কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | বিস্মরণ |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পূরবী |
| প্রকাশের বছর | ১৯২৫ (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | দার্শনিক ও সান্ত্বনাময় লিরিক কবিতা (Philosophical / Elegiac Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের এক বিশেষ রোমান্টিক ও পরিণত ভাবনার ফসল। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে তারুণ্যের উৎসাহের চেয়ে জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, বিশ্বপ্রকৃতির নবায়ন এবং সময়ের গতিকে মেনে নেওয়ার এক পরিপক্ব দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। ‘বিস্মরণ’ কবিতায় কবি অতীতের কোনো এক প্রিয়জনের দেওয়া শুকিয়ে যাওয়া ফুলের উদাহরণের মাধ্যমে এক শাশ্বত সত্য তুলে ধরেছেন। অতীতে যে ফুল কানের কাছে দুল বলে গিয়েছিল কিংবা যার খেলা ছিল ক্ষণকালের, তা শুকিয়ে গেলে তাকে যত্ন করে সাজিয়ে রেখে কান্নার কোনো মানে হয় না। বরং माঘের শেষে নাগকেশরের ফুলে যখন আকাশ ও বনভূমি নতুন প্রাণের আমেজে দুলে ওঠে, তখন সেই পুরনো শুকনো ফুলের স্মৃতিকে মুছে ফেলে জীবনের বর্তমান উৎসবকে বরণ করে নেওয়া উচিত। প্রকৃতির নিয়মেই পুরোনো ধূলি ও বিস্মরণের কোলেই তো নতুন কুসুম ফুটে ওঠে—এই গভীর সান্ত্বনা ও জীবনবোধই কবিতার মূল প্রাণ।
বিস্মরণ কবিতা (সম্পূর্ণ)
সে ফুল যদি শুকিয়ে গিয়ে থাকে
তবে তারে সাজিয়ে রাখাই ভুল —
মিথ্যে কেন কাঁদিয়ে রাখ তাকে।
ধুলায় তারি শান্তি তারি গতি,
এই সমাদর কোরো তাহার প্রতি —
সময় যখন গেছে তখন তারে
ভুলো একেবারে।
মাঘের শেষে নাগকেশরের ফুলে
আকাশে বয় মন-হারানো হাওয়া;
বনের বক্ষ উঠেছে আজ দুলে,
চামেলি ওই কার যেন পথ-চাওয়া।
ছায়ায় ছায়ায় কাদের কানাকানি,
চোখে-চোখে নীরব জানাজানি —
এ উৎসবে শুকনো ফুলের লাজ
ঘুচিয়ে দিয়ো আজ।
যদি-বা তার ফুরিয়ে থাকে বেলা,
মনে জেনো দুঃখ তাহে নাই;
করেছিল ক্ষণকালের খেলা,
পেয়েছিল ক্ষণকালের ঠাঁই।
অলকে সে কানের কাছে দুলি
বলেছিল নীরব কথাগুলি,
গন্ধ তাহার ফিরেছে পথ ভুলে
তোমার এলোচুলে।
সেই মাধুরী আজ কি হবে ফাঁকি।
লুকিয়ে সে কি রয় নি কোনোখানে।
কাহিনী তার থাকবে না আর বাকি
কোনো স্বপ্নে, কোনো গন্ধে গানে?
আরেক দিনের বনচ্ছায়ায় লিখা
ফিরবে না কি তাহার মরীচিকা।
অশ্রুতে তার আভাস দিবে নাকি
আরেক দিনের আঁখি।
নাহয় তাও লুপ্ত যদিই হয়,
তার লাগি শোক সেও তো সেই পথে।
এ জগতে সদাই ঘটে ক্ষয়,
ক্ষতি তবু হয় না কোনোমতে।
শুকিয়ে-পড়া পুষ্পদলের ধূলি
এ ধরণী যায় যদি বা ভুলি —
সেই ধুলারই বিস্মরণের কোলে
নতুন কুসুম দোলে।
বিস্মরণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- অতীতের শোক ও বিস্মরণের সান্ত্বনা: জীবনের পথ চলতে গিয়ে পুরোনো সম্পর্কের বা স্মৃতির ফুল যখন শুকিয়ে যায়, তখন তাকে আঁকড়ে ধরে শোক না করে বিস্মরণের চাদরে ঢেকে দেওয়াটাই প্রকৃতির নিয়ম।
- নতুন জীবনের আগমন: পুরোনো ধূলি ও বিস্মৃতির কোলেই যেমন নতুন ফুল ফোটে, তেমনই জীবনের সমস্ত ক্ষয় ও ক্ষতির মধ্যেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে থাকে—এই আশাবাদী ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিই কবিতার মূল বার্তা।
উৎস:
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (পূরবী কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।




![পূরবী কাব্যগ্রন্থের 'বিস্মরণ' কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 বিস্মরণ bismoron [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/বিস্মরণ-bismoron-কবিতা--1024x536.gif)

![আশা asha [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 আশা asha [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/আশা-asha-কবিতা--1024x536.gif)
![বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল , প্রকৃতি পর্যায়, ৫৭ | রবীন্দ্রসঙ্গীত বাদল দিনের প্রথম ফুল [ গীতবিতান / প্রকৃতি পর্যায় / ৫৭ ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/02/badol-diner-ful-1024x576.jpg)
![বিবসনা bibasana [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিবসনা bibasana [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/বিবসনা-bibasana-কবিতা--1024x536.gif)
