহি আমি যে উদ্দেশ—
মোর নাহি শেষ।”

পথ নিজে কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। মানুষ পথ ব্যবহার করে কোনো লক্ষ্যে পৌঁছায়, কিন্তু পথের নিজের কোনো শেষ নেই। এই ভাবনাটি জীবন ও সময়ের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

মানুষের জীবন সীমিত, কিন্তু সময় ও চলমানতার প্রবাহ অব্যাহত।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

পথের ওপর দিয়ে রাজা, বণিক, সাধারণ মানুষ, যাত্রী—সবাই চলেছে। তাদের সাফল্য, দুঃখ, অহংকার ও ক্ষমতার চিহ্ন একসময় মুছে যায়।

“তীব্রদুঃখ মহাদম্ভ চিহ্ন মুছে গিয়েছে সবাই—
কিছু নাই, নাই।”

এখানে পথ ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। সে সবকিছু দেখেছে, কিন্তু নিজের কাছে কিছু জমিয়ে রাখেনি।

বিস্মৃতি ও ধূলি

কবিতায় ‘ধূলি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মানুষের স্মৃতি, পরিচয় ও ইতিহাসের স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ধূলির সঙ্গে মিশে যায়।

“আমি মালা গেঁথে চলি শত শত জীর্ণ শতাব্দীর
বহু বিস্মৃতির।”

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এসেছে ও চলে গেছে। পথ তাদের পদচিহ্ন ধারণ করেছে, কিন্তু সেই চিহ্নও একসময় মুছে গেছে।

পথের চিররিক্ততা

“তাই আমি চিররিক্ত, কিছু নাহি থাকে মোর পুঁজি—
কিছু নাহি পাই, নাহি খুঁজি।”

পথ মানুষের জন্য সবকিছু বহন করলেও নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করে না। এই চিররিক্ততা পথের অস্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

মানুষ যেখানে অর্জন, সম্পদ ও স্মৃতি জমাতে চায়, পথ সেখানে সবকিছু অতিক্রম করে সামনে চলে যায়।

শস্যক্ষেত্র ও লোকালয়ের মাঝখানে

“বামে মোর শস্যক্ষেত্র, দক্ষিণে আমার লোকালয়—
প্রাণ সেথা দুই হস্তে বর্তমান আঁকড়িয়া রয়।”

পথ মানুষের জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—প্রকৃতি ও সমাজ—এর মাঝখানে অবস্থান করে। একদিকে কৃষিজীবন, অন্যদিকে মানুষের বসতি; আর তাদের সংযোগ ঘটিয়ে পথ এগিয়ে চলে।

শিশুর সঙ্গে পথের সম্পর্ক

কবিতার শেষাংশে এসে পথের সঙ্গে শিশুর একটি বিশেষ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

“শুধু শিশু বোঝে মোরে, আমারে সে জানে ছুটি ব’লে—
ঘর ছেড়ে আসে তাই চলে।”

শিশুর কাছে পথ হলো মুক্তির জায়গা। সেখানে কোনো কঠোর নিয়ম, সামাজিক বাধা বা স্থিরতার চাপ নেই। শিশু পথের শূন্যতাকে নিজের কল্পনা দিয়ে পূর্ণ করতে পারে।

“বিধাতার মতো শিশু লীলা দিয়ে শূন্য দেয় ভরে—
শিশু বোঝে মোরে।”

এখানে শিশুর সৃজনশীলতা ও স্বাধীন কল্পনার সঙ্গে পথের অসীম সম্ভাবনার মিল ঘটেছে।

ভাঙাগড়া ও সৃষ্টির আনন্দ

শেষ পঙ্‌ক্তিগুলোতে কবিতাটি একটি গভীর জীবনদর্শনে পৌঁছে যায়—

“ভাঙাগড়া দুই নিয়ে নৃত্য তার অখণ্ড উল্লাসে—
মোরে ভালোবাসে।”

শিশু পথের ওপর ভাঙে, গড়ে, কল্পনা করে এবং খেলে। তার কাছে স্থায়ী মূল্য নয়, সৃষ্টির আনন্দই মুখ্য। ফলে পথ ও শিশুর মধ্যে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হয়—উভয়েই মুক্ত, চলমান এবং সৃষ্টিশীল।

কবিতাটির দার্শনিক তাৎপর্য

‘পথ’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ চলমান জীবন ও স্থায়ী অর্জনের ধারণার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরেছেন। মানুষ কোনো কিছু অর্জন করতে পথে নামে, কিন্তু পথ নিজে কোনো অর্জনের দাবি করে না।

পথ মানুষের ইতিহাস বহন করে, কিন্তু ইতিহাসের মালিক হয় না। সে রাজা ও বণিকের রথ বহন করে, আবার সাধারণ মানুষের পদচিহ্নও বহন করে। তার কাছে সকলেই ক্ষণিকের যাত্রী।

এই কারণে পথ একই সঙ্গে সময়, ইতিহাস, বিস্মৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে ওঠে।

কবিতার শেষাংশে শিশুর উপস্থিতি এই দর্শনকে অন্য মাত্রা দেয়। শিশু পথকে গন্তব্য হিসেবে নয়, মুক্তির ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। সে শূন্যতার মধ্যে নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করে। তাই কবিতার শেষ পর্যন্ত ‘পথ’ শুধু মানুষের যাত্রার প্রতীক থাকে না; এটি স্বাধীনতা, সৃষ্টিশীলতা এবং অনন্ত সম্ভাবনারও প্রতীক হয়ে ওঠে।

সংক্ষেপে

‘পথ’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পথকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে কল্পনা করে মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সময়ের এক বিস্তৃত রূপক নির্মাণ করেছেন।

পথ নিজে কোনো গন্তব্য নয়, কিন্তু অসংখ্য গন্তব্যের দিকে মানুষকে বহন করে। তার ওপর দিয়ে রাজা, বণিক, সাধারণ মানুষ ও শিশু—সবাই চলে যায়। তাদের চিহ্নও একসময় ধূলিতে মিশে যায়।

তবু পথ থামে না। সে শস্যক্ষেত্র ও লোকালয়ের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলে।

আর শিশুর কাছে এই পথ হয়ে ওঠে মুক্তির স্থান—যেখানে শূন্যতার মধ্যেও কল্পনা দিয়ে নতুন জগৎ তৈরি করা যায়। এইভাবেই ‘পথ’ কবিতাটি জীবন, সময়, ইতিহাস, বিস্মৃতি এবং সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার একটি গভীর প্রতীকী কবিতায় পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন